somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোলট্রি শিল্পঃ সম্ভাবনার সোনালী দিগন্ত

১০ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পোলট্রি একটি অতি প্রয়োজনীয় শিল্প । সারা বিশ্বের সব দেশের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ । বর্ধিত জনগোষ্ঠির আমিষের চাহিদা পূরণে বৈজ্ঞানিক উপায়ে অধিক হারে মুরগী হাঁস উৎপাদনের বিকল্প নেই । বাংলাদেশের জন্য এটি আরো বেশি প্রজোয্য । এর ছোট ভূখন্ডে গাদা গাদি লোক বাস করে । এত বেশি সংখ্যক মানুষের চাহিদা পূ্রণে আধুনিক পদ্ধতিতে পোলট্রি ফার্ম পত্তন ও বিস্তার সময়ের জোরালো দাবী । এটি শুরুও হয়েছে । সন্দেহ নেই এটি এদেশের একটি সম্ভাবনাময় ও বিকাশমান শিল্প । গত দুই দশক ধরে এর বার্ষিক প্রায় ২০% প্রবৃদ্ধি ঘটছে । নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ফার্ম পরিচালনা করেও বাজারে স্বল্প মূল্যে মুরগী ও ডিম সরবরাহ করছে দেশীয় পোলট্রি ফার্মাররা । বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের বার্ষিক ৫৬ কেজি মাংস ও ৩৬৫ টি ডিম গ্রহন করা প্রয়োজন । কিন্তু বাংলাদেশে জনপ্রতি বছরে ১১.২৭ কেজি মাংস ও ৩০ টি ডিম গ্রহন করে থাকে । দেখা যাচ্ছে এটি প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম । ফলে মানুষ জন পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে । বাংলাদেশের অসংখ্য ভাগ মানুষ প্রোটিন, আয়োডিন সহ নানারকম পুষ্টি স্বল্পতায় ভুগে থাকে । পোলট্রি ফার্ম কম মূল্যে মুরগী ও ডিম সরবরাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । মাছ ও গবাদী পশু উৎপাদনে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে । অপরপক্ষে পোলট্রির মাংস ও ডিম উৎপাদন অনেক সহজ ও কম সময় সাপেক্ষ । বাংলাদেশ একটি ঘণ বসতীপূর্ণ দেশ । এর চাষযোগ্য জমির পরিমান ক্রমহ্রাসমান । এর পরিমান প্রতি বছর শতকরা এক ভাগ করে কমে যাচ্ছে । এমতাবস্থায় ভূমি ব্যবহারের নতুন কৌশল উদ্ভাবন প্রয়োজন । এক্ষেত্রে পোলট্রি শিল্প বিকাশ কম ভূমির অধিক ফলদায়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে । এর মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার থেকে বর্ধিত সুবিধা হাসিল করা যেতে পারে । অধিকন্তু পোলট্রি থেকে বায়ো গ্যাস ও জৈব সার তৈরী করা সম্ভব । যা দেশের জ্বালানীর চাহিদা পূরনে ভূমিকা রাখতে পারে । বিকাশমান এই শিল্পটিতে নব্বই এর দশকে বিনিয়োগের পরিমান ছিল ১৫০০ কোটি টাকা । যা বর্তমানে ১৫০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে । শুধু তাই না এতে ৬০ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ধীরে ধীরে অগ্রসরমান । জনপ্রতি আয় অতীতের তুলনায় বেশ বেড়েছে । মাংস ও ডিমের চাহিদা এরই সাথে বাড়ছে । সাম্প্রতিক কালে দুধের চাহিদা ৬% ও ডিমের চাহিদা প্রায় ৫% বেড়েছে । আশির দশকে বিদেশী উন্নত জাতের মুরগী ও এর ডিম গ্রহনে মানুষের মাঝে যে মনস্তাত্বিক বাধা ছিল তা অনেকাংশে দূর হয়েছে । বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে ফার্মের ডিম ও ব্রয়লার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে । তাই পোলট্রি শিল্পের বিকাশে আরো গতি সঞ্চার প্রয়োজন । উল্লেখ্য এটি সহজ ও এতে প্রাথমিক পূঁজির প্রয়োজন কম । বৃহৎ উদ্যোগের পাশাপাশি গ্রামীন জনগন ছোট আকারেও এটি করতে পারে । তবে পোলট্রি ফার্ম পরিচালনায় খামারীরা বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে, যা দূর করা দরকার । নিকট অতীতে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে সৃষ্ট মড়কে এই খাতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল । যা ছিল সংশ্লিষ্ট খামারীদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা । এতে তারা কোন জায়গা থেকেই আর্থিক বা কোনরূপ সহযোগিতা পায়নি । এরূপ চলতে থাকলে উদ্যোগী খামারীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে । যা কখনো কাম্য নয় ।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার রিপোর্টে দেখা যায় বাংলাদেশ ও অপরাপর পাঁচটি দেশে H5N1 ভাইরাসের সংক্রমন রয়েছে । যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরন না করা ও সময়োপযোগী ভ্যাকসিনেশনের অভাবে এই শিল্পটি যথেষ্ট হুমকীর মুখে রয়েছে । এছাড়া আরো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে যা পোলট্রি শিল্প বিকাশের অন্তরায় । এসব প্রাণীর খাবার প্রস্তুতের জন্য কিছু উপাদান বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয় । এর উপর আরোপিত ট্যাক্সের পরিমান কমানোর দাবী রয়েছে খামারীদের । খামার গুলোতে সহজ বিদ্যূৎ সংযোগ প্রদান প্রয়োজন । পোলট্রি খামারীদের জন্য সুবিধাজনক হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারন করা যেতে পারে । সরকারীভাবে বা যে কোন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে খামারী ও খামারে কর্মরত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে । স্বল্প মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাক্সিনেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে । বাংলাদেশের অন্যান্ন কৃষি পণ্যের মত এই ক্ষেত্রেও উৎপাদনকারী ও গ্রাহকের মাঝে মধ্যস্বত্তভোগীরা অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে থাকে । এই ক্ষেত্রে প্রশাসনিক মনিটরিং চালু করা ও মূল্য নির্ধারন করে দেয়া যেতে পারে । উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজীকরনের পাশা পাশি বাজারজাত করনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল শ্রেণীর সুবিধা প্রাপ্তিতে সাম্য বজায় থাকা জরুরী । খামারীরা যাতে লাভবান হতে পারে এবং ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন । স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থা থাকা দরকার । এসব শিল্পের জন্য বীমার ব্যাবস্থা চালু করতে হবে । এ বিষয়ে সরকারী বীমা সংস্থাকেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করা দরকার ।
লেয়ার ও ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৩০% করে বৃদ্ধি পাচ্ছে । নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এটি অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক ।
পোলট্রি শিল্পের সঠিক ও কাংখিত বিকাশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগালে খরচ কমে আসবে ও মান মম্মত মাংস ও ডিম উৎপাদন সহজ হবে । এই লক্ষ্যে পোলট্রি শিল্পে উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগানোয় উবুদ্ধ করনের জন্য প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনী ও সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আমদানী ও রপ্তানীর মাঝে যথেষ্ট ভারসাম্যহীনতা বিদ্যমান রয়েছে । বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে রপ্তানী আয় বৃদ্ধির জন্য সরকারও সচেষ্ট । এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী ও সহজ খাত হতে পারে পোলট্রি শিল্প । যদি এই খাতে যথেষ্ট সহযোগীতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হয় তবে এ থেকে দেশীয় আমিষের চাহিদা পূরণের সাথে সাথে বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে । দেশের অদক্ষ কর্মহীন বিশাল জনগোষ্ঠির একাংশকে সামান্য প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করে দেয়া যেতে পারে । যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে যথেষ্ট গতিশীলতা আনবে । উৎপাদনমুখী ও সহজ এ শিল্পটি বিকাশের সকল সুযোগ এদেশে বিদ্যমান । মুরগী ও ডিমের চাহিদাও দেশ ও বিদেশে যথেষ্ট । ফলে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি সহজ সুযোগ । এ সুযোগ কাজে লাগানো উচিৎ ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×