somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোবট নয়,শরীরে ৭০০ সেন্সর ও ডিভাইস লাগানো রক্ত মাংসের ডিজিটাল মানবের কথা !

১২ ই মে, ২০১৪ রাত ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :শরীরে বসানো ৩০০ থেকে ৭০০ সেন্সর ও ডিভাইস তার প্রতিটি নড়াচড়ার তথ্য সংগ্রহ করছে, তাকে জানাচ্ছে সর্বশেষ পরিস্থিতি। ৪৫ বছর বয়সি ক্রিস ড্যানসির দাবি, তিনিই এ পৃথিবীর ‘মোস্ট কানেক্টেড ম্যান’।

ক্রিসের বিশ্বাস, এই লাইফস্টাইল তাকে রাখছে ‘ফিট’, সহায়তা করছে লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং জীবনকে করে তুলছে অনেক সহজ।

নিজেকে আপনি বলেন বিশ্বের ‘মোস্ট কানেক্টেড ম্যান’। আপনার সকাল শুরু হয় কীভাবে, কেমন করে কাটে সারাদিন?

গত রাতে আমি এক বন্ধুর বাড়িতে ছিলাম। ফলে সব ডিভাইস আমার সঙ্গে ছিল না। তারপরও কয়েকটা ফোন সব সময় আমার সঙ্গে থাকে, যেগুলো চারপাশের শব্দ, আলো, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা আর তাপমাত্রা সম্পর্কে আমাকে তথ্য দেয়। আমার নিজের বাড়িতে প্রয়োজনীয় সব ডিভাইসই আছে। সেগুলোর মাধ্যমে আমি সহজেই অনেক বেশি তথ্য পেতে পারি।

আপনার শরীরেও অনেক যন্ত্র লাগানো দেখতে পাচ্ছি। এগুলো কী কাজে লাগছে?

এগুলোকে আমি দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি। কিছু ডিভাইস আমার শরীরের সঙ্গেই যুক্ত থাকছে। আর কিছু সেন্সর ও যন্ত্রপাতি সব সময় থাকছে আমার চারপাশে। সব কিছুই কাজ করছে একসঙ্গে, ঐকতানে। শরীরে ধারণ করার ডিভাইস বলতে সবাই অ্যক্টিভিশন মনিটরের কথা বোঝে, যেটা কব্জিতে পরতে হয়। তবে এর বাইরেও অনেক কিছু আছে, যেমন ন্যারেটিভ ক্যামেরা। এটা দেখতে সাধারণ জুয়েলারির মতো, পোশাকের সঙ্গে সহজেই লাগিয়ে রাখা যায়। এই ক্যামেরা প্রতি মিনিটের ছবি তুলে রাখে।

আমার বুকের ওপরে বসানো আছে হার্ট-রেট মনিটর। কোমরে আছে ‘লুমো ব্যাক’ নামের একটি যন্ত্র, যা ওঠা-বসা, চলা-ফেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে আমাকে সহযোগিতা করে। আরো আছে স্মার্ট ঘড়ি, ‘পেবল’ আর ‘গুগল গ্লাস’। সব সময় গড়ে অন্তত ১০টি ডিভাইস আমার শরীরের তথ্য নিচ্ছে, বিশ্লেষণ করে আমাকে জানাচ্ছে।

এই হাই-টেক লাইফস্টাইলের উদ্দেশ্য কী? এসব তথ্য কীভাবে আপনার জীবনকে সহজ করছে?

শুরুতে বিষয়গুলো অনেক জটিল ছিল। এসব ডিভাইস এতো এতো তথ্য দেয় যে সেগুলো দেখে, একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক খুঁজে সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হতো। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে এই ধারায় জীবনযাপন করায় এখন আমাকে আর কিছু ভাবতে হয় না। তথ্যগুলো দেখামাত্র আমি এর ধরন বুঝে নিতে পারি। সে অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনি, ব্যায়াম ও মেডিটেশন করি। যেসব কাজ আমার জমিয়ে রাখার অভ্যাস, সেগুলোর দিকে মনোযোগী হই। ক্যারিয়ারের জন্য যা দরকার সেদিকে এগোতে পারি।

যেমন ধরুন, আপনি যদি মনে করেন কর্মস্থলে আপনার অবস্থার উন্নতি দরকার, তাহলে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আপনাকে কাজ করতে হবে। আপনাকে সময় মতো প্রতিটি মিটিংয়ে হাজির থাকতে হবে, আরো ভাল কাজ করার কথা ভাবতে হবে। সবার সঙ্গে মিলে চলার দক্ষতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত সব বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে- তাও জানা থাকতে হবে। এসব কিছুর জন্য আপনার দরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম, সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবন।

জীবনকে একটা গাড়ির সাথে তুলনা করে দেখুন। গাড়ির বডির মতো সব কিছুই আমাদের দেহে আছে। চোখ-কান কাজ করছে এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম হিসাবে। নেই কেবল ড্যাশবোর্ড। আমি যেটা করেছি, সব কিছু দেখা যায় এমন একটা ড্যাশবোর্ড আমি জীবনের জন্য বানিয়ে নিয়েছি।

এসব তথ্য অনলাইনে যাচ্ছে? আপনি তো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা হলো দ্বিতীয় ধাপের সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমার মতে, প্রথম কাজটি হলো- ঠিক কী পরিমাণ দরকারি তথ্য আমার কাছে আছে তা বুঝে নেয়া। যেমন ধরুন দোকানে গিয়ে আমরা কয়েক সেন্টের রুটি বা টুথপেস্ট কিনে দাম মেটাচ্ছি কার্ডে। কিন্তু তাতে আমার যেসব ব্যক্তিগত তথ্য তারা পেয়ে যাচ্ছে, তা ওই রুটি বা টুথপেস্টের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

প্রতিদিন এভাবে অনেক কিছুই আমরা স্পর্শ করছি, যা শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। মানুষ আসলে তথ্যের মধ্যে ডুবে আছে। আমরা এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারব যদি এর মূল্য ঠিকঠাক বুঝতে পারি। গুগল বা ফেসবুক এসব তথ্য থেকেই বিলিয়ন ডলারের সন্ধান পেয়ে যায়। আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তাদের পক্ষেও এটা সম্ভব।

আপনি গুগল গ্লাস ব্যবহার করছেন। আপনার অভিজ্ঞতা বলুন।

গুগল গ্লাস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা চমৎকার। তার চেয়েও চমৎকার হলো আপনাকে গুগল গ্লাস পরা দেখে মানুষের যে প্রতিক্রিয়া, সেটা। সবাই জানতে চায়- এটা আসলে কী। তারা দেখতেও চায়। এটা অনেকটা মানুষকে ভবিষ্যৎ দেখানোর মতো।

গতবছর যখন আমি প্রথম গুগল গ্লাস ব্যবহার শুরু করলাম, তখন এক বাবা আর তার ছেলে আমাকে দেখে অবাক। ভদ্রলোক জানতে চাইলেন- ‘এটা কি?’ আমি তাকে দেখতে দিলাম, পরতে দিলাম। তাকে বললাম, গুগল গ্লাসে ছেলের একটা ছবি তুলে রাখতে। তিনি জানতে চাইলেন, ‘কীভাবে?’ আমি বললাম- শুধু বলুন, ‘ওহে গ্লাস, একটা ছবি নাও’। তিনি তাই বললেন, ছবিও উঠে গেল। গ্লাস ফেরত দিতে দিতে তিনি আমাকে বললেন, ‘আমার ছেলে এমন এক পৃথিবীর মানুষ হবে, যেখানে সবার জীবন হবে এই গ্লাসের মতো সহজ! আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না!’

আপনার এই জীবনযাপন নিয়ে পরিবার আর বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী?

গত পাঁচ বছর ধরে তারা আমাকে এভাবে দেখছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টা ধরতেই পারেনি। কেউ কেউ আবার এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে আমার মতো জীবনযাপনে আগ্রহী হয়েছে। যখন নতুন কারো সঙ্গে আমার কথা হয়, আমি এসব নিয়ে খুব বেশি কথা বলি না। কারণ প্রথমেই যে প্রশ্ন আমাকে তারা করে- তা হলো আমি তাদের কথাবার্তা, ছবি রেকর্ড করে রাখছি কি না।

অথচ এখন সব কিছুরই রেকর্ড থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাফিক ক্যামেরা এড়িয়ে আপনি বাড়ি থেকেই বের হতে পারবেন না। স্যাটেলাইট থেকে আপনার গাড়ির ওপর নজর রাখা হবে। আপনি যেখানে যাচ্ছেন, যা করছেন, সব কিছুরই রেকর্ড থেকে যাচ্ছে। আমরা এসব বিষয়ে সচেতন নই- এটাই আমাদের সমস্যা।

ডেনভারের তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ক্রিস ড্যানসি সারা বিশ্ব ঘুরে ঘুরে ভবিষ্যতের জীবন, ডেটা অ্যাসিসটেড লাইফস্টাইল সম্পর্কে বক্তৃতা এবং পরামর্শ দেন
সূত্র http://www.somoyerkonthosor.com/news/75621
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডয়চে ভেলের সাংবাদিক আন্দ্রে লেসলি।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×