somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ব্লগার আকাশ
দিন-রাত সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখতে ইচ্ছা হয় (দেখিও বটে)। পাশাপাশি কলকাতার মুভিগুলোও অনেক ভালো লাগে। যদিও ভালো মতো লিখতে পারিনা, তাও এগুলো নিয়ে লেখা-লিখি করতে অনেক ভালো লাগে।

মুভি রিভিউ: "কাথথি"

০২ রা মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"ভাই... দুই একটা ভালো তামিল মুভির নাম বলেন তো??"- এমন মেসেজ ইনবক্সে প্রায়ই আসে। প্রত্যুত্তরে আমি সবার প্রথমে "Kaththi" সিনেমাটি তাদের সাজেস্ট করি। সুপারস্টার বিজয়ের ক্যারিয়ারে তো বটেই, পুরো তামিলেই "কাথথি" আমার সবচেয়ে প্রিয় সিনেমা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ কলকাতার জেলখানায় বন্দী কাথির (বিজয়)। জেল পালানো এক কয়েদিকে ধরতে পুলিশকে সহায়তা করার কৌশলে সে নিজেই জেল থেকে পালায় এবং চেন্নাই চলে আসে। চেন্নাইয়ে এসে তার বন্ধু রবির সাহায্যে ব্যাংকক চলে যাওয়ার প্ল্যান করে। কিন্তু এয়ারপোর্টে অঙ্কিতা (সামান্থা)-কে দেখা মাত্রই তার প্রেমে পড়ে যায়। অঙ্কিতার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় ব্যাংকক যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল করে দেশেই থাকবে বলে ঠিক করে কাথির।

কাথির ও তার বন্ধু রবি একজনকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পায়, যার নাম জিবা। আশ্চর্য্যজনক হলো, জিবাও পুরোপুরি কাথিরের মতোই দেখতে! কাথির তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই সুযোগটি কাজে লাগায়। কাথির নিজের তথ্য দিয়ে তার মানিব্যাগ, ঘড়ি ইত্যাদি জিবার নিকট রেখে যায়। তারপর পুলিশ এসে কাথিরের জায়গায় জিবাকেই ধরে নিয়ে যায়। জিবা বুঝানোর পর, পুলিশ তার গায়ের চিহ্ন দেখে অবশ্য বুঝে যায় এটা কাথির না। তারপরেও বদনামের ভয়ে পুলিশ জিবাকে ধরে নিয়ে যায়।

এরপর হঠাৎ একজন কাথিরকে জিবা বলে সম্বোধন করে এবং বলে ২৫ লাখ টাকার চেক রেডি আছে! কাথিরের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এটা সেই জিবার কোনো আত্মীয় বা পরিচিত। যাই হোক... কাথির ও রবি সেই লোকটির সাথে একটি বৃদ্ধাশ্রমে আসে, যেটি মূলত জীবার আশ্রম। সেখানে সবাই তাকে জিবা বলেই ভাবতে থাকে এবং কাথিরও জিবা সেজে অভিনয় করতে থাকে। তার উদ্দেশ্য থাকে টাকা হাতে আসা মাত্রই কেটে পড়বে!

আশ্রমেই আবারো অঙ্কিতার সাথে দেখা হয় কাথিরের। আস্তে আস্তে তাদের ভেতর প্রেমের সম্পর্কও তৈরি হয়। কাহিনিসূত্রে একদিন জিবা সেজে অভিনয়কারী কাথিরকে ডাকা হয় একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখানে দেখানো হয়, জীবার জীবনের সংগ্রামের গল্প। তখনই কাথির জানতে পারে, কে জীবা আর কি তার পরিচয়।

কি ছিলো জীবার জীবনের গল্প?? এই গল্প জানার পর কাথিরের জীবনেও আসবে কি বড় কোনো পরিবর্তন??

এই প্রশ্নের উত্তর আমি আর লিখতে চাইনা। কেননা এতে করে সিনেমা দেখার মজা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রশ্নটির উত্তর পেতে "কাথথি" সিনেমাটি দেখতে হবে আপনাদের। এটুকু বলে দিতে চাই... জীবার জীবনের সংগ্রাম দেখে আমি চোখের পানি আটকাতে পারি নাই। খুব শক্ত মনের মানুষ না হলে হয়তো আপনিও পারবেন না।

পারিপার্শ্বিক কয়েকটি দিক >>

অভিনয়ঃ যথারীতি বিজয় দুর্দান্ত অভিনয় করেছে। কাথির, জিবা- দুটি চরিত্রই দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষত জিবা চরিত্রের অভিনয় বিজয়ের ক্যারিয়ার সেরা বলে আমি মনে করি। সামান্থার অভিনয় দক্ষতা নিয়েও কারো কোনো প্রশ্ন থাকার কথা না। যদিও গল্পের প্রেক্ষাপটে "কাথথি"তে সামান্থার চরিত্রের গভীরতা কম, তবে এতে সিনেমা ভালো লাগার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। এছাড়া কয়েকজন বৃদ্ধের অভিনয়ও অনেক ভালো লেগেছে।

পরিচালনাঃ এই সিনেমার গল্প লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এআর মুরুগাদোস। আমার প্রিয় একজন পরিচালক। যথারীতি এটাতেও তিনি ফাটিয়ে দিয়েছেন! বিজয়ের আরেকটা মাস্টারপিস "থুপ্পাক্কি"তেও তিনি লেখক ও পরিচালক ছিলেন।

মিউজিকঃ কাথথির মিউজিক পরিচালনায় ছিলেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। সবগুলো গানই মোটামুটি ভালো। বিশেষ করে বিজয়ের গাওয়া "সেলফি পোল্লা" গানটা আমার অনেক ফেভারিট। bgm টাও ছিলো সেই লেভেলের!

এছাড়া কয়েন ফাইট অনেক ভালো লেগেছে। বিরতির সময় বিজয়ের "I am waiting" কথাটাও মনে গেঁথে রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, সিনেমাটা স্যোসাল মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

বলা মতো খারাপ কোনো দিক আমি এই সিনেমায় পাইনি। সবই ভালো লেগেছে তাই প্রিয় সিনেমা।

কয়েকটি তথ্য-
(i) ২০১৪ সালের ৩য় সর্বোচ্চ আয় করা তামিল সিনেমা। রজনীর "লিঙ্গা" ও অজিথের "বিরাম"-য়ের পর।
(ii) ফিল্মফেয়ার সেরা তামিল সিনেমা-২০১৪ অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছে।
(iii) এই সিনেমার তেলুগু রিমেকের কাজ চলছে। মেগাস্টার চিরঞ্জীবির ১৫০তম সিনেমা।
(iv) এই সিনেমায় কোনো ধূমপান বা মদ্যপান জাতীয় দৃশ্য নেই।
(v) বলিউড অভিনেতা নেল নিথিন মুকেশের অভিষেক তামিল সিনেমা এটি।
(vi) পরিচালক এআর মুরুগাদোস ও গায়ক হিপহোপ থামিজা আধি- কাথথির "পাক্কাম ভানতু" গানে অভিনয় করে। (cameo)
(vii) অসংহিস্রতার অভিযোগে কাথথির কয়েন ফাইটসহ কিছু দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয় মালেশিয়ায়।
(viii) তেলুগু এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গোপির মতে তিনি নাকি গল্পটি লিখে মুরুগাদোসকে শুনিয়েছিলেন কেমন হয়েছে জানতে। সেই গল্প চুরি করে মুরুগাদোস "কাথথি" বানায়। এ নিয়ে কেস-কাট্টাও চলে। শেষমেষ রায়টা অবশ্য মুরুগাদোসের পক্ষেই যায়।

●► Movie: Kaththi
●► Director: AR Murugadoss
●► Music: Anirudh Ravichander
●► Cast: Vijay, Samantha etc
●► Release Date: 22 October 2014
●► IMDb Rating: 8.1/10
●► My Rating: 10/10

ডাউনলোড লিংক গুগলে সার্চ দিলেই টরেন্টসহ সবখানেই পাবেন। বাংলা সাবটাইটেল পেয়ে যাবেন সাবসিনে। হিন্দি ডাবিং নেই।


কষ্ট করে রিভিউটা পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। মতামত কমেন্টে জানাবেন। শীঘ্রই হাজির হবো অন্য কোনো মুভির রিভিউ নিয়ে... :-P
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮:১৬
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে

লিখেছেন অধীতি, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২০

“সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি-
এখনো কি ভালোবাসি?
সেটা অবসরে ভাববার কথা,
অবসর তবু নেই;
তবু একদিন হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে
এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে
সুজাতাকে আমি ভালোবাসতাম কি না।”


তবুও একদিন হেমন্ত আসে কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৯ নিশীথে ফুটেছে ফুল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৪

বাইরের জানালার পাশে গভীর রাতে ফুটে ওঠা ফুলের সৌন্দর্য রহস্যময়, আকর্ষণীয় মনে হলো বলেই থমকে দাঁড়ালাম। ক্যামেরায় ধরলাম। ফুল আর কলি যেন কথা বলে উঠলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×