
এতদিন যাবত সড়কে চালকদের বেপরোয়া গাড়ী চালনা এবং চালকের সহায়তাকারীদের সীমাহীন ঔধ্যত্ব আমরা দেখে এসেছি। যার পরিণতিটাও স্পষ্ট। সড়কে মৃত্যুর মিছিল। ব্যাংক থেকে লোণ নিয়ে ঋনখেলাপির মিছিল দেখেছি। যার পরিণতিও দেখেছি একের পর এক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও দেউলিয়া হয়ে যাওয়া। আমরা দেখেছি দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। এ সবই এখন আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। দুর্বৃত্তায়নের এই পৌনঃপুনিক এই রূপটির একটিই কাড়ন আর তা হল বিচার হীনতা যা মূলত দুর্বৃত্তায়নকে এক ধরনের বৈধতা প্রদানেরই নামান্তর। এর ফলে যেটা হচ্ছে তা হল দেশে দুর্বৃত্তায়নের খাত বাড়ছে দুর্বৃত্তের সংখ্যা বাড়ছে। যেমন ইদানীং এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিত্তশালীদের নারী নিগ্রহ। এটা যে পূর্বে ছিল না তা নয়। ছিল তবে সেটা আড়ালে আবডালে এখন সেটা খুল্লাম খুল্লা!
রাজনৈতিক সুবিধা আদায়, পেশিশক্তির আস্ফালন, বিচারহীনতা, দুর্নীতি প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেয়া ইত্যাদি কাড়নে পূর্বে যেমন দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। তেমনি করে হয়ত এবার অর্থের প্রভাবে নতুন করে তৈরি হওয়া যৌন সন্ত্রাসীরাও অধরাই থেকে যাবে?
প্রসঙ্গটা সঙ্গত কাড়নেই উঠছে। বেশ কিছুদিন ধরে একটার পর একটা হাই প্রোফাইল যৌন নিগ্রহের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যার কোনটিরই এ পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। ফলে যৌন সন্ত্রাসীরা ক্রমশ আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিপুল বিত্ত বৈভবের ফলে তারা যেন ধরেই নিয়েছে, তাদের সাত খুন মাফ। এটা নিশ্চয়ই কোন ভাল লক্ষণ নয়।
এ দেশে বড় অপরাধীরা সাধারণত ধরা পরে না। ধরা পরলেও বিশেষ সুবিধা লাভ করে। সড়কে খুন, অর্থ পাচার, ব্যাংকের টাকা লুট এ সব অপরাধ তো এখন বৈধতা পাওয়ার পথে। দেশ সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বত্বেও এই অন্যায়গুলি এখন প্রায় বৈধ। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হল বিত্তশালী কর্তৃক নারী নিগ্রহ। আমরা কি ধরে নেব এবার এটাও বৈধতা পাবে? যদি তাই হয় তাহলে আর বলতে দ্বিধা নেই অচিরেই বাংলাদেশও একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
নায়িকা পরি মনি যৌন হয়রানীর স্বীকার হয়েছেন সেটা যতটা লজ্জার তার থেকে বেশি লজ্জার এবং ভয়ের বিষয় হল তার পরবর্তী ঘটনা সমূহ। চারদিন যাবত মামলা না নেয়া। সংবাদ সম্মেলন করে এবং একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার দেয়ার পরেও তার ভয় কাটছে না! আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, তিনি ভাবছেন তাকে হত্যা করা হতে পারে, পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হবে। আর সেটা যাতে সম্ভব না হয় সে জন্যে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেন, আমি আত্মহত্যা করব না। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি যেভাবে কথাগুলো বলেছেন তার অর্থ দাড়ায়, তিনি আশঙ্কা করছেন কেউ তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে পারেন। বিষয়টা কতটা ভয়াবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্ন হল তিনি এমনটা কেন আশঙ্কা করছেন? এমন ঘটনা আরও ঘটেছে বলেই কি?
এই একই ঘটনা নায়িকা পরি মনির বেলায় না হয়ে যদি অখ্যাত কোন পরি মনির বেলায় ঘটত আর তার পেছনে যদি থাকত বিত্তবান কোন কুশীলব তাহলে কি থানা তার মামলা গ্রহণ করত? তার পক্ষে তো সংবাদ সম্মেলন, টিভি সাক্ষাতকার এসবের কিছুই করা সম্ভব হত না। আর আমরাও কিছুই জানতে পারতাম না। বিত্ত বৈভবের কাছে আর্ত মানবতার আর্তি যখন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে থাকে। রাষ্ট্র যখন একটার পর একটা অন্যায়কে উপেক্ষা করে চলতে শুরু করে তখন রাষ্ট্র যে ভিতের উপর দাঁড়িয়ে থাকে তাও দ্রুতই ক্ষয়ে যেতে থাকে। আর এক সময় রাষ্ট্র মুখ থুবরে পরে।
কোন রাষ্ট্র যখন নিন্ম স্তর থেকে উঁচু স্তরে এগোতে শুরু করে তখন সেই এগিয়ে চলার সাথে কিছু সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। রাষ্ট্র তখন শক্ত হাতে তার মোকাবেলা করতে পারলেই কেবল উচ্চতর স্থানে পৌঁছুতে সক্ষম হয় নয়ত হোঁচট খেয়ে পড়তে বাধ্য। দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের পরিণতি যেন তেমনটি না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



