![]()
নভেরা আহমেদের জন্ম ১৯৩০ সালে। বাংলাদেশের ভাস্কর্যশিল্পের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন তিনি।
কর্মসূত্রে নভেরার বাবা সৈয়দ আহমেদ কর্মরত ছিলেন সুন্দরবন অঞ্চলে। নভেরার জন্ম সুন্দরবনে, ১৯৩০ সালে। চাচা আদর করে নাম রাখেন নভেরা। ফার্সি শব্দ ‘নভেরা’র অর্থ নবাগত, নতুন জন্ম। পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তর পাড়। চাকরিসূত্রে পিতা সাইদ আহমেদ পরবর্তীতে কলকাতায় ছিলেন। নভেরার শৈশব কেটেছে কলকাতায়। নভেরা কলকাতার লরেটো থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। স্কুল জীবনেই তিনি ভাস্কর্য গড়তেন।
১৯৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত ভাগ হয়ে যাওয়ার পর তারা পূর্ব পাকিস্তানের (কুমিল্লায় চলে আসেন। এ সময় নভেরা কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। পিতার অবসরগ্রহণের পর তাঁরা সবাই আদি নিবাস চট্টগ্রামে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন নভেরা।
নভেরা ১৯৫১ সালে ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটসের ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইনের মডেলিং ও স্কাল্পচার কোর্সে ভর্তি হলেন – এখানে ভর্তি হতে শিল্পকলা বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল না। ১৯৫১-৫২ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইন প্রথম প্রবর্তিত হলো। এ সম্পর্কে প্রসপেক্টাসে বলা ছিল, ‘শিল্পকলার শিক্ষকদের জন্য এটি একটি স্বীকৃত যোগ্যতা হবে।’ কোর্সটি চার বছরের – প্রথম দুবছর পর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা, পরবর্তী দুবছর পর ডিপ্লোমার জন্য ফাইনাল পরীক্ষা। নভেরা ১৯৫৫ সালে কোর্স শেষ করে ডিপ্লোমা পেলেন।
তিনি ভাস্কর হামিদুর রহমান এর সাথে জাতীয় শহীদ মিনারের প্রাথমিক নকশা প্রণয়নে অংশগ্রহণ করছিলেন। যদিও কোন এক অজ্ঞাত কারনে শহীদ মিনার নির্মানের সাথে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় না।
হাসনাত আবদুল হাই, ১৯৯৪ সালে তাঁকে নিয়ে জীবনী উপন্যাস লেখেন- নভেরা, , গ্রন্থাকারে প্রকাশ হয় ১৯৯৫ , উপন্যাসটি খুবই সুখপাঠ্য।
১৯৯৯ সালে তাঁকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র নহন্যতে, পরিচালনা করেছেন এন রাশেদ চৌধুরী,
জাতীয় জাদুঘরের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভাস্কর নভেরা আহমেদ হল'।
অতি দীর্ঘ অন্তরাল জীবনের পর ২০১৪ সালে ১৭ জানুয়ারি থেকে প্যারিসে তাঁর রেট্রোসপেকটিভ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৯৭-এ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক-এ ভূষিত করে।
তিনি গতকাল, ৬ ই মে, ২০১৫, ৮৫ বছর বয়সে প্যারিসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
সুত্রঃ নভেরা, হাসনাত আবদুল হাই, উইকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


