দারিদ্র এমন এক বিশ্বব্যাপী সমস্যা যা যুগের পর যুগ আমাদের মাঝে বিরাজমান করছে। গবেষক ও নীতিমালা প্রণয়ণকারীরা এই দারিদ্রকে সমূলে বিনষ্ট করার উপায় বের করার চেষ্টা চালাছেন। কিন্তু অদ্ভুদ কথা হল, গবেষকদের গবেষণা, নীতি প্রবর্তকদের নতুন নতুন নীতি, উন্নয়ন সংস্থাদের উন্নয়ন্মূলক কার্যক্রমের পরও বেশির ভাগ দরিদ্র সমাজ আজও দরিদ্র। কিন্তু বিগত দুই দশক ধরে আমাদের এই সমাজের কোন উন্নতি কেন হল না তা আজও কেউ জানে না। কারা তাদের এই দুর্দুশার জন্য দায়ী? নাকি আমাদের এইসব নীতি বৃহত্তর অর্থেই ব্যর্থ?
দারিদ্রের প্রধান কারন খুব সম্ভবত আমাদের অর্থ ও সম্পদের ত্রুটিপূর্ণ বিতরন পদ্ধতি। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দরিদ্রসমাজের স্বল্প প্রবেশাধিকার এবং আমাদের রাজনীতিতে তাদের কথা বলার অনধিকারই তাদেরকে দারিদ্রের জালে এমনভাবে জড়িয়েছে যে, তারা এ থেকে বেরিয়ে আসা তো দূরের কথা, এর সাথে মোকাবিলা করতেই হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের দেশেও অনেক দেশের মতই দরিদ্র সমাজকে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। আমাদের দরিদ্র সমাজ প্রাথমিকভাবে কোন কাজের জন্য মূলধণ এবং ঋনের সুবিধার জন্য অনানুষ্ঠানিক বিভাগের উপর নির্ভরশীল। আর্থিক ব্যবস্থায় এই আয়ের বৈষম্য আমাদের দেশে আয়ের বৃদ্ধি না করে আর্থিক বৈষম্য ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি করছে।
অর্থ থেকেই অর্থের জন্ম। কারও যদি কোন ন্যায্য ভাগ আগে থেকেই থাকে তবে তার জন্য অর্থের বৃদ্ধি করা অনেক সুবিধাজনক হয়ে উঠে। কিন্তু একজন দরিদ্র মানুষের পক্ষে ন্যায্য ভাগ পাওয়াটাই অনেক দুষ্কর ব্যাপার। তাছাড়া মাইক্রো ক্রেডিট খুব একটা সাহায্য করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে খুব অল্প পরিমাণ মানুষই এর কারণে দারিদ্রতার সীমাকে পার করে আস্তে পেরেছে। বৈদেশিক রেমিটেন্সের অন্তর্বাহ দারিদ্রতা হ্রাসে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। শুধু তাই নয় এটি আমাদের দেশের মানুষদের নিজের ব্যবসা করার মূলধনেরও যোগান দিয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক এই বর্ধমান ব্যবসাকে আরো সম্প্রসারিত করতে অন্যতম ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন আরও বেশী উদ্যোক্তা ও নৈতিক সাহায্যের। কেননা ঋনের মাধ্যমে দারিদ্রতাকে হারানো সম্ভব নয়। একে হারাতে হলে প্রয়োজন নতুন কর্মসংস্থান, আয়ের নতুন উপায়; এক কথায় উদ্যোক্তার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

