somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইহুদী খৃষ্ট্রান সংস্কৃতি ও আমরা, পর্ব-৩

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিষয়: মাসজিদে অপ্রয়োজনীয় অর্থ খরচ করা।
-----------------
লেখার প্রথমে আমরা কিছু হাদিস উল্লেখ করতে চাই। তাহলে লেখা পড়ার পর কিছু পাঠকের মনে যে প্রশ্নের উদ্রেক হবে তা হাদিসগুলো জানলে নিজেরাই উত্তর করতে পারবেন বলে আশা করি।

১. আলী (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন-
مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى
এমন একটি সময় আসবে যে তখন লোকেদের মাসজিদ চকচক করবে কিন্তু তাতে হেদায়েত থাকবে না।
(বাইহাকীর সূত্রে মিশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল ইলম বা জ্ঞান অধ্যায়, ৩য় পরিচ্ছেদ)

২. আনাস ইবনে মালিক (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন-
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ
কেয়ামত ততক্ষন হবেনা যতক্ষন পর্যন্ত মানুষেরা মাসজিদের চাকচিক্য নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে না।
(সুনানে আবুদাউদ, কিতাবুস সলাত বা নামায অধ্যায়, হাদিস নং-৪৪৯)

৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন-
أَرَاكُمْ سَتُشَرِّفُونَ مَسَاجِدَكُمْ بَعْدِي، كَمَا شَرَّفَتِ الْيَهُودُ كَنَائِسَهَا، وَكَمَا شَرَّفَتِ النَّصَارَى بِيَعَهَا
আমার পরে তোমরা তোমাদের মাসজিদগুলোকে ইহুদীদের উপসানলায় এবং খৃষ্ট্রানদের গীর্জার মত সুউচ্চ আট্টালিকায় পরিণত করবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, আবওয়াবুল মাসাজিদ ওয়াল জামায়াত বা মাসজিদ ও জামায়াত অধ্যায়, মাসজিদ সৌন্দর্য মন্ডিত করা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং-৭৪০)

উপরোক্ত ৩টি হাদিসের আলোকে আমরা একথা বলতে পারি যে, হেদায়তশূন্য মাসজিদ হবে, মানুষ মাসজিদ নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত ইহুদী-খৃষ্ট্রানদের পথে হাটবে।
দু:খজনক হলেও সত্যি আজ যারা অধিকাংশ মাসজিদ কমিটির সদস্য আছে এরা গন্ড মূর্খ। ইসলাম ও মাসজিদের মূলনীতি সম্পর্কে এরা কিছুই জানেনা বললে ভুল হবেনা। যার কারনে মাসজিদ সম্পর্কে যে হুশিয়ারী রাসূল (স) দিয়েছেন আমরা সে সম্পর্কে সচেতন না হয়ে বরং সেই খাদের দিকেই গন্তব্য নির্ধারণ করছি।

পাঠক ভেবে দেখবেন, রাসূল স. এক পরিবারেই একদিনে ৯০০ উট দিয়েছেন, বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষ্যে শতশত উট যবেহ দিয়েছেন, সাহাবীরা (রা) নিজের জীবনের উপার্জিত সব সম্পদ দান করেছেন আল্লাহর রাস্তায়, ওসমান (রা) এর মত দানবীর পৃথিবীতে আসবে বলে মনে হয়না, যেই সমাজ ছিল ইসলামের স্বর্নযুগ, যেই যুগ আমাদের অনুসরনীয় সেই সমাজেও তো মাসজিদ ছিল। কোই তাদের মাসজিদে কি কোটি বা লক্ষ টাকা খরচ করে গম্বুজ তৈরি হয়েছিল? লক্ষ টাকার মেম্বর ছিল? হাজার টাকার খাটিয়া ছিল? অথচ আমাদের সমাজে কত মানুষ অভাবগ্রস্থ, ঋণগ্রস্থ, সামান্য কিছু টাকা হলে পরিবার নিয়ে চিন্তামুক্ত হয়ে মাসজিদে আসতে পারে। স্বয়ং যে মাসজিদে লক্ষ টাকার মিম্বর সেই মাসজিদের ইমামের বেতন দুইহাজার টাকা আর মুয়াজ্জিনের ৭০০। দায়িত্বে একটু অবহেলা হলেই সেই টাকা কথা শুনিয়ে উসুল করে নিতে পাকা মাসজিদের কমিটিতে থাকা আবু জাহেল।

পরিস্কার পরিছন্ন আর দীর্ঘদিন যেন ভাল থাকে সেই লক্ষ্যে কিছু টাকা খরচ করা যেতেই পারে। তাই বলে কোটি টাকার গম্বুজ আর লক্ষ টাকার মিম্বর? এ টাকার হিসাব যেন মহান আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে সহজে না ছাড়ে সেই দুয়াই করে যেতে চাই।
আজকের লেখার শেষ হাদিস আমাদের সংশোধনে হয়তো আরও ভাল কাজ করবে----
আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، آلْيَهُودَ، وَالنَّصَارَى، قَالَ: فَمَنْ».
“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের রাস্তা অনুসরণ করবে বিঘতে বিঘতে ও হাতে হাতে; তারা যদি গুঁইসাপের গর্তে ঢুকে তোমরা অবশ্যই তাদের অনুসরণ করবে; আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইহুদি ও খৃস্টান? তিনি বললেন: তবে কে”?
(সহীহ মুসলীম, কিতাবুল ইলম বা জ্ঞান অধ্যায়, হাদিস নং-০৬
হে আল্লাহ আপনি জাহেল মূর্খ কমিটি থেকে আমাদের হিফাজত করেন। ইহুদী-খৃষ্ট্রান সংস্কৃতি অনুসরণ থেকে আমাদের রক্ষা করেন।

আমিন
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:১৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×