somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যাট ভাবনা

০১ লা নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অর্থ মন্ত্রণালয় কি এ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পেরেছে যে আসলে তারা পণ্য মূল্যের উপর কত ভাগ কর আরোপ করতে চায়?
যদি পারত তাহলে তো ভ্যাট এর নামে ঘাটে ঘাটে এমন চাপ সৃষ্টির দরকার হত না। তারা জানেই না যে একটি পণ্যের উপর কত ভাগ কর আরোপ করা সঙ্গত। আর সেটার বাস্তাবায়নইবা কিভাবে করা উচিৎ।

একজন ক্রেতার লক্ষ তার চাহিদা পণ্যটি কার কাছ থেকে কতটা কম দামে পাওয়া যায়। সে লক্ষে সে অনলাইন অফলাইন, পাইকারি খুচরা সব মার্কেটে ঘুরে বেড়ায়।
ধরুন একজন ক্রেতা একটি পণ্য পাইকারি বাজার থেকে ক্রয় করলেন। বিক্রেতা তার কাছ থেকে পণ্য মূল্যের পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত কর আদায় করে পণ্যটি বিক্রি করলেন।
ঐ একই পাইকারি মার্কেট থেকে যখন একজন খুচরা বিক্রেতা একই পণ্য ক্রয় করবেন তাকেও সরকারী কর সমেত পন্য মূল্য পরিশোধ করতে হল। এখন এই খুচরা বিক্রেতা যখন ঐ কর শোধ করা পণ্যটি একজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে যাবেন তখন তাকে নতুন করে পণ্যটির উপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে পণ্যটি বিক্রি করতে হবে। তাহলে এবারের ক্রেতাকে আগের ক্রেতার থেকে দ্বিগুণ কর শোধ করতে হবে। প্রশ্ন হল সে কেন এই দ্বিগুণ কর পরিশোধ করবে?
একই মার্কেটে পাইকারি এবং খুচরা বিক্রেতা থাকে। পণ্য যতবার হাত বদল হবে ততবার যদি কর পরিশোধ করতে হয় তাহলে দোকান ভেদে পণ্য মূল্য বেড়ে যাবে। তাহলে খুচরা বিক্রেতাদের বিকিকিনি বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে লাভটা কার হবে?
সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীক স্বার্থে পাইকারি এবং খুচরা বিক্রেতারা এমন পন্থা বেছে নিতে বাধ্য হবে যাতে এই করের আওতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেটা নৈতিক উপায়ে হোক কিংবা অনৈতিক। রাস্তা তাদের খুঁজে বেড় করতেই হবে। অন্যথায় খুচরা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা ছেরে দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় চুরি ছিনতাই করে বেড়াবে।

আমাদের দেশে পাইকারি এবং খুচরা এই দুই শ্রেণীর মাঝে আরও এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী আছে যারা পূর্বোক্ত দুই শ্রেণীর মাঝে অনেকটা সেতু বন্ধনের মত কাজ করে। এরাও বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সরকার এদেরকেই বা কোন ক্যাটাগরিতে ফেলবে। এরা পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ লাভ করে তাকে দশমিকের পরে ফেলতে হয় অর্থাৎ সাকুল্যে ১% এরও কম। যদিও তাদের বিক্রয়ের পরিমাণ অনেক বেশি তাই তার কম লাভেও ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হন। কিন্তু প্রশ্ন হল হল সরকার এদের বিক্রয়ের উপর কত পার্সেন্ট কর বসাবে?

অথচ সরকার যদি পূর্বেই পণ্য ভেদে তার মূল্য সহযোজন কর ঠিক করে নিতে পারত। তাহলে সেই পরিমাণ অর্থ আমদানি শুল্কের সাথে অথবা উৎপাদন শুল্কের সাথে যোগ করে দিতে পারত। ভ্যাট এর পরিমাণ যাই হোক সরকার সেটা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আদায় না করে উৎপাদক এবং আমদানীকারকের কাছ থেকে পূর্বেই নিয়ে নিতে পারত। তাতে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারে সম্পূর্ণ কর জমা হত অন্যদিকে বিক্রেতা এই বাড়তি ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পেত। বাজার মুল্য স্থিতিশীল থাকত। সরকার এই সহজ পথে না হেটে যদি বাঁকা পথে হাটে তাহলে এর নানাবিধ সমস্যা দিনকে দিন প্রকাশিত হবে, কর আদায় হবে না।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র এন্টারপ্রেরনাররা সরকারের কাছ থেকে কোন রকম কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। আর তারা সে আশায় বসেও থাকে না। উলটো সরকার ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে টিন সার্টিফিকেট প্রতিটি ক্ষেত্রে অযথা জটিলতা এবং উচ্চ কর ধার্য করে রেখেছে। তারপরেও যদি এভাবে একের পর বোঝা চাপাতে থাকে তাহলে দেশের জিডিপিতে সবথেকে বেশি অবদান রাখা এই খাত এক সময়ে মুখ থুবরে পরতে বাধ্য হবে। সে দায় কে নেবে?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×