পাদপীঠে আলো জ্বালিয়ে বাতিওয়ালার অন্ধকারে থাকাটা মানব সভ্যতার এক আশ্চর্য খেয়াল । অপরাপর অনেক সৃজনশীল সত্তার মত লেখক সত্তাও এর ব্যাতিক্রম নয় ।অমর সব সৃষ্টির জন্ম দিলেও দিনশেষে বিরহ এবং প্রত্যাখ্যানেই তারা সরস্বতীর বরপুত্র হওয়ার মর্যাদায় আসীন হন ।যবনিকাপাতে করুন ব্যাধির আশঙ্কা সত্ত্বেও প্রেমই নীতিভ্রষ্ট সত্তাকে আশ্রয় দিয়ে থাকে ।
ইউরোপীয় সাহিত্যর ভোরের পাখি দান্তে ডিভাইন কমেডি রচনা করে স্বর্গ ও নরক প্রদক্ষিণ করেছেন ।বেঁচে থেকেই অসহ্য নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন বলেই হয়ত নরক রচনায় তার এত মুন্সিয়ানা । ডিভাইন কমেডি রচনার প্রাক্কালে বিয়াত্রিচ নামী এক যুবতীর প্রতি তিনি প্রেম উপলব্দি করেন আর এই অনুক্ত প্রেমকে তিনি জীবনের অন্যতম উপলব্দি বলে বিবেচনা করেন। তার ভাষায় -'' আমার মাঝে আমার চাইতেও এক শক্তিশালী দেবতার আবির্ভাব হয়েছে যা আমায় সারাজীবন নিয়ন্ত্রণ করবে ।'' কিন্তু এই বিয়াত্রিচের সাথে তার কেবল দুইবার সাক্ষাত হয়েছিলো এবং এটাও অস্পষ্ট যেঁ বিয়াত্রিচ তার এই প্রবল আবেগ নিয়ে ভাবার সামান্যতম অবকাশ পেয়েছিলেন কিনা কেননা জীবনে তিনি বিয়াত্রিচকে পাননি কিংবা পাবার চেষ্টাও হয়ত করেননি। বিয়াত্রিচের বিয়ে হয় সায়মন নামি এক যুবার সাথে।বিয়াত্রিচের বিয়ে দান্তের প্রেম আরও বাড়িয়ে দেয় ।পার্থিব মানবী থেকে বিয়াত্রিচকে তিনি ঐশ্বরিক মানবীতে রুপান্তরিত করেন ।মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে বিয়াত্রিচের মৃত্যু হলে দান্তে নিজেও এক ঐশ্বরিক সত্তায় পরিনত হন আর রচিত হয় তার অমর সৃষ্টি ডিভাইন কমেডি । যেখানে তিনি স্বর্গ ও নরক প্রদক্ষিণ করেন আর স্বর্গে প্রদক্ষিণ কালে বিয়াত্রিচকে পুনরায় আদর্শরুপে উপলব্দি করেন কেননা বিয়াত্রিচ হচ্ছেন দান্তের Divine grace .
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



