somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশু হত্যা-এর শেষ কোথায়...(!)

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
"আজকের শিশু আগামি দিনের ভবিষ্যৎ"
-কথাটা কি আদৌ ঠিক..?
উত্তর মিলানোর জন্য,আপনাকে পুরোটা পড়তে হবে....


"শিশু হত্যার আর রাশ টানা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতি দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। তুচ্ছ একটা কারনে ঘটছে এ সব হত্যার ঘটনা। একের পর এক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। মাত্র ক’দিন আগে ৫ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে। ওইসব শিশুর পরিবারে শোকের মাতম কাটতে না কাটতেই অন্য পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম।
অবস্থা এখন এমন হইছে যে শিশুদেরকে এক রকম নিরাপত্তাহীনতাই বলা যায়।
.
তাহলে এখন প্রশ্ন উঠে-যেখানে দেশের এ সব শিশুরাই নিরাপদ নয়, সেখানে আমরা বড়রা কিভাবে নিরাপদ?
দেশের আইনশৃঙ্খলা কি আদৌ ঠিক আছে?
পুলিশ কি করছে?


গত বছর সিলেটের শিশু রাজন এবং খুলনার শিশু রাকিবকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। অবশ্য এর বিচার হয়েছে খুবই
দ্রুততার সঙ্গে। সিলেটের শিশু রাজন এবং খুলনায় রাকিব হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
পাওয়ায় অভিভাবকসহ সবাই স্বস্তি পেয়েছিলেন। এই বিচার হয়েছে তিন মাস আগে। রাজন এবং রাকিব হত্যা নিয়ে
গণমাধ্যম সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠে। দুটি হত্যাই ছিল আলোচিত। আলোচিত হত্যা ছাড়া অনালোচিত হত্যার বিচার
দ্রুততার সঙ্গে হবে না এটা কাম্য নয়।সবার জন্য সমাধিকার এটা অবশ্যই কাজে ও প্রমান করতে হবে, এছাড়া শুধুই যে আলোচিত খুন গুলারই বিচার হবে এটা ও নয়, অনালোচিত খুন গুলার ও দ্রুত বিচার করতে হবে।
.
দিনে দিনে বাড়ছে খুনের এই পরিসংখ্যান। ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হচ্ছে শিশুরা। বাবা-মায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে টার্গেট করা হচ্ছে শিশুদের। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বলি হতে হচ্ছে শিশুদের। নিজেকে রক্ষার জন্য ধর্ষণের পরও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে।
.
নৃশংস এসব শিশু হত্যার পেছনে প্রধান কারণ হলো সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশুসন্তানের মা তাঁর শিশুকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।যেখানে মা সন্তানকে বাঁচানোর জন্য নিজের
জীবন দেন, আর এখন দেখা যাচ্ছে খোদ মা সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করছেন! এটা কীভাবে সম্ভব!


রাষ্টের একার পক্ষে এ সকল হত্যা বন্ধ করা কিছুতেই সম্ভব নয়, এটা বন্ধের জন্য চাই জনসচেতনতা।
কাল ফেসবুকে দেখলাম "মুশফিক" সহ অনেক মানুষ শিশু হত্যার প্রতিবাদ করেছে, ব্যাপারটা আসলেই ভালো লাগার।
.
পরিশেষে বলতে চাই, শিশু নির্যাতনের ঘটনা যে কোনো উপায়ে রোধ করতে হবে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নৈতিকতার শিক্ষাসহ সর্বস্তরে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এমন বর্বর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজে এমন ঘটনা বেড়ে যাবে। উত্সাহ পাবে খুনিরা। সাধারণ মানুষ আস্থা হারাবে আইন ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৫
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×