somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে এলো বাংলা সন

১৯ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব বর্ণমালার কারণে বাংলা পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা। খ্রিস্টাব্দ বা ঈসায়ী সন এবং হিজরী সন এ দুটি সনের অপূর্ব সমন্বয় আমাদের সন ব্যবস্থা। এছাড়াও বাংলাদেশে আরও প্রায় ত্রিশটির মত সন খুঁজে পাওয়া যায়।এগুলো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। 'সন' শব্দটি আরবি ভাষার শব্দ। এর অর্থ হল 'বর্ষ,' 'পঞ্জি', 'পঞ্জিকা', 'বছর','অর্থবর্ষ', 'দিনক্ষণ' ইত্যাদি। আর 'সাল' শব্দটি ফার্সি। এর অর্থ 'দিন','ইতিহাস' ইত্যাদি। বাংলাদেশে বাংলা সন প্রতিষ্ঠার আরও আগে থেকেই এ শব্দগুলো এখানকার সংস্কৃতির সাথে অঙ্গীভূত হয়।

বাংলাদেশে দীর্ঘ্যকাল যাবৎ মুসলিম শাসন কার্যকর ছিল। এ সময় হিজরী সন রাষ্টীয়ভাবে কার্যকরী ছিল।জনগণও হিজরী সন মেনে চলত। জনগন বিভিন্ন অঞ্চলভেদে বিভিন্ন ফসলি সনও মেনে চলত। সম্রাট আকবরের সময় সন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। হিজরী সন হচ্ছে চন্দ্রমাসভিত্তিক। চন্দ্রমাসভিত্তিক সন হওয়ায় হিজরী সন বছরে ১০-১১ দিন করে কমে যেত। কিন্তু জমির ফসল মৌসুমমতই উৎপন্ন হয়। ফলে সরকারীভাবে খাজনা আদায়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। দেখা যেত এ বছর ফসল তোলার পর যে মাসটি এসেছে কয়েকবছর পর সে মাসটি ফসল লাগানোর সময়ই চলে আসত। এতে করে নির্দিষ্ট মাসে কৃষকদের থেকে খাজনা আদায়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সম্রাট আকবর তখন এ সমস্যাটি সমাধানের জন্য সৌরবর্ষের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন একটি সন প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। নতুন সন প্রবর্তনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজীকে। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এদেশের প্রধান দুই ধর্মীয় গোষ্ঠী হিন্দু ও মুসলমানদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে বিবেচনায় এনে একটি সন প্রবর্তন করেন।

তখনকার রাষ্টীয় ভাবে প্রচলিত হিজরী সন ছিল মুসলমানদের একটি সন। আবার হিন্দুরাও শকাব্দ নামে একটি সনকে চন্দ্রমাসের নিয়মে গণনা করত। আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী হিজরী সনকে ভিত্তি হিসেবে ধরে এবং হিন্দুদের ব্যবহুত শকাব্দ থেকে মাসের নামগুলো নিয়ে নতুন সন প্রবর্তন করেন। তিনি আকবরের সিংহাসনে আরোহনের বছর অর্থাৎ ৯৬৩ হিজরীকে ভিত্তি বছর ধরে সন প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। এ ব্যবস্থায় ৯৬৩ হিজরী পূর্ববর্তী অংশ লুনার ও সোলার ক্যালেন্ডারে একই সং্খ্যা ও সময় ধরা হয়। ৯৬৩ পরবর্তী অংশকে শুধুমাত্র সোলার ক্যালেন্ডারে রূপান্তরিত ও গণনার মাধ্যমে ৯৬৩ হিজরীকে ৯৬৩ বাংলা সন ধরা হয়। আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী প্রবর্তিত নতুন সনটি এভাবে বাংলা সন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
(১৪ এপ্রিল ২০০৯,১লা বৈশাখ ১৪১৬ তারিখ মঙ্গলবার 'দৈনিক রূপসী বাংলা' পত্রিকায় প্রকাশিত)।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৫ রাত ১১:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×