somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারিবারিক কলহ এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের সমাজে যত অপরাধ সংগঠিত হয় তার একটা বড় অংশই পারিবারিক সহিংসতা। যার মূলে পরিবারের সদস্যরাই প্রধানত দায়ী। একজন জেনে বুঝে অথবা না জেনেও কোন অন্যায় আচরণ করতে পারেণ। তার প্রতিবাদে তার স্বজনেরা কি আচরণ করছে তার উপরে নির্ভর পরবর্তী অন্যায়ের ধারাবাহিকতা।
এ ক্ষেত্রে স্বজনেরা দু ধরনের কাজ করে থাকেন এক তাকে বোঝানো বা কাউন্সিলিং। দুই তার ঠিক উল্টোটা অর্থাৎ তাকে বোঝানোর পরিবর্তে উস্কে দেয়া বা তাকে অত্যধিক স্নেহে আগলে রাখার চেষ্টা করা। প্রকারান্তরে যা ঐ অন্যায় আচরনকেই বৈধতা দেয়।
স্বজনেরা যদি প্রথম কাজটি করত তাহলে সে হয়ত নিজের ভুল বুঝতে সক্ষম হত। পরবর্তীতে আর একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাত না।
কিন্তু তারা যদি দ্বিতীয় কাজটি করেণ তাহলে ঐ অন্যায়ের মাত্রা ক্রমশই বাড়বে এবং পরিবারটি তখন নরক গুলযার হয়ে উঠবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একটি শিশু কোন অপরাধ করায় তার বাবা যদি তাকে একটি ধমক দেণ। তখন তার মায়ের দায়িত্ব শিশুটিকে বোঝানো। তার ভুল এবং এর পরিণতি এবং সর্বোপরি বাবা যে তার শত্রু নয় বরং তাকে শোধরানোর জন্যই ধমকটি দিয়েছেণ এটা শিশুটিকে বোঝানো। তাতে ঐ শিশু একই ভুল আর পরবর্তীতে করবে না।
পক্ষান্তরে সেই মা যদি তখন শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদরে আদরে ভড়িয়ে দেয়। যদি বাবার সাথেই বিবাদে লিপ্ত হয় তখন এই শিশুর অপরাধের মাত্রা বাড়বে বৈ কমবে না।

একজন মানুষ যখন অনবরত অন্যায় আচরণ করতে থাকে তখন তার প্রতিপক্ষ হয় সাথে সাথে উল্টো অপরাধ করে বসবে। নয়ত তার স্বজনদের কাছে এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবে। যখন সে সেই সাহায্য কামনা করেন তখন তার স্বজনদের উপর দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়।
স্বজনদের তখন উচিৎ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা এবং উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ করে সুপথ বাতলে দেয়া।
দুর্ভাগ্যজনক সত্য হল আমরা সেই কাজটি করতে ব্যর্থ হই। আমরা নিজেদের পক্ষ অবলম্বন করে সুবিধা অনুযায়ী একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেই।

নির্মম নির্যাতনে যেমন উর্বর আবাদি ভূমিও এক সময় রুক্ষ - নির্মম উপত্যকায় পরিণত হয় ঠিক তেমনি সমাজ সংসার যখন ব্যক্তি বিশেষের উপর কোন কিছু অন্যায় ভাবে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তখন তারও আবেগ-বিবেক ক্রমশ ক্ষয় হতে হতে সেও এক সময় ঐ বনভূমির মতই রুক্ষ - নির্মম হয়ে ওঠে।
একসময়ের হাসি খুশি প্রাণবন্ত নিপট ভদ্র লোকটাও তখন হিংস্র - উন্মাদের ন্যায় আচরণ করতে শুরু করে।
তখন আমরা তাকে ঘৃণা করতে পারি, তাকে অভিশাপ দিতে পারি। এমনকি শাস্তিও দিতে পারি। কিন্তু সেটা তার প্রাপ্য ছিল কিনা সেটা ভেবে দেখার মত সুস্থ মানুষ হতে পারি না। এ কারণেই ভেঙ্গে যাচ্ছে সংসার। একারণেই নিত্য এ সমাজের গায়ে বড় বড় ক্ষত তৈরি হচ্ছে।
সে ভয়ঙ্কর ক্ষত দেখে আমরা আঁতকে উঠছি সত্য কিন্তু নিজেদের ভুলগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করছি না।

কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম নেয় না। অপরাধ কারো নেশা নয় (ব্যক্তি বিশেষের কথা আলাদা)। সাধারণত মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে প্রতিকুল পরিবেশের কারণে। বেশীরভাগ সময়ে সে পরিবেশ তার কাছের মানুষেরাই তৈরি করে দেয়। এর বাইরেও আছে সমাজ এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা।
কখনো কখনো সমাজ তার সাথে অসহযোগিতা করে। আবার রাষ্ট্রও যে আইন তৈরি করে তাও অনেক সময় হয়ে যায় একপেশে। তখন পরিবারে, সমাজে দ্বন্দ্ব সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
প্রতিটি মানুষের লক্ষ একটাই, আর তা হল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। এটা পেতে হলে যে অপরাধী হয়ে উঠতে হবে তা তো নয়। সেটা সবাই বোঝে তারপরেও কেন সে অপরাধী হয়ে উঠে। কেন সে অসুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেয় এটা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। গেল গেল বলে রব তুলে লাভ নেই। সমস্যার মুলে যাবার চেষ্টা করুন দৃষ্টি প্রসারিত করুন। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করুন।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×