কোনো কাজ নাইতো তাই আকাইম্মার মতো বাংলা চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি আকাইম্মা অনুষ্ঠান দেখতে বসলাম। জীবনে প্রথম কোন আকাইম্মা অনুষ্ঠান প্রথম থেকে দেখা শুরু করলাম। অনুষ্ঠানের বিজ্ঞ (গরু) অথিতিরা হলো চলচ্চিত্রের বিশেষ আকাইম্মা পরিচালক ও উপস্থাপক "দেবাশীষ বিশ্বাস" এবং চানমারি বস্তি সুন্দরী'১২ এর ১ম স্থাণী অধিকারিণী উপস্থাপিকা "মুনমুন"। এই দুইজনের চলচ্চিত্র জ্ঞান আমার সাবেক হ্যান্ডসেট N70 -এর থেকেও কম। উল্লেখ্য যে, আমার N70 মোবাইলের ভিডিও এডিট দিয়ে এডিট করা ভিডিও ক্লিপ গুলো দেবাশীষ বিশ্বাস এর ডিজিটাল মুভি থেকেও উন্নত Effect যুক্ত। যাইহোক, অনুষ্ঠানের প্রথম থেকেই তারা যে নিম্নমানের কথা বলতে শুরু করেছিল সেটা একমাত্র "সাহারা খাতুন" এর কথার সাথেই তুলনা করা যায়। অনুষ্ঠানের এক মুহূর্তে উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে দেবাশীষ বলল, বাংলাদেশে মাত্র ২ জন সুপারস্টার আছে। (বাকিরা কি সুপার মোমবাতি?) মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। কে, শুনার জন্য টিভির ভলিউম ১০০। এই সময় যদি বিদ্যুৎ চলে যেত তাহলে আমি পরেরদিন ঐ অনষ্ঠান ডাউনলোড করে শুনতাম কে এই দুই মহামানব। যাইহোক, বিদ্যুৎ আঙ্কেল আমাকে কষ্ট দেই নাই। দেবাশিষ বলল, তাদের দুইজনের নামের ১ম অংশ একই। (এইটা কি থ্রিলার অনষ্ঠান? এত্তো কাহিনি না কইরা নামটা বইলা দিলেই তো হয়)। এর পরের বাক্যটা বলতে দেবাশিষ ১ কি ২ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল। আর আমার মস্তিষ্ক এই ২ সেকেন্ডে একটি "সুপার কম্পিউটার" এর মতো ২০০ টা নামও কি কল্পনা করে নাই যাদের নামের ১ম অংশে মিল আছে। অবশেষে এসেছে সেই মহা প্রোলয়ের সময়টি। একজন হলো 'সাকিব আল হাসান' আরেকজন হলো 'সাকিব খান' (ভুমিকম্প শুরু হয়ে গেছে)। প্রথম নামটার ব্যাপারে কিছু বলার মতো যোগ্যতা আমার নেই। আর দ্বিতীয়টা??? ঐটার ব্যাপারে কথা বলার জন্য মাঝেমাঝে আমার সময় থাকে না। জীবনে হয়তোবা কোন ভালো কাজ করেছিলাম এই জন্য দেবাশিষ বিশ্বাস এর মুখে সাকিব খান এর নাম শুনে হার্ট অ্যাটার্ক করে মারা যাই নাই। এই নাম শুনার পরের ৩ সেকেন্ডকে যদি ভিজুয়াল এফেক্ট দিয়ে ৩ মিনিট দেখানো যেত তাহলে বুঝতেন আমার আর উপস্থাপকের চেহারার কি করুন হাল হয়েছিল। আগে উপস্থাপক ভদ্রলোকের কথা বলি। এই কথা শুনার পর উপস্থাপক যে মুচকি হাসি দিয়েছিল আমি হলপ করে বলতে পারি সেটার দাম মোনালিসার হাসির দামের তুলনায় অনেক বেশি। আমার মনে হয় মোনালিসা এই ভদ্রলোকের হাসিটি দেখলে জীবনে লজ্জায় আর হাসতই না। এরপরে সেখানে কি মহাতান্ডব ঘটেছিল সেটা দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়নি। ইতিমধ্যেই টেলিভিশান এর পর্দাটি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। দেবাশিষ এর মুখ থেকে সাকিব খান সম্পর্কে যে কথা গুলো বেরোনোর অপেক্ষায় ছিল সেগুলো শুনার মতো এতো শক্ত মন আমার ছিল নাই বলেই এই কাজ করেছিলাম। এই কথা শুনার পর আমার শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে (আশা করছি ইতিমধ্যে আমার পাঠকদের শরীর থেকেও ঘাম বেরোচ্ছে) দি-হাইড্রেশন হচ্ছিল। প্রচুর পানি পান করে চোখের পাতা দুইটা এক করলাম। পাশের রুম থেকে আমার মা দৌড়ে আসলো এইভেবে যে, টিভিতে সাকিব খানের নাম বলছে, না জানি আমার ছেলেটার কি হইছে। হার্ট অ্যাটার্ক করেনিতো!!! আসার পর আমি বললাম, চিন্তা করো না, এই যাত্রায় বেচে গেছি। মা বলল, বাবা, কথা দে তুই আর কখনো বাংলা চলচ্চিত্র বিষয়ক কোনো অনষ্ঠান দেখবি না যাতে ঐ হারামজাদার নাম শুনে তোর হার্ট অ্যাটার্ক না হয়। আমি মাকে কথা দিলাম, মা, বাংলা চলচ্চিত্র বিষয়ক অনষ্ঠান আর না। Sakib Khan, OMG!!! বাঁচাও!!! মা চলে গেল। সাকিব খানের প্রভাব শুধু আমাদের উপরেই পড়েনি আমাদের প্রানিকুলের উপরও পড়েছে। কুকুরের লেজ নাকি সোজা হয় না। কথাটা সত্য নয়। আমার বাসার কুকুরটি একবার সাকিব খানের নাচ (ডান্স) দেখে তার লেজ সোজা করে পেলেছিল (সাকিব খানরে বস মানছিলো মনে হয়)। কাপুনি দিয়ে জ্বর আসছিলো। ল্যাব-এইড এর আই.সি.ইউ (I.C.U) তে ভর্তি করিয়েছিলাম। সাহারা খাতুন-ও দেখতে গিয়েছিলো। কুকুরটিকে দেখে সাহারা খাতুন বিশেষ তদন্ত কমিটি করে ঘটনাটির সুষ্ঠ বিচারের আশা দিয়েছিলেন। তার আশা সবসময়ের মতোই আমাকে নিরাশ করেছিলো। কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি বিচারও হয়নি। সাইক্কা খান আগের মতোই তার ছবি রিলিজ করছে আর আমাদের হাসপাতালে পাঠাচ্ছে। তারপরও প্রশাসনের টনক নড়ছে না। আমি প্রশাসনের্ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন, তারা অতি তাড়াতাড়ি যেন সাইক্কা খানের হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে লুলা (পঙ্গু) করে দেয়। এতো কিছুর পরও সাকিব খান কিন্তু আমার তালিকার শীর্ষ দশে আছে। কি সেই তালিকা???
'দ্যা লিস্ট অব লোল (The List Of Lol)'........
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



