অবাক হয়ে দেখলাম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরোধীতাকারী গোলাম আযমের জানাযায় কয়েক লক্ষ মানুষের অংশগ্রহন। কিন্তু কেন এমন হল? এমনতো হওয়ার কথা ছিল না। কারন গোলাম আযমকে এদেশের সবাই চিনে। মানুষ জেনে শুনে কেন এমন একজন ব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহন করল। গনজাগরন মঞ্চ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রায় ২৫/২৬ টি টিভি চ্যানেল,শতাধিক পত্রিকাসহ দেশী -বিদেশী প্রায় সকল যোগাযোগ ম্ধ্যাম,পথ নাটক, বছরের পর বছর শথ শত সাংস্কৃতিক সংগঠন এই গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যা যা প্রচার করার তা করা হয়েছে। কোন একটি মিডিয়াই তার পক্ষে পজিটিভ কিছু প্রচার না করা সত্বেও মাত্র কয়েক ঘন্টার নোটিশে কেন এত লোক তার জানাজায় অংশগ্রহন করল।
এর কারন একটাই। তা হল একটি দল কর্তৃত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা ,দলীয়করন করা। একাওরের মুক্তিযুদ্ধ কোন একক দলের অবদান না হলেও এটাকে আওয়ামী লীগ তাদের স্বার্থ হাসিলের উপাদান হিসেবে ব্যাবহার করছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তারা তাদের অপকর্মকে ঢাকার চেষ্টা করছেন। এমন এমন অপকর্মকে ঢাকার চেষ্টা করছেন যেগুলো বুঝতে মানুষের বেশী কষ্ট হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি,খুনা-খুনি এসবই তাদের মুক্তিযৃদ্ধের চেতনা। দেশের সচেতন কোন মানুষ এসবের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসলেই বলা হয় আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, আমরা যা ইচ্ছা তা করব। ঐ সচেতন নাগরিককে তখনই ঐ গোষ্ঠার তরফ থেকে বলা হয় সে স্বাধীনতা বিরোধী। এইতো গেল ছাত্রলীগের কথা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও একই অবস্থা । ভাবতে অবাক লাগে আওয়ামী কিভাবে দীর্ঘ একটি বছর কোন ভোট ছাড়াই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে। ৫ই জানুয়ারীর ঐ ইলেকশনের বিরুদ্ধে কেই কোন কথা বললেই বলা হয়- তুই বেটা রাজাকার,কথা কম বল, আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা যা ইচ্ছা তা করবো। ভোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া এটাও নাকি তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
আর এভাবেই মুক্তিযুদ্ধকে, এর চেতনাকে হাস্যকর এক উপাদানে পরিনত করছেন,দিন দিন এটাকে মূল্যহীন করছেন। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ঐ মুক্তিযুদ্ধকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ডুগডুগি তখনই বাজানো হয় যখন ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে এটাকে ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। মরহুম শাহবাগের গনজাগরনকে দিয়ে তেমনিভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য চেতনার ডুগডুগি বাজানো হয়েছিল। যথনই ক্ষমতায় যাওয়া শেষ তখন সেই ডুগডুগি বাজানোও থেমে গেল। আজকে পিয়াস করিম,আসিফ নজরুল, সাংবাদিক নুরুল হক, মতিউর রহমানের মত লোকদের যখন এই সরকার স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার বলে আখ্যায়িত করছেন, তখন রাজাকার শব্দটা অনেক সস্তা শব্দে পরিনত হয়ে যায়। সরকারের অপকর্মের বিরোধীতা করলে যদি রাজাকার অপবাদ শুনতে হয় তখন বাংলাদেশের অনেক মানুষকে বলতে শুনা যায়, এমন রাজাকারের প্রয়োজর আছে।
তেমনি ভাবে বাংলাদেশের অনেক মানুষকে এমনও বলতে শুনা যায়, ৫ই জানুয়ারীর মত ইলেকশনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয় তাহলে আমরা সেই চেতনার পক্ষে নাই। এমন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললে মানুষ হাসবে। আপনাদের কথা জনগন শুনবে না।
সুতারং এমন যদি অবস্থা হয় তাহলে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের জানাযায় লক্ষ কেন, কোটি মানুষ হলেও আশ্চর্ষ কিছু নাই। বিষয়টি অবশ্যই সরকারের বুঝা উচিত। আপনারা মুক্তিযু্েধর ধারক বলে দাবী করেন। আপনাদের অবশ্যই উচিত জনগনের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



