somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আসিফ শাহনেওয়াজ তুষার
আমি সাধারনের মাঝে অসাধারণ খুজেঁ বেড়াই। হেয়ালি একটা জিনিসের মাঝেও শিক্ষনীয় কিছু খোজার চেষ্টা থাকে । জানিনা কতটা পারি, তবে চেষ্টা করে যাই অবিরাম।

যেমন দেখলাম গোপালগঞ্জ জেলা:

২৩ শে মে, ২০১৬ বিকাল ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত পনের দিন যাবৎ গোপালগঞ্জ অবস্থান করছি। জেলাটির শহর থেকে শুরু করে ঘুরে বেড়িয়েছি একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। যেদিন প্রথম আসি, সেদিনই বিকালবেলা গেলাম শহরের প্রাণকেন্দ্র "লঞ্চঘাট" নামক জায়গায়। এসে প্রথমেই খটকা লাগলো,

প্রথমত: জায়গার নাম লঞ্চঘাট হলেও আশেপাশে লঞ্চ তো নেইই, কোন নদীও নেই। আছে শুধু একটা খাল।

দ্বিতীয়ত: জাতীয় সংসদ ভবন ঘেষা চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় এসে পড়লাম নাতো? কারণ জিয়ার কবরে যাওয়ার জন্য যেই স্ট্রাকচার এর ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে, এখানকার ছোট খালের উপর অনেকটা সেরকমই ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে এখানে।। তাও আবার একাধিক। ব্রীজের ওইপাশেই হলো গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম। এখানে থাকা সুবিশাল ফ্লাড লাইটের আলোতে দিনে রাতে সবসময়ই খেলা চালানো যায়। যে লাইটগুলো এখানে মিরপুর স্টেডিয়াম এর আবহ এনে দিয়েছে। এরকম আধুনিক একটা স্টেডিয়াম জেলাভিত্তিক শহরে আর দ্বিতীয়টি আছে কিনা আমার জানা নেই। এই স্টেডিয়াম এর পাশেই সুবিশাল জিমনেসিয়াম এবং সুইমিংপুল কমপ্লেক্স । যার আয়তন শেরপুর এর পৌর পার্ক এর সমান। সেখান থেকে কিছুটা দুরেই হলো হেলিপ্যাড। যেখানে একসঙ্গে তিনটা হেলিকপ্টার নামার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে।। নিরাপত্তাজনিত কারনে এই হেলিপ্যাড এর তিনদিকেই পানি শুধুমাত্র একদিকে পাকা করা রাস্তা চলে গিয়েছে হেলিপ্যাড এর দোরগোড়ায়। এরকম হেলিপ্যাড আমি টুঙ্গিপাড়া এবং কোটালীপাড়াতেও দেখেছি।

এতো শুধু গেল একটা জায়গার বর্ননা। সারা জেলার প্রতিটি আনাচে কানাচে নানা ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং চোখে পড়ে। সেগুলোর স্ট্রাকচার যেমন অনেক আধুনিক, তেমনি আয়তনও অনেক বিশাল। জেলার ৯০% রাস্তাঘাট এমন উন্নত যা আমরা শেরপুর কিংবা ময়মনসিংহ বাসী কল্পনাও করতে পারিনা।। অনেক জায়গাতেই রাস্তার পাশে টাইলসে মোড়ানো বসার জন্য সুন্দর সুন্দর জায়গা। মোটকথা: দিয়ে যেকোন বিভাগীয় শহরগুলোও গোপালগঞ্জের চাইতে অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে আছে। এখানকার মানুষদের মুখেই শুনেছি, কোন মন্ত্রণালয়ে যদি গোপালগঞ্জ জেলার কোন কাজ বা প্রকল্প যায়, তা সবার আগে পাশ হতে বাধ্য। সম্প্রতি কিন্তু গোপালগঞ্জে রেলওয়ে নির্মাণ হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ এই প্রকল্পে কাজ করছে। উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ চলছে গোপালগঞ্জে।

কিন্তু এতো সুযোগ সুবিধা থাকার পরও এদের সংস্কৃতি, আচার আচরণ অন্যান্য জায়গার চেয়ে অনেক পিছিয়ে।। এসব ব্যপারে পিছিয়ে থাকলে কি হবে, নেতাগিরিতে আর দাপটে কিন্তু এরা সবসময়ই আগে। দেশের যেকোন জায়গায় গিয়ে "আমি গোপালগঞ্জের লোক " বললেই যে এক্সট্রা খাতির পাওয়া যায়, তা এরা বুঝে গেছে।। গত তিনমাস আগে পিরোজপুর এর নাজিরপুরের একজন গোপালগঞ্জ যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে বলেছিলেন, "জানেন ভাই, কাগজছাড়া গাড়ি নিয়েও এই রাস্তায় কখনো আটকে পড়িনা। কখনো যদি মোবাইল কোর্ট অথবা পুলিশ আটকায়, শুধু বলি গোপালগঞ্জ যাচ্ছি। সাথে সাথেই ছেড়ে দেয়।

পুনশ্চঃ আমি গোপালগঞ্জ এর উন্নতির বিরোধিতা করছিনা। শুধু এটাই চাওয়া দেশের প্রতিটি জেলায় যেন সুষম উন্নয়ন হয়। কারন সরকার গঠন করতে গেলে কিন্তু ৬৪ জেলার মানুষের ভোটই লাগে। (৫ই জানুয়ারির নির্বাচন এর কথা ভিন্ন) গোপালগঞ্জে যে উন্নয়ন হচ্ছে , তার ৫০% যদি অন্য কোন জেলায় হয়, সেই জেলাটি সব দিকদিয়েই স্বয়ং সম্পুর্ন হয়ে যাবে।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×