
অংগার
অজস্র বুক পুড়ে যায় বেদনার
জলে অশ্রুত নিরালায়-
জানালার পাশে, ডালিমের ডালে,
ফুলে ফুলে, পাতায় পাতায়।
রক্তজবার চোখে ঘোলাটে পুকুরপাড়ের
রক্তজবার হাসি,
যেন রক্তাম্বর ধিঙ্গী দিগন্ত শীতলা
হয়ে আরো মেলেছে মুখ-
শুষে নিতে আগুনবরণার সবটুকু আঁচ,
ফালি করা জালি লাউয়ের ডগায়
দেখি সমাজের রাজতখতে
কিছু নপুংসক পুরুষশার্দূল!
বাস্তবরূপ
আর এদিকে দেখুন
স্বর্ণের দামে উঠানামা হচ্ছে,
বাজারে তার ভূড়িভূড়ি প্রমাণ।
এ নিয়ে হিসাব গরম,
মজিদের চায়ের দোকানে কতই তর্ক গরল,
এই তো গত শীতে সমাজ খুঁজেছে স্বর্ণকমল,
এই শীতেও তার আরো চড়া দাম।
আফসোস শুধু দক্ষিণ পাড়ার শেফালির বাপের-
শুধু কমেছে ভিরু দুটি চোখের ভানু, বংশের নাম।
নজরে তীর্যক ফলায়
যার বাকিটুকু মান,
শুষে নিতে দমাদম
সমাজ মারছে বাক্যের বাণ,
নিকার খাতার ঘরে ওরা দেখেনি
কাঁপছে দায়গ্রস্ত পিতার নয়ন প্রাণ।
ওরা দেখেছে শুধু পুরুষশার্দূল,
তাই চারিদিকে বাহবা,
মাইকে- "মে তো তান্দুরি চিকেন হু ইয়ার
সাটকালে সাইয়া অ্যালকোহল সে"
সবাই প্রস্তুতি আজ রাতেই
যেন উবলে খাবে হরিণার
সকল মাংসিক ভাঁজ,
ডালি ডালি কোরমা দোপেয়াজ,
এক্ষুণি তাই উল্লাসে উল্লাস, বাহ সমাজ!
এরপরই হৈমন্তীরা যাবতীয়
পেষন বাণে খোট্টা খেতে খেতে
ব্যতিব্যস্ত; অপুদের চোখের
সম্পত্তিরূপে বিশাল সম্পদ আগুন নেভাতে
ক্রমেই পুড়ে পুড়ে অংগার সোনার বদন,
রুপের চন্দন, দেহের স্পন্দন।
প্রশ্নবোধ
স্বার্থপর সেই মানব ইন্দ্রিয়, ক্রমেই
সে নপুংসক কামনার জবাব
নারীর সাধ্য হবে বলেছে কে?
কার এত সাহস! পড়, শোনাও!
তবে কেন? কেন আগুনের দিনে
খোলা জানালা ছাড়া
আর কেউ দেখেনি তাদের অশ্রুত উদাস,
কত রক্ত, কত রক্ত, কত রক্ত,
বুকের বাষ্পায়ন, শেফালিদের বাষ্পায়ন?
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



