
মুভি দেখা আমার আমার অন্যতম প্রিয় নেশা। ইতিহাসনির্ভর সিনেমা পেলে নাওয়া খাওয়া ভুলে যাই। কেন ভুলে যাবনা বলুন? এই সিনেমাগুলো এতটাই প্রাণবন্ত ও বাস্তবিক হয় যে অন্যসব না ভুলে উপায় থাকেনা। অজস্র সিনেমা রয়েছে। কিন্তু ইতিহাসভিত্তিক সিনেমার আবেদন আমার কাছে সবার থেকে উপরে। অসামান্য পেক্ষাপটের কিছু মুভির মধ্যে যুদ্ধ ভিত্তিক মুভি যেমন "লাস্ট সামুরাই", "রিভার ইন কাগাওয়াই", "সেভিং প্রাইভেট রায়ান", "ট্রয়", "ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ড", "ফুল মেটাল জ্যাকেট", "ব্রেভ হারট", "ডাউনফল" আমার প্রিয়।জানি না পাঠকের সাথে মিলছে কিনা তবে এই মুভি গুলো বারবার দেখেও আবার দেখতে ইচ্ছা করে। আজ যে মুভিটি নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি তা প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে জাপান-আমেরিকার যুদ্ধাবস্থার আয়না বললে ভুল হবে না।
"আমেরিকান গেরিলা ইন ফিলিপাইন" মুভিটিতে পরিচালক ফ্রিটজ ল্যাঙ গেরিলা যুদ্ধ, ফিলিপাইনের অসাধারণ গ্রামীণ আবহ সুনিপুণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন। অভিনেতা টাইরন পাওয়েল নেভি অফিসারের ভুমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় সাথে অভিনেত্রী মিচেল প্রিসলির সাবলীল উপস্থিতি সিনেমার সার্থকতা বাড়িয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ second world war ভিত্তিক এই সিনেমায় সুচারু ভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে অক্ষশক্তি জাপানের অগ্রাসী মানসিকতা, যা ইতিহাস সচেতন মানব মনকে পরিচয় করিয়ে দেয় এক হিংস্র জাতির সাথে। যার সাথে বর্তমানের কোন মিল নেই।
ফিলিপাইনের সমুদ্র উপকূলে, ১৯৪২ সালে একটি
আমেরিকান টর্পেডো জাহাজ জাপানী বোমারু বিমানের আঘাতে ডুবে যেতে থাকে। দুঃসাহসী নেভি অফিসার চাক পালমার তার সহচরদের নিয়ে সাগরে ঝাপ দেয়। তারা ভাবতেই পারেনি যে এত বড় একটি জাহাজ, জাপানী বিমানের হাতে এভাবে নাজেহাল হবে। ডুবন্ত সেই আশ্রয়দাতা জাহাজ দেখতে দেখতে হাহুতাশ চলতেই থাকে। চাক তার দল নিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় গ্রাম সিবুতে আশ্রয় নেয়। সেখানে কিছু ফিলিপিনো তাদের থাকার ও খাবারের বেবস্থা করে। ফিলিপিনো দ্বীপে পূর্বে অবস্থানরত কর্নেল বেনসনের সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে এক অপরুপ রুপসী রমণী জেন মারটিনেজর সাথে দেখা হয়। জেন কর্নেল বেনসনের সাথে দেখা করতে চাইলে সদর দরজায় উপস্থিত শস্ত্রধারী সিপাহী বাধা দেয়। জেন জানায় এক গর্ভবতী মহিলার চিকিৎসার খাতিরে কর্নেলের সাথে তার কথা বলা জরুরী। পাশে দারিয়ে থাকা মেজর চাক তার কথা শুনে ফেলে। চাক কর্নেলের সাথে দেখা করায় আগে থেকেই লাইনে দাড়িয়ে থাকা জেনের সাথে তার বাদানুবাদ হয়। চাক কর্নেলের সাথে দেখা হলে কর্নেল তাকে হেড অব কমান্ডের আদেশ পড়ে শুনায়। তাতে বলা হয় যে অতিদ্রুত জাপানিজদের কাছে আত্মসমপন করতে। দুঃসাহসী চাক সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয় না। সে ১৮০০ কিমি দূরে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দিতে চায়। কর্নেল নিরুপায় হয়ে সায় দেয়। কর্নেলের সাথে আলাপ শেষে চাক তাকে জেনের সমস্যার কথা জানায়। জেন কর্নেলের সাথে দেখা করার সুযোগ পায়।
একটি পাল তোলা নৌকা দিয়ে চাক ও তার সাথীরা সমুদ্রে নেমে পড়ে। কোনমতেই একজন আমেরিকান অফিসার ধরা না দিতে মরিয়া। কিন্তু কিছু পথ পাড়ি দিয়ে নৌকা ডুবে যায়। বহুকষ্টে চাক সমুদ্রতটে উঠে আসে। মিগুয়েল নামের এক নৌকা নির্মাতার বাসায় সে আশ্রয় পায়। সুস্থ হয়েই চাক গেরিলাদল গড়ে তুলে। জাপানী বাহিনীর সাথে লড়াই করার জন্য সে প্রস্তুতি নেয়। একদিন জাপানীরা আসে সদলবলে। সংখ্যা লঘিষ্ঠ চাক বাহিনী কিভাবে জাপানীদের সাথে লড়বে? কি রুপ নেবে অপরুপা জেনের সাথে চাকের পরিচিতি? চাক কি পারবে জাপানীদের হাত থেকে নিজে বাচতে, আর স্বামীহারা আদুরে জেনির কি হবে? চাক কি পারবে জেনির সাথে তার স্বপ্ন পুরন করতে?
উত্তর গুলো খুজে পেতে চাইলে জলদি দেখে ফেলুন ঘন্টা দেড়েক দীর্ঘ মুভিটি। আশা করি ভাল লাগবে ইতিহাসখেকো সকলের।
চলবে___
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




