somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড

১৫ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার নাম?
আমার কোন নাম নেই।আসলে নাম রাখার সুযোগই হয়নি।কিংবা কেউ নাম রাখতে চায়নি।
নাম নিয়ে কাজ কি?তার চেয়ে বরং আমার জন্মের কথা আপনাদের বলি,ইন্টারেস্টিং লাগতে পারে।
একরাতে এক হোটেলে আমার জন্মপ্রক্রিয়া শুরু।নেশায় চুর হয়ে যাওয়া সদ্য একুশ পেরোনো দুই বিপরীত লিঙ্গ আদিম উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল।
দশ সপ্তাহ পরে আমার ভ্রুণে প্রাণ সঞ্চার হলো।হাত পায়ের প্রটোটাইপ গড়ে উঠলো।কানটাও তৈরি হলো।সেই কান দিয়ে কত কিছু শোনাও শুরু হলো।
একদিন একটা শব্দ শুনলাম:Abortion.
শব্দটার মানে না বুঝতে পারলেও বুঝলাম মা খুব রেগে গিয়েছিল,একটু পরে কান্না শুরু করে দিল।
মা!স্বর্গে থাকতে শুনেছিলাম এটা নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ,সবচেয়ে মধুর শব্দ।
বড় ভাই,যারা অলরেডি পৃথিবীতে পৌঁছিয়ে গেছেন তাদের সাথে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হত।তাদের কাছে তাদের মায়ের কথা শুনতাম।মা তাদের কত্ত আদর করে!
গোসল করিয়ে দেয়,আদর করে খাইয়ে দেয়,দুষ্টু মিষ্টি কথা বলে,হিসু করলে কাঁথা পালটিয়ে দেয়।অসুখ হলে সারারাত জেগে থাকে।
আমিও স্বপ্ন দেখতাম,আমার মা আমাকে গোসল করিয়ে দেবে,খাইয়ে দেবে আর অনেক অনেক আদর করবে।

আস্তে আস্তে মায়ের গর্ভে বড় হতে লাগলাম আমি।নাড়ি দিয়ে খাবার আসতে লাগলো।প্ল্যাসেন্টা(মায়ের গর্ভে যে পর্দায় শিশু থাকে)ও বড় হতে লাগলো।এখন হাত পা ছড়ানোর অনেক জায়গা।

মাঝে মাঝে বাইরের কথা শুনতে পেতাম,একজন খুবই গুরুগম্ভীর ভাষায় কথা বলছেন,শুনে মনে হত আমার আম্মুকে বকছেন,তিনি আমার নানা।
শুনেছি বাবারা মেয়েদের অনেক আদর করেন,তাহলে আমার না্না আমার আম্মুকে বকছেন কেন?কি করেছে আমার আম্মু?

একদিন বকাবকি চরমে রূপ নিল।কিছুক্ষণ পর আম্মু দৌড়ে এসে বাথরুমে ঢুকলো।এদিকে ঝাকুনিতে আমি ব্যাথা পেয়েছি।
একটু পর দেখি নীল রঙের পানিতে আমার আম্মুর সারা শরীর ভরে যাচ্ছে।কি এগুলি?আমার হাত পা এত জ্বলছে কেন?
তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।

অনেকখানি পরে যখন আমার জ্ঞান আসলো তখন বেশ অসুস্থ বোধ করলাম।কি হয়েছিল?
আমি বুঝতে পারছিলামনা ঠিক,বেশ কয়েকটা শব্দ কানে ভেসে আসছিল,Harpick,Suicide…..
বুঝলামনা,কিজানি কি বলছে…………

সেই ঘটনার পর থেকে আমি বেশ অসুস্থ হয়ে গেলাম।শরীরে আর আগের মত উচ্ছ্বাস নেই।আগের মত খেলাধুলাও করতে পারিনা।

যাই হোক,দিন ভালোভাবেই কাটতে লাগলো।আমার নানুও আর এখন আম্মুকে বিকাবকি করেনা।আমিও খুব খুশি।আর তো মাত্র কয়টা দিন।তারপরেই আম্মুর কোলে আসব।বাবাকে কে দেখব…………।।




আজ আমার জন্ম হবে।শুনলাম আম্মুকে হসপিটাল নামের কোন এক জায়গায় নিয়ে আসছে।এখানে কি হয়?
যাই হোক।আমার খুব আনন্দ হচ্ছিল।আম্মুকে দেখব,আমার আম্মু যে আমাকে অনেক আদর করবে।আমার আব্বুকে দেখব যে আব্বু আমার জন্য রোজ চকোলেট নিয়ে আসবে।

বড়ভাইদের কাছে শুনেছি পৃথিবীকে প্রথম দেখলেই নাকি তারস্বরে কান্না শুরু করতে হয়,এটাই নাকি নিয়ম!!এ আবার কেমন নিয়ম?
অবশেষে সেইক্ষণ আসলো।আমি কান্না শুরুর প্রস্তুতি নিলাম,আসলে তো আর কান্না না,অভিনয়।হাহাহা।

প্রথমে সাদা কিছু দেখতে পেলাম,এটা কি আকাশ?কিন্তু আকাশতো আরো সুন্দর হয় বলে শুনেছি।
এরপর একজন মহিলাকে দেখলাম,চোখে চশমা পরা,ইনি কে?
শুনেছি বাবু জন্মালে নাকি পরিবারের সবার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।কিন্তু সবাই এমন চুপচাপ কেন?কি হয়েছে?আমার মা কোথায়?

একদিকে তাকিয়ে বিছানায় শোয়া এক অল্পবয়সীকে দেখতে পেলাম।চোখ বোজা।কি সুন্দর মুখ!
এই কি আমার মা?
হ্যাঁ,এইতো আমার মা।স্বপ্নে যেমন দেখেছিলাম,ঠিক তেমন।
মায়ের দিকে হাত বাড়ালাম।এখন তো আম্যের কোলেই ঘুমাবো আমি।
কিন্তু একি!!ওই চশমা পড়া মহিলা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

দেখলাম তিনি আমাকে এক বয়স্ক লোকের হাতে তুলে দিচ্ছেন।পাশে দাঁড়ানো একজন বৃদ্ধ মহিলা।এরা কে?আমার নানা নানি?তাদের মুখ এমন মলিন কেন?আমাকে দেখে তারা খুশি হননি?

শুনলাম নানা নানুকে বলছেন, “আফরোজা,তাড়াতাড়ি কর,জলদি একে পলিথিনে মুড়িয়ে নাও,এখুনি যেতে হবে,লায়লার জ্ঞান হওয়ার আগেই।“

লায়লা কে?আমার মা?আমার মাকে না জানিয়ে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন এরা?
দেখলাম ওরা দু’জন আমাকে নিয়ে একটা সবুজ রঙের গাড়িতে উঠলো,ওই সিএনজি নাকি কি বলে।এরা আমাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে?
গাড়িটা খুব জোরে চলছে,বাতাসে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।এরা কি বুঝছেনা?কেমন নানা নানু এরা?
গাড়িটা মনে হল যেন একটু থামল।চারিদিকে খুব বাজে গন্ধ।এটা কোথায়?
হঠাৎ আমি বাতাসে ভাসতে শুরু করলাম।এরপর মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা।

আমি হাত পা ছুড়তে লাগলাম।কেউ কি আছেন?আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
হঠাৎ একটা বড় গাড়ির শব্দ শুনতে পেলাম,আমার দিকেই আসছে।এরপর আমার আর কিছু মনে নেই।

চোখ খুলে দেখলাম আমি স্বর্গে এসে পরেছি।আবার এখানে কেন?এখন তো আমার মায়ের কোলে থাকার কথা,মায়ের আদর খাওয়ার কথা।

নিচে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা জিনিসকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর অনেক কথা বলছে।কি হয়েছে ওখানে?

এরপর জিনিসটাকে দেখলাম।আরে!ওটাতো আমি!!
সবাই অনেক কথা বলছে।কিছু কিছু শুনতে পারছি।
“আহারে,দুধের বাচ্চা,কি মায়াকাড়া মুখ”।
“কার না কার বাচ্চা,এখন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে কবর দিতে হবে।“

এরা আমাকে নিয়ে এমন করছে কেন?বেওয়ারিশ লাশ কেন বলছে?এইরকম কথা তো আগে কখনো শুনিনি।

আপনারা কি জানেন বেওয়ারিশ লাশ কি?




সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২০
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×