somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যাকিং

২৫ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হ্যাকিংকে সাধারণত একটি গর্হিত ব্যাপার বলে ধারণা করা হয়, হওয়াই উচিত, কারণ কারো গোপনীয়তায় অনধিকার প্রবেশ বা সে গোপনীয়ত হরণ করা অবশ্যই একটি অপরাধ। সে অর্থে হ্যাকিং একটি অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং হ্যাকার একজন অপরাধী। কিন্তু হ্যাকার হতে পারা যে কত বড়ো প্রতিভার স্বাক্ষর তা খুব কমই ভেবে দেখা হয়।

হ্যাকিংয়ের শুরুটা হয় টেলিফোন কলিং সিস্টেম হ্যাকিং দিয়ে। দূরবর্তী ব্যয়বহুল কলের খরচ হতে বাঁচার জন্য জন ড্রাপার নামের একজন প্রথম এই কাজ করেন। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে চুরির ব্যাপারটিও সমসময়ে শুরু হয়। বিশ্বনন্দিত স্টিভ জব্স সাহেবও টেলিফোন হ্যাকিংয়ের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন।

এর পরের ইতিহাস বেশ চওড়া এবং কমবেশি সবাই জানেন। কেভিন মিটনিক নামটা দির্ঘদিন কম্পিউটার বিশ্বকে জ্বালিয়েছে। লিজিয়ন অব ডুম গ্রুপটাও কম ভোগায়নি, Y2K, I love you ইত্যাদি ভাইরাসের তাণ্ডব আপনারা অনেকেই দেখেছেন বা শুনেছেন। সেসব ইতিহাস নিয়ে আর কপচাবার কিছু নেই। তবে উত্তরসূরীদের জন্য ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য হ্যাকিং শেখানো বা হ্যাকিংকে উৎসাহ প্রদান নয়। এমনি একটা কনসেপ্ট আপনাদের মধ্যকার কোন হ্যাকারের কাছে তুলে ধরাই আমার উদ্দেশ্য। আমার মনে হয়, কনসেপ্টটা আপনাকে একটু হলেও চমকে দেবে।

হ্যাকারদের ভাগ করা হয় দুই ভাগে- হোয়াইট হ্যাট এবং ব্ল্যাক হ্যাট। হোয়াইট হ্যাট হচ্ছে নীতিবান হ্যাকার, যে তার মেধাকে মঙ্গলজনক কাজে ব্যয় করে। এরা সম্মানিত। অপরদিকে ব্ল্যাক হ্যাট যারা, তারা সব অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। কিন্তু ব্যাপার হল হ্যাকিংয়ের এই জগতে সর্বেসর্বা বলতে কেউ নেই, এবং হ্যাকিং নামক অপরাধটি করে পার পেয়ে যাওয়ার কল্পনা করাও বৃথা।
যাঁরা এই বিদ্যা রপ্ত করতে পেরেছেন, তাঁদের বলি, আউটস্ট্যান্ডিং কিছু করুন, চমকে দেবার মতো কিছু একটা করুন, বিশ্ব আপনাকে খুঁজে নেবে এবং মর্যাদা দেবে। আপনি যদি হ্যাকিংই জানেন তবে আপনার মধ্যে যে কতটা পসিবলিটি আছে তা হয়ত আপনি ভেবেও দেখেননি।

হ্যাকার হওয়া কি সোজা কথা? একজন প্রকৃত হ্যাকার যে কতটা তীক্ষ্ন দৃষ্টি আর প্রখর মেধার হয় তা বলাই বাহুল্য। একজন মানুষ তার কম্পিউটারে কত অদ্ভুত পাসওয়ার্ডই তো দিতে পারে, সেই পাসওয়ার্ডকে ব্রেক করতে হলে যে একজন হ্যাকারকে চিন্তার কতটা গভীরে গিয়ে পৌঁছতে হয় তা ভেবে কুলানো যায় না। ওয়েবসাইট ইউজারদের একাউন্ট হ্যাক করা বিরাট কোন ব্যাপার না। এটিএম বা কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের তুলনায় খুবই সহজ বলা চলে। কেননা, এখানে আপনার এ্যাকাউন্টে আপনি কী পাসওয়ার্ড দিয়েছেন তা একজন হ্যাকারের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। হ্যাকার আপনার এ্যাকাউন্টটা কিভাবে নিজের হাতের মুঠোয় নেবে সেটাই হ্যাকারটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এবং এই কাজগুলো করে সাধারণত Script Kiddies বা Intermediate Hackers'রা। এটা তেমন ক্রিয়েটিভ কিছু নয়। এরা সাধারণত লিংক, বাগিং বা অন্য কারো দেখিয়ে দেওয়া পদ্ধতিতে দুয়েকটা তুকতাক করে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে।

আমি কথা বলছি তৃতীয় এবং উন্নত শ্রেণীর হ্যাকারদের সম্পর্কে, এদেরকে বলা হয় Elite Hacker । আর হ্যাকিংয়ের ঈশ্বরেরা বাস করে এদেরও উপরে।

হ্যাকিংয়ের সঙ্গে C Programming এর সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। বলা হয়ে থাকে, প্রোগ্রামিং না জানলেও হ্যাকিং করা যায়, কিন্তু আমি বলব, সেটা অনিশ্চিত এবং অনির্ভরযোগ্য হ্যাকিং। আপনাকে হ্যাকিংয়ের সম্রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই প্রোগ্রামিংয়ের জগতে একজন রত্ন হতে হবে। আমি মনে করি, প্রত্যেক সফল প্রোগ্রামারই একজন সম্ভাবনাময় হ্যাকার। প্রোগ্রামের এই খেলার জগত একের পর এক সৃষ্টি করে যাওয়াও অন্য রকম আনন্দের একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশের যেসব ছেলেমেয়ে EEE বা কম্পিউটার নিয়ে পড়েছে তাদের মধ্যে কজনে প্রোগ্রামিংকে আপন করতে পেরেছে, ভালোবেসেছে তা নিয়ে আমার বিশেষ সন্দেহ আছে। এই জগতটার স্বাদ তারা কেন গ্রহন করতে পারছে না কে জানে। প্রোগ্রামিংয়ের একটি শর্তই হচ্ছে উন্নয়ন করা, এখন যা আছে, তার চেয়ে বেটার কিছু করা। একেকটি প্রোগ্রামকে আমি একেকটি মিঝাইলের চেয়ে খাটো করে দেখি না। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েকেই দেখা গেছে দায়সারাভাবে কোনমতে পাশ করে হাত ঝেড়েছে!

হ্যাকিং নিয়ে প্রোগ্রামিং প্রসঙ্গে বলার পর আর তেমন কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। কেননা এখানে আসা মানেই খাদের কিনারায় এসে দাঁড়ানো, এরপরে যা বাকি, তা কেবলই সাঁতার কাটা, চমকপ্রদ এক সৃষ্টির রাজ্যে বিচরণ করা। সেটা কেবল বিছানায় শুয়ে কল্পনা করার বস্তু নয়।

এতক্ষণ যে এলিট হ্যাকারটি এই পোস্ট পড়ে মুচকে মুচকে হাসছিলেন, তাঁকে প্রশ্ন করি, আনব্রেক্যাবল প্রোগ্রাম কি অসম্ভব কোন বস্তু?

চমকে দেয়ার কনসেপ্টটি এখন বলি, আমরা ইউনিকোড নামক অবিশ্বাস্য প্রোগ্রামিংয়ের কথা শুনেছি। কিন্তু কম্পিউটারের এত সব অবিশ্বাস্যতার ভিত্তিই তো Mathmatics ! আর এখন পর্যন্ত গণিত বা Numbers এর চেয়ে বড়ো ম্যাজিক বা রহস্য তো কিছু আবিষ্কার হয়নি। আমার প্রশ্ন হলো, ফিবানোচ্চি সিরিজের মতো এমন কোন ম্যাজিক্যাল নাম্বার কি খুঁজে বের করা সম্ভব, যেটা হবে Master Key?

আশা করি বুঝতে পেরেছেন যা বোঝাতে চাইছি। আমি কোন এক বিষয় নিয়ে বেশিক্ষণ মাথা খাটাতে পারি না। একটা করতে গিয়ে আরো দশটা আইডিয়ার শিকড় উঁকি দিতে থাকে। তবু আমি অবসর পেলেই Neumeric এই Master Key খোঁজার অসম্ভব খেলাটি নিজের সাথে খেলি। কিন্তু আমি যে একনিষ্ঠ নই কোন কিছুতেই। এক ধ্যানে লেগে থাকলে হয়ত একটা কিছু হত। আমাকে দিয়ে যেহেতু এই এক জায়গার ধ্যান উপবেশন সম্ভব নয়, তাই আমি আজ এই কনসেপ্ট আপনাদের মাঝেও ছড়িয়ে দিলাম। ভাবুন, মজা পেতে শুরু করবেন।

শুভরাত্রি।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×