
এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার যে হারে বাড়ছে সে হারে বাড়ছে দুর্ঘটনা। প্রায়শই খবরের কাগজে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং দগ্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এর প্রতিকারে প্রয়োজন সাবধানতা অবলম্বন এবং সচেতনতা।
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে নানা কাড়নে তবে এর প্রতিকারের প্রধান উপায় হতে পারে সাবধানতা অবলম্বন এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা।
সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ছাড়াও এলপিজি গ্যাস মানুষের শরীরে নানাবিধ বিপত্তি ঘটাতে পারে। যদি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক করে আর তা নিশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে তাহলে তা আমাদের অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের অদলবদল প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে মাথা ঝিম ঝিম করা থেকে শুরু করে জ্ঞান হারানোর মত ঘটনা ঘটতে পারে।
কাজেই যারা সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন তারা ভালভাবে পরীক্ষা করে দেখুন হোশ পাইপ,রেগুলেটর,গ্যাস ভাল্ব ইত্যাদি থেকে গ্যাস লিক করছে কিনা।
আমরা জানি প্রাকৃতিক গ্যাসকে প্রচণ্ড চাপে তরল করে সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয় তাই যখন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় তখন সে বিস্ফোরণটিও হয় মারাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তাতে আশেপাশে থাকা লোকদের অনেক দূরে ছিটকে ফেলতে পারে। এর বিস্ফোরণ হলে শক ওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে। এ শক ওয়েভ শরীরের যে অংশে লাগে সে অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। ফুসফুসে রক্ত জমা হতে পারে; সম্পূর্ণ ফুসফুস ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে।
সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এড়াতে যা করবেন
সিলিন্ডারের গ্যাস খুব বাজে গন্ধযুক্ত। লিক হলে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাই এমন উৎকট গন্ধ পেলে-
*আগুন জ্বালাবেন না।
*বাসার বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দিন।
*ঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস যাতায়াতের ব্যবস্থা করুন।
*সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন। সেফটি ক্যাপ লাগান।
সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আক্রান্তদের প্রথমেই বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে বা খোলা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
সিলিন্ডারের গ্যাস শরীরের কোথাও লেগে গেলে আক্রান্ত স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পানি ঢালুন।
সিলিন্ডারের গ্যাস চোখে লেগে গেলে পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
শরীরে আগুন লাগলে দ্রুত কাপড় খুলে ফেলুন। মাটিতে গড়াগড়ি দিন।
পুড়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।
শরীরে ফোস্কা পরলে তা তুলে না ফেলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান ।
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ রোধে করণীয়
বিস্ফোরক পরিদফতরের মতে আমদানি এবং দেশে তৈরি করা এলপি গ্যাস ও গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সবই মানসম্মত। বাসা-বাড়িতে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার।
অতএব আমরা বুঝতে পারি, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহারে ব্যবহারকারীদের সতর্কতা ও অধিকতর সচেতনতাই পারে এলপি গ্যাস বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে।
সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের যা মেনে চলা উচিত:
১। গ্যাস এজেন্টদের থেকে গ্যাস নেওয়ার সময় অবশ্যই গ্যাস সিলিন্ডারের এক্সপায়ারি ডেট দেখে নিন। গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ ও রেগুলেটর নিয়মিত চেক করুন।
২। গ্যাস সিলিন্ডার সোজা করে সঠিকভাবে স্থাপন করুন। উঁচু-নিচু জায়গায় রাখবেন না। গ্যাস সিলিন্ডার কখনওই ফেলা বা টানা-টানি করা উচিত নয়।
৩। রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখুন। গ্যাস ব্যবহার করার সময় জানালা খুলে রাখুন। গ্যাসের পাশে প্লাস্টিক বা দাহ্য জিনিসপত্র রাখবেন না।
৪। গ্যাসের পাইপ সময় সময় পালটানো দরকার। জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করবেন না। পাইপ ফেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে ফেলুন।
৫। গ্যাস বদল করার সময় রেগুলেটরটি ঠিক করে লাগানো হয়েছে কিনা দেখে নিন।
৬। বাড়িতে অতিরিক্ত ভর্তি সিলিন্ডার থাকলে তা কখনই ঘরের মধ্যে রাখবেন না, খোলামেলা জায়গায় ছায়া যুক্ত স্থানে রাখুন।
৭। অনেকেই বাড়িতে বড় গ্যাস থেকে ছোটো গ্যাস ভর্তি করেন। এমনটা বাড়িতে করা একেবারেই উচিত নয়। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
৮। গ্যাস লিক থেকেই সমস্যার শুরু তাই সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
৯। গ্যাস লিক করছে কিনা তা বোঝার সহজ উপায় হল; পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। এবার সেই ফেনা হস পাইপ,রেগুলেটর,ভাল্ব ইত্যাদিতে লাগান। গ্যাস লিক করলে সাবান-পানির ফোঁটা বড় হবে। গ্যাস লিক করছে বুঝতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
১০। সিলিন্ডার উচ্চ চাপ ও তাপের এলাকায় রাখবেন না। চুলোয় রান্না বসিয়ে অন্য কাজে যাবেন না। এতে খাবারে আগুন ধরে যেতে পারে যা থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে পারে।
১১। রান্না করার সময় শরীরের কাপড়ের দিকে খেয়াল রাখুন। সুতির কাপড় ব্যবহার করুন।
সতর্কতা আর সচেতনতাই আমাদের সবথেকে বড় রক্ষাকবচ। আসুন আমরা সচেতন হই এবং দুর্ঘটনা এড়াই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

