
আচ্ছা আমরা যখন পিচ্চি ছিলাম, সেই সময়ের উদ্ভট খেলা গুলোর কথা কি আমাদের সবার মনে আছে?
তোমরা অনেকেই ভুলে গেলেও আমার অনেক গুলার কথা মনে আছে। কারণ আমি তোমাদের মত ওতটা বড় হয়ে যাই নি। ওহ! একটি কথা এখানে পিচ্চি বলার কারণ হল আমি অনেক ছোট বেলার কথা বলেছি। ৪ বছর থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যের খেলা গুলো। অনেকেরই মনে থাকার কথা, আবার ভুলে যাবারও কথা। আমি আমার গুলো বলি, যেগুলা এখনও ভুলিনি।
আমি যখন একদমই পিচ্চি ছিলাম, তখন খেলতাম মাটি খেলা। এইটা এমন একটা খেলা ছিল যেখানে নরম মাটি কাঁঠাল পাতার উপরে দিয়ে পাতা রোদে রেখে দিতাম পাতার মত আর একটি পাতা বানানোর জন্য। আমি এবং আমার ছোট বোন দুই জন থাকতাম প্রতিযোগী আর আম্মু হত বিচারক। আম্মু যা করত তা হল আমাকে কানে কানে বলত যে আমি জিতেছি কিন্তু ছোটকে এটা বলা যাবে না, যদি বলি তাহলে হেরে যাব। মজার কাহিনী হল আমি আজ পর্যন্ত বলি নি।
ছোটকাল এ ভাইয়াদের দেখতাম ক্রিকেট খেলত গরমের সময়ে, ফুটবল খেলত বৃষ্টির সময় আর শীতের সময় খেলত ব্যাডমিন্টন। ৩ টি খেলাতেই অংশগ্রহণ করতাম হা হা,,, কিভাবে করতাম বলছি, ফুটবলে দাড়াতে হত গোলকপিার এর পিছনে , ক্রিকেটে উইকেটকিপার এর পিছনে আর ব্যাডমিন্টন এ ৩য় খেলোয়াড় অর্থাৎ কোন বাসায় ফেদার ঢুকে গেলে আনার দায়িক্ত্ব।
এলাকার সবাই মিলে আমরা টুকাটুকি খেলতাম, খেলাটা এমন ছিল যে একজন বসে থাকত অন্য একজন তার চোখ ধরে রাধত। পিছে যে দাড়িয়ে থাকত সে ছদ্ম নাম ধরে ডাকত একটু দূরে দাড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েদের। তারা এক এক জন করে আসত আর মাথায় টুকা মেরে যেত। যে বসে থাকত তাকে বলতে হত যে কে টুকা মেরেছে। পুরাই আজব এক খেলা।
তারপর কানামাছি খেলতাম। এই খেলা অবশ্য অধিকাংশ মানুষেরই জানার কথা। একজন এর চোখ কাপড় অথবা রুমাল দিয়ে বেধেঁ দিয়ে বাকি সবাই তার চারপাশে দৈাড়াদৈাড়ি করত। সে যাকে ধরতে পারত তারপর তার চোখ বেধে দেওয়া হত। এই ভাবে মজা চলতেই থাকত।
আরও একটা খেলা ছিল মোরগ লড়াই, এই খেলাটি ছেলেদের। খেলাটি এক পায়ে খেলতে হত। এই খেলায় এক হাত পিছনে দিয়ে অন্য হাত ধরে, সেই হাত দিয়ে এক পা ধরতে হত, তারপর এক পা দিয়ে লাফাতে লাফাতে অন্যদের ফেলাতে হত, শেষ পর্যন্ত যে টিকে থাকত সেই জয়ী হত। আমি মাত্র দুইবার জিততে পেরেছি এই খেলাতে। যারয একটু শক্তিশালী ছিল তারা এই খেলায় অনেক ভাল করত। আমি দূর্বল ছিলাম না।
সবথেকে প্রিয় খেলা ছিল পলাপলি, যা এখন হাইড এন্ড সিক নামেই বেশি পরিচিত। একজনকে ঠিক করা হত যে বাকি সব পালিয়ে থাকা ব্যাক্তিদের খুঁজবে। সে প্রথমে যাকে খুঁজে পেত সে আবার খুঁজত বাকি সবাইকে। খেলাটা এই জন্যে ছিল অনেক মজার। বেশিরভাগ সময় আমরা সন্ধায় খেলতাম এটি।
শৈশবের দিন গুলো হয়তো ফিরে পাওয়া যাবে না আর। কিন্ত মন তো শুনতে চাই না কিছু, প্রতি মূহুর্তে ফিরে পেতে চাই ঐ পিচ্চি কাল টাকে। হ্যা, শৈশব তুমি আমার ভালবাসা। জীবনের প্রথম ভালবাসা তুমি। তাইতো তোমাকে ফিরে পেতে চাই আবার বার বার।
ছবি : সংগ্রহিত
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




