somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষাই যখন অভিশপ্ত

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি অভিশপ্ত নন অভিশপ্ত আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা!
কি বিশ্বাস হচ্ছে না?
ধরুন আপনি স্বল্প শিক্ষিত। আপনি একটি গার্মেন্টস কারখানায় সহজেই চাকুরী নিতে পারবেন। ৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন।
আপনি চাইলেই একটি কারখানার শ্রমিক হতে পারেন, হতে পারেন মটর শ্রমিক কিংবা ছোট পুঁজির ব্যবসায়ী। আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার মাসিক আয় ৮০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা হবে। সেই সাথে আপনি পাবেন সরকারী বেসরকারি নানা সহমর্মিতা এবং সহযোগিতা। আপনার থাকবে ইউনিয়নের অভিভাবকত্ব।
আর আপনি যদি হন শিক্ষিত বেকার। চাকুরী পাচ্ছেন না। কি করবেন? আপনার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না প্রি স্টেজের কোন কাজ করা। অথবা শ্রমিকের পেশা বেছে নেয়া। কারণ আমাদের সমাজব্যবস্থা আপনাকে অতটা উদার করে গড়ে তোলেনি। সমাজ নিজেও একেবারেই অনুদার।
আপনাকে খুঁজতে হবে মানসম্পন্ন চাকুরী। আর কিছু না হোক অন্তত বিয়েটা তো করতে হবে!
এর জন্য মূলত দায়ী আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখানে অফিস কেরানীর যোগ্য করেই কেবল শিক্ষিত করে তোলা হয়। বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে না পারলে যে, এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করে বেকার হয়েই থাকবে সেটা আমরা সবাই জানি। তারপরেও আমরা এই কেরানীর যোগ্যতা সম্পন্ন করেই গড়ে তুলছি প্রজন্মের পর প্রজন্ম। একই সাথে যদি অন্তত এদের উদার মানসিকতা সম্পন্ন করেও গড়ে তুলতে পারতাম তাহলেও হয়ত দেখা যেত শিক্ষিত গাড়ী চালক, শিক্ষিত চাষি, শিক্ষিত উদ্যোক্তা। যা শুধু শিক্ষিত বেকারের অপবাদই ঘোচাত না একই সাথে দেশের অর্থনীতিও নতুন গতি লাভ করত। আমরা সেটাও করছি না। তৈরি করে রেখেছি অভিশপ্ত এক শিক্ষা ব্যবস্থা।
উন্নত কাজের সুযোগ না পাওয়ায় একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেন বা বাংলা মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ হবে দেখে আবেদন করলেন। তাঁরা আপনাকে চাকুরীটা দিলেন। বেতন ধার্য করলেন ২৫০০টাকা।
আপনি যখন বেতনের অংক শুনে আশ্চর্য হলেন তখন তাঁরা আবার আপনাকে আশ্বস্ত করছেন এই বলে যে, আপনার ছাত্র দেরদেরই আপনি বাসায় বা কোচিং করিয়ে ১০ থেকে ২০হাজার টাকা সহজেই আয় করতে পারবেন!
উল্লেখ্য যে এসব স্কুলের বেতন কাঠামোই ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। তার কারণ হচ্ছে স্কুলের জন্য নেয়া বাড়ি ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করে মাস শেষে যে অংকটা দাড়ায় তা কিন্তু ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুভার। যার দায় শোধ করার পর শিক্ষকদের জন্য ভাল বেতন নির্ধারণ করা সত্যিই কঠিন। এমনকি অসম্ভবও। কেননা এদের আয়ের একমাত্র উৎস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া বেতন। কাজেই শিক্ষার্থীর সংখ্যার উপর নির্ভর কর মোট আয়ের পরিমাণ। ফলে এরা ভাল শিক্ষকও পায় না আর শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করেও তুলতে পারেন না।
এভাবে পাড়ায় মহল্লায় অজস্র মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি না করে যদি মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেত তাহলে এসব বেসরকারি শিক্ষকদেরও এমন দুর্দশায় পরতে হত না। আর শিক্ষার্থীদেরও মানহীন শিক্ষায় শৈশব অতিবাহিত করতে হত না।

ঠিক একই ভাবে আপনি যদি একটি পণ্য বিপণনের পেশা বেঁছে নিতে চান আপনার বেতন ধার্য করা হচ্ছে ৫০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা। সেখানে আপনার কাজের এলাকা দেয়া হবে এমন ভাবে যাতে আপনাকে বাসা ভাড়া করে অথবা মেস ভাড়া করে থাকতে হবে, সব খরচ বাদে তাঁর হাতে কত থাকবে?
এই ছেলেগুলো বাচার জন্যে কোম্পানির পণ্য ছাড়াও ভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করে বিষয়টা যে অনৈতিক সেটা সে নিজেও জানে। কিন্তু করবে টা কি?
যারা এই স্বল্প বেতন ধার্য করছেন সব সময়ই যে তাঁরা সেটা ইচ্ছে করে করছেন তা নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের চাহিদা এবং বিক্রয়ের পরিমাণের উপর কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট এন্টারপ্রেনারদের উচিৎ প্রোডাক্ট রেঞ্জ বাড়ানো। যখন একই বিক্রয় প্রতিনিধি একই ধরনের একাধিক পণ্য নিয়ে কাজের সুযোগ পায় একদিকে যেমন তা তার মোট বিক্রির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানও বাড়তি মুনাফা লাভ করতে পারে। যেখান থেকে এন্টারপ্রেনার তাঁর কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিতে পারেন। একজন মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে একটি উন্নত জীবন লাভের আশায়। তাঁর কর্মঘন্টার সর্বোচ্চ ব্যবহারটা যাতে সে করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করাই একজন এন্টারপ্রেনারের দক্ষতার পরিচয়।
একজন এন্টারপ্রেনারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব কর্মচারীদের কাজের সুযোগ করে দেয়া। আর একজন কর্মচারীর প্রধান দায়িত্ব সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করা। যদি উভয় পক্ষ সঠিক পন্থা অবলম্বন করে তাহলে আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবকাশ থাকে না। একটু তলিয়ে দেখতে গেলে দেখব এখানেও সেই শিক্ষার গলদ। একজন মানুষ মাধ্যমিকের পরেই বিভিন্ন কারণে একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন আবার একজন কর্মচারীও। এটা যদি আমাদের মাথায় থাকত তাহলে বিষয়গুলি স্নাতকের পরে নয় অল্প বিস্তর মাধ্যমিকেও পড়াতাম। এবং মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক সব পর্যায়েই বিষয়টিকে পাঠ্য ভুক্ত করে নিতাম। শিক্ষা ব্যবস্থাটা আর অভিশপ্ত হয়ে থাকত না।
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×