
একটু খানি সুখের নাচন দেখতে যদি চাস-
নীরব গ্রামের ঝিলের ধারে ওই বাড়িতে যাস।
বাড়িতো নয় যেন এক বৃক্ষরাজির বাগান-
ফুল-ফলেতে সুশোভিত ওই বাড়িটির উঠান।
দক্ষিণেতে শিমের মাচা আর সবুজ লাউ-
টুনটুনিতে দাপিয়ে বেড়ায় সাথে ফিঙ্গে ছাও।
একটা দুটো কাঠবিড়ালী কট কট কট ডাকে-
মোরগ মামা ভোরবেলাতে বেজায় জোরে হাঁকে।
তারপরেতে খোলা মাঠে কাজলী ধেণু চরে-
বাছুরটি তার সারাটি দিন পিছু পিছু ঘোরে।
দক্ষিনেতে আরো আছে তাল, সুপুরির বাগ
দক্ষিনের বর্ণনা এবার একটু থাক।।
পূর্বেতে ঠাঁই পেয়েছে কাঁঠাল, তেতুল, আতা
বরই, পেয়ারা, আমড়া নিয়ে বলব এবার কথা।
আমার গাছের বড়ই যে ভাই ইট্টুস বড় হয়,
ডাসা ডাসা পেয়ারা, আমড়া বলার মতো নয়।
তার পরেই আছে একটা আস্ত তালপুকুর
শিং, কই, মলা, পুটিঁ আরও আছে মাগুর।
তালপুকুরের পাড় জুড়ে ওই তাল-খেজুরের সারি-
এই পুকুরেই নেচে বেড়া সাদা হাঁসের ঝাড়ি।
এই তো গেলো তালপুকুর, এবার উত্তরে -
জাম, জামরুল, জাম্বুরাতে বাড়ি রেখেছে ঘিরে।
এক সারিতে আছে আবার আতা, জলপাই, বেল
সুখের নাচন দেখবি তোরা আমার সাথে চল।
পরে সারি ভরে আছে নারিকেলের গাছে
কাঠ কুড়ানির কুটুর কুটুর সারাদিনই বাজে।
আম, কাঠাঁল ছড়ানো আছে বাড়ির আশে-পাশে
হুতুম পেঁচা রাত দুপুরে বাঁশের ঝাড়ে কাশে।
ডালিম, লিচু, কামরাঙ্গা বলিনি তোদের কথা-
এই বলেছি দেখনা চেয়ে রাখিস না মনে ব্যাথা।
পশ্চিমেতে আছে আবার বরাক বাঁশের ঝাঁড়
বক-শালিকের খুনসুটিতে আমার বাড়ি তোলপাড়।
উঠোন জুড়ে হেঁটে বেড়ায় মুরগি, কবুতর ছানা
ওইখানেতে আমার আবার হাত দিতে মানা।
ফুলের মেলায় আছে কেবল বেলী, কামিনী, গন্ধরাজ
আরো আছে জবা, গাদা, বাগান বিলাস।
ভোরবেলাতে এই বাড়িতে শুরু হয় কলরব-
সূর্য্য পাটে গেলে তবেই থামে রে তান্ডব।
আজ ২০শে জানুয়ারী; ভোরবেলায় (৫.২০) যখন অফিসের বাসে করে অফিসে আসতে শুরু করি, তখনই মাথায় ঢুকে যায় প্রথম দুটি লাইন। তারপর মাথা থেকে কি বোর্ডে না আসা পর্যন্ত কেমন অসস্ত্বি হচ্ছিল। এখন মাথা ঠান্ডা। কুল ম্যান কুল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


