somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মহা সৌভাগ্যবান চালক গন!

০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বাংলাদেশে একটি মাত্র উপায়ে ঘটিত হত্যাকাণ্ড সর্বদাই বৈধ। যা নিয়ে কখনোই কেউ উচ্চকিত হন না। আর সেটা হল সড়ক দুর্ঘটনার নামে চালানো হত্যাকাণ্ড। সম্ভবত দেশে প্রতিদিনের স্বাভাবিক মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে যাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার।
সমস্যা নেই, আমরা ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছি!
আমাদের দেশে ঘোষিত অপরাধীকে বিনা বিচারে হত্যা রোধে মানুষ উচ্চকিত হন। আমাদের দেশে বন বাঁচাতে মানুষ উচ্চকিত হন।
বাঘ বাঁচাতে কিংবা অতিথি হাতি বাঁচাতে মানুষের কান্নার রোল পরে।
অতিথি পাখী বাচাতেও আমরা যথেষ্ট সচেতন।
কেবল মাত্র গাড়ী চালক গন যখন কোটি প্রাণকে নিয়ে নিত্য ছিনিমিনি খেলে। যখন প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল দেখি দেশ জুড়ে। আমরা তখনই কেবল ভাগ্যের উপরে দায় চাপাই। তখন সব দায় নিয়তির। কেবল তখনই আমরা মনে করি মৃত্যু তো অবধারিত। যার যখন যেভাবে মৃত্যু নির্ধারিত তার সেভাবেই মৃত্যু হবে। আমাদের দেশের মত এমন সৌভাগ্যবান চালক পৃথিবীর আর কোন দেশে কি আছে?
তারা হত্যা করবেন কিন্তু তাদেরকে হত্যাকারী বলা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে কদাচিৎ কোন মামলা হলেও তারা বায়বীয় হয়ে যান তাদের ধরা যায় না। যদিওবা কখনো ধরা পরেই যান তাদের নামকাওয়াস্তে সাজা হয়। কখনো কখনো সাজাই ভোগ করতে হয় না।
যে যায় সে যায়। যে ক্ষত সে রেখে যায় তা দেখার কেউ নেই। সাজানো গোছানো একেকটি পরিবার মুহূর্তে পথে নেমে আসে এটা যেন কোন ব্যাপারই না! আর যে মৃতপ্রায় হয়ে বেঁচে থাকেন?
পরিবারের একমাত্র সক্ষম ব্যক্তিটিই তখন হয়ে পরেন পরিবারের বোঝা! চোখ বুঝে নিজেকে সেখানে নিয়ে গিয়ে ভাবুন তো কতটা দুর্বিষহ হতে পারে সে জীবন। আমরা এখনো রুখে দাঁড়াচ্ছি না। কেন দাঁড়াচ্ছি না ? কেন প্রত্যেকটি দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ী চালক এবং গাড়ীর মালিকদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কদিন আগে এনা'র একটি গাড়ী দুর্ঘটনা কবলিত হল আক্রান্ত মাইক্রো বাসটির একটি তাৎক্ষনিক ভিডিও ফেস বুকে কে বা কারা পোষ্ট করেছিল সেই বীভৎস ভিডিও দেখে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আমি নিজেও পুরোটা দেখতে পারিনি। এভাবে যদি প্রতিটি দুর্ঘটনার ভিডিও চিত্র জনসম্মুখে চলে আসত তাহলে হয়ত আমরা বুঝতে পারতাম প্রতিদিন রাস্তায় কি পরিমাণ মানুষকে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়। সে দৃশ্যও কতটা ভয়াবহ। যারা ঢাকা ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করেন তারা ভাল করেই জানেন এনা গাড়িগুলো কতটা বাজে ভাবে চালানো হয়। ঐ গাড়ী দেখলেই আত্ম রক্ষার্থে সবাই জায়গা করে দেয়। আমাদের প্রশাসন দেখে না!
উত্তর বেঙ্গলে আছে ন্যাশনাল, হানিফ এরা যেন মানুষ মারতেই রাস্তায় নামে। এভাবে দেশের প্রতিটি রুটেই দু একটি পরিবহন কোম্পানি আছে যারা এতটাই বেপরোয়া যে, অন্য সব গন পরিবহন রাস্তায় তাদের জায়গা করে দিতে পারলেই বাঁচে। প্রশাসন নীরব! এর বাইরে আছে মটর সাইকেলের দৌরাত্ব্য। কি হাইওয়ে, কি জনপদ এদের অত্যাচারে মাঝে মাঝে রাস্তার ফুটপাতে হাটাও দায়। অনেক সময়ই এদের কারণে হাইওয়েতে দ্রুত যান গুলি দুর্ঘটনার কবলে পরে। এ ছাড়াও হাইওয়েতে রয়েছে স্বল্পগতির অজস্র বাহন। এর বিরুদ্ধে আইন রয়েছে অথচ প্রশাসন নীরব।
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে গাড়ী চালকদের রক্ষার জন্য আছে অনেক গুলি সংগঠন যাত্রীদের রক্ষার্থে আছে কেবল ফাকাবুলি। আর সে কারণেই নির্বিচারে মারা পড়ছে মানুষ। দেখার কেউ যেন নেই। এমনকি আমরা নিজেরাও নিজেদের রক্ষার্থে সোচ্চার নই। আমাদের বাঁচাবে কে?

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:২৩
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরীচিকা

লিখেছেন সামিয়া, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২৮


তোমার চোখে আমি প্রতিবার দেখি ঝড়ের ঘূর্ণি। সেই ঘূর্ণির ভেতরে জমে থাকে এমন এক শঙ্কা, যার কাছে পৌঁছাতে গেলেই আমার নিজের বুকের ভেতরটাও কেমন অস্থির হয়ে ওঠে। তবু আমি প্রতিদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×