-কথাটা কি আদৌ ঠিক..?
উত্তর মিলানোর জন্য,আপনাকে পুরোটা পড়তে হবে....

"শিশু হত্যার আর রাশ টানা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতি দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। তুচ্ছ একটা কারনে ঘটছে এ সব হত্যার ঘটনা। একের পর এক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। মাত্র ক’দিন আগে ৫ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে। ওইসব শিশুর পরিবারে শোকের মাতম কাটতে না কাটতেই অন্য পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম।
অবস্থা এখন এমন হইছে যে শিশুদেরকে এক রকম নিরাপত্তাহীনতাই বলা যায়।
.
তাহলে এখন প্রশ্ন উঠে-যেখানে দেশের এ সব শিশুরাই নিরাপদ নয়, সেখানে আমরা বড়রা কিভাবে নিরাপদ?
দেশের আইনশৃঙ্খলা কি আদৌ ঠিক আছে?
পুলিশ কি করছে?
গত বছর সিলেটের শিশু রাজন এবং খুলনার শিশু রাকিবকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। অবশ্য এর বিচার হয়েছে খুবই
দ্রুততার সঙ্গে। সিলেটের শিশু রাজন এবং খুলনায় রাকিব হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
পাওয়ায় অভিভাবকসহ সবাই স্বস্তি পেয়েছিলেন। এই বিচার হয়েছে তিন মাস আগে। রাজন এবং রাকিব হত্যা নিয়ে
গণমাধ্যম সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠে। দুটি হত্যাই ছিল আলোচিত। আলোচিত হত্যা ছাড়া অনালোচিত হত্যার বিচার
দ্রুততার সঙ্গে হবে না এটা কাম্য নয়।সবার জন্য সমাধিকার এটা অবশ্যই কাজে ও প্রমান করতে হবে, এছাড়া শুধুই যে আলোচিত খুন গুলারই বিচার হবে এটা ও নয়, অনালোচিত খুন গুলার ও দ্রুত বিচার করতে হবে।
.
দিনে দিনে বাড়ছে খুনের এই পরিসংখ্যান। ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হচ্ছে শিশুরা। বাবা-মায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে টার্গেট করা হচ্ছে শিশুদের। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বলি হতে হচ্ছে শিশুদের। নিজেকে রক্ষার জন্য ধর্ষণের পরও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে।
.
নৃশংস এসব শিশু হত্যার পেছনে প্রধান কারণ হলো সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশুসন্তানের মা তাঁর শিশুকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।যেখানে মা সন্তানকে বাঁচানোর জন্য নিজের
জীবন দেন, আর এখন দেখা যাচ্ছে খোদ মা সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করছেন! এটা কীভাবে সম্ভব!
রাষ্টের একার পক্ষে এ সকল হত্যা বন্ধ করা কিছুতেই সম্ভব নয়, এটা বন্ধের জন্য চাই জনসচেতনতা।
কাল ফেসবুকে দেখলাম "মুশফিক" সহ অনেক মানুষ শিশু হত্যার প্রতিবাদ করেছে, ব্যাপারটা আসলেই ভালো লাগার।
.
পরিশেষে বলতে চাই, শিশু নির্যাতনের ঘটনা যে কোনো উপায়ে রোধ করতে হবে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নৈতিকতার শিক্ষাসহ সর্বস্তরে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এমন বর্বর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজে এমন ঘটনা বেড়ে যাবে। উত্সাহ পাবে খুনিরা। সাধারণ মানুষ আস্থা হারাবে আইন ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



