somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস যোগ্য ঢাকার জন্য খাল গুলো বাঁচানো জরুরী

০২ রা মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা বহু প্রাচীন নগরী । এর  পত্তন হয়েছে চারশো বছরেরও আগে । এটি গোড়া থেকেই ছিল প্রকৃতির স্নেহধন্য কন্যা । চারদিকে নদী বেষ্টিত চমৎকার একটি বাসোপযোগী ভূখন্ড । এর বুক চিড়ে প্রবাহিত ছিল পঞ্চাশেরও বেশি খাল । কালের আবর্তনে এটি আজ স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী । এর ছোট্ট বুকে প্রায় দেড় কোটি লোকের বাস । হালে তাই এটি মেগা সিটি ।
দুঃখের বিষয় এই মহানগরীর মানুষ বাসের উপযোগী উপাদান গুলো অযত্নে অবহেলায় কিছু এর মাঝেই হারিয়ে গেছে, বাকীটাও হারাতে বসেছে । ঢাকার চারদিক ঘিরে আছে বুড়িগংগা, তুরাগ, শীতলক্ষা আর বালু নদী । নদীগুলোর বেহাল অবস্থা । ভয়াবহ দূষন আর বেদখলে এগুলো মৃতপ্রায় । এদের তলদেশ ভরে গেছে কঠিন বর্জে । দূষনের আধিক্যে পানি কালচে বর্ণ ধারন করেছে । সাধারন কোন কাজে এই পানি ব্যাবহারের উপযোগী নয় । পান করারতো প্রশ্নই উঠেনা ।
ঢাকার বুকে একসময় পঞ্চাশটি খাল প্রবাহিত ছিল । যার মাঝে তেতাল্লিশটি খাল ছিল বর্তমান মেট্রপলিটন এলাকার মধ্যে  । এর কয়টি আজ অবশিষ্ট আছে ?
২০০৪ সালে সরকারী ভাবে এই বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় । কমিটি কাগজে কলমে তেতাল্লিশটি খালের মধ্যে ২৬ টি উদ্ধারযোগ্য বলে শুপারিশ করে । এই খাল গুলিও সম্পূর্ণ অথবা আংশিক ভর্তি অথবা বেদখল অবস্থায় ছিল । এগুলো দখল মুক্ত করে চালু করার জন্য ২০০৪ সাল থেকেই ঢাকা ওয়াসা অভিযান পরিচালনা করে আসছে । বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই অভিযান যথেষ্ট বেগবান হয় । বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্বাবধানে বিভিন্ন সংস্থা যেমন ঢাকা ওয়াসা, রাজউক, ডিসিসি, পুলিশ বিভাগ ও জেলা ভূমি অফিসের সমন্বয়ে কাযর্ক্রম গৃহীত হয় । ফলে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কিছু অবসান হয় এবং বেশ কিছু সংখ্যক পাকা কাঁচা অবৈধ স্থাপনা, কোন কোন খালের উপর দিয়ে নির্মিত রাস্তা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয় । সেসময়ে খাল উদ্ধার ও চালু করার কাজটি যথেষ্ট বেগবান ছিল । এতে অনেকগুলো খাল দখল মুক্ত করে চালু করা সম্ভব হয় । খালের উপর নির্মিত বহু সংখ্যক অস্থায়ী স্থাপনা , তিন চার তলা ভবন , রাস্তা ইত্যাদি অপসারন করা হয় । বেশ কিছু খালের খালের সীমানা নির্ধারন করে কংক্রিটের পিলার স্থাপন করা হয় । খালে ঘর বাড়ীর বর্জ্য সমূহ নিক্ষেপ না করার অনুরোধ সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগানো হয় । তবে এসবের দীর্ঘ মেয়াদী ফলাফল পাওয়া যাচ্ছেনা । এর কারন হচ্ছে পূণরায় বেদখল এবং খাল গুলোতে প্রতিনিয়ত ব্যাপক হারে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ । সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলো মাঝে মাঝে খাল অবৈধ দখল মুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করছে বটে কিন্তু কোন লাভ হচ্ছেনা । অধিকন্তু খালের যতটুকু প্রবাহের জন্য অবশিষ্ট থাকে তাও নিত্য আবর্জনা নিক্ষেপের ফলে ভরাট হয়ে যায় ।
মহানগরীকে বাসযোগ্য রাখতে খালের গুরুত্ব অনেক । বাংলাদেশে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় । এর পরিমান প্রায় ২০০০ মিলিমিটার । কখনো কখনো একটানা কদিন ধরে ২০০/৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও হয়ে থাকে । বিদ্যমান খালগুলোর মাধ্যমেই এই পানি নদী পযর্ন্ত পৌঁছে । ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা ওয়াসার ১০.২৫ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট ও ২৮০ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন বিদ্যমান আছে । যা রাস্তা ঘাট মহল্লার পানি বহন করে খালগুলোতে পৌঁছে দেয় । খালের মোট দৈর্ঘ ৬৫ কিলোমিটার । খাল গুলো এই পানিকে নদীতে নিয়ে যায় । উল্লেখ্য, নদীর পানির লেভেল নিচু হলে খালের পানি সরাসরি নদীতে পতিত হতে পারে । কিন্তু বন্যা বা অতি বর্ষনে নদীর পানির লেভেল বেড়ে গেলে নগরীর প্রান্ত সীমাগুলোতে মোট চারটি পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পানিকে পাম্প করে নদীতে অপসারণ করা হয় । এসময় নদীর পানি যাতে উল্টা খালের মাধ্যমে ভেতরে ঢুকে না পড়ে সেজন্য পাম্পিং স্টেশনে খালের মুখের স্লুইস গেটগুলো বন্ধ রাখা হয় । পাম্পিং স্টেশন গুলো হল কল্যাণপুর, ধোলাইখাল, রামপুরা ও গোড়ান চটবাড়ী । এর মাঝে প্রথম তিনটি ঢাকা ওয়াসার এবং শেষেরটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর । এই হচ্ছে মহানগরীর বৃষ্টির পানি অপসারনের পদ্ধতি । এখানে খালের গুরুত্ব অপরিসীম । খাল গুলো যথাযথ সচল না থাকার কারনে প্রতি বছর প্রবল বর্ষায় নগরীতে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটে এবং জন দূর্ভোগের কারন হয় ।
বিগত এক দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে খাল বেদখল ও ভরাটের প্রকৃয়া ও উদ্ধার কাযর্ক্রম চলছে, তবে স্থায়ী কোন সমাধানে পৌঁছানো যাচ্ছে না । কিন্তু এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধান যে জরুরী এতে কোন দ্বিমত নেই ।
উল্লেখ্য, নগরীর ভেতরের পানি খাল গুলোর মাধ্যমেই নদীর দিকে প্রবাহিত হয় । খাল গুলোর ধারন ক্ষমতা যত বেশি হবে এবং প্রবাহ যত বাধাহীন হবে পানি তত দ্রুত সরে যাবে । ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবেনা এবং জনভোগান্তি হ্রাস পাবে । তাই ঢাকার বুকের বিদ্যমান খাল গুলো দখলমুক্ত ও চালু রাখা অতীব জরুরী । বলা বাহুল্য, জনগনের সম্পৃক্ততা ছাড়া এই ধরনের লক্ষ্য অর্জন অন্তত আমাদের দেশে সম্ভব নয় । কারন হল ক্ষুদ্র হলেও সাধারন নাগরিকবৃন্দের একটি অংশই খাল অবৈধ ভোগ দখল করে থাকে । খাল সংলগ্ন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করে থাকে । এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কারন মানুষের বাসা বাড়িতে প্রতিনিয়ত আবর্জনা জমা হবে এবং তা কোথাও না কোথাও ফেলতে হবে । এসব আবর্জনা ফেলার জায়গা পাওয়া মানুষের নাগরিক অধিকারও বটে । গৃহস্থালী এসকল বর্জ সংগ্রহ ও অপসারনের দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের । সংস্থাটি তা করেও থাকে । কিন্তু তাদের  সেবা কাযর্ক্রম যথেষ্ট নয় । বিশেষতঃ খাল তীরবর্তী কিছুটা অনুন্নত এলাকায় তাদের বর্জ অপসারন সেবা প্রায় অনুপস্থিত । ফলে এসব এলাকার মানুষ নিরুপায় হয়ে বর্জসমূহ খালে নিক্ষেপ করে থাকে । ডিসিসি যদি এসব এলাকায় বর্জ সংগ্রহ সেবা কাযর্ক্রম সম্প্রসারন করে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে চাহিদা অনুযায়ী বর্ধিত করে তবে তা যথেষ্ট ফলপ্রসূ হবে । মানুষ জন অতি সহজেই ডাস্টবিনে বর্জ ফেলতে পারবে । খালগুলো রেহাই পাবে বর্জ নিক্ষেপের হাত থেকে । এতে খালগুলোকে সারা বছরই পূর্ণ মাত্রায় চালু রাখা সম্ভব হবে ।
ডিসিসির যে সকল ওয়ার্ডের ভেতর দিয়ে খালগুলো গেছে সেসবে স্থানীয় কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একটি করে নাগরিক কমিটি গঠন করা যেতে পারে । যাতে এলাকার সচেতন ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভূক্ত থাকবেন । যারা খালগুলো অবৈধ দখল মুক্ত রাখতে ভূমিকা নেবেন এবং একই সাথে খালে বর্জ নিক্ষেপ যাতে না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখবেন । এই ব্যবস্থা করা গেলে খালগুলো দখল মুক্ত ও সচল রাখা অবশ্যই সহজ হবে ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×