ইরানের ওপর হামলা চালানোর অজুহাত সৃষ্টির জন্য গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রায় এক দশক আগে ইরাকের ওপর হামলা চালানোর কাজেও একই ধরনের অপকৌশল প্রয়োগ করেছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একজন সাবেক বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে একথা জানায় রেডিও তেহরান অনলাইন। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিআইএর বিশ্লেষক রে ম্যাকগভার্ন এক নিবন্ধে লিখেছেন, ইরাকের ব্যাপারে ১০ বছর আগে আমরা যা ঘটতে দেখেছি তার ভিত্তিতে বলা যায়, কেউ যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায় করতে চাইলে সে একটি নির্মম অজুহাত দাঁড় করায়। সে অজুহাতের ভিত্তি যতো দুর্বলই হোক না কেনো। তিনি আরো লিখেছেন, ২০০৩ সালে আশ্চর্যজনকভাবে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইরাকের কথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্রকে জুড়ে দেওয়া হয়। ইরাকের মতো এবার ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা চলছে ইসরাইলে।
আরো জানানো হয়, বুলগেরিয়ায় ইসরাইলি পর্যটকদের ওপর সাম্প্রতিক বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে ম্যাকগভার্ন বলেন, ওই বোমা হামলার জন্য নেতানিয়াহু অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে অতি ক্ষিপ্রগতিতে ইরান ও হিযবুল্লাহকে দায়ি করেন। সিআইএর সাবেক বিশ্লেষক তার নিবন্ধে বলেন, গত ২২ জুলাই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেন, বুলগেরিয়ার হামলায় যে ইরানের হাত রয়েছে তার পক্ষে তেলআবিবের কাছে ইস্পাত কঠিন প্রমাণ রয়েছে। অথচ সেই একইদিন নেতানিয়াহু সিবিএস নিউজকে বলেন, আমাদের কাছে প্রশ্নাতীত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, ইরান সমর্থিত হিযবুল্লাহ এ হামলা চালিয়েছে।
ম্যাকগভার্ন আরো বলেন, শেষ পর্যন্ত ইসরাইল বুলগেরিয়ার হামলায় ইরান বা হিযবুল্লাহর জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বোরিসভ স্বীকার করেছেন, কারা এ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বা কে তাদের পাঠিয়েছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য তার সরকারের কাছে নেই।
এরপর ম্যাকগভার্ন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন যখন ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান রিচার্ড ডিরলাভ স্বীকার করেছিলেন, ইরাকের ব্যাপারে সব গোয়েন্দা তথ্য সাজানো ছিল। ২০০৩ সালে ইরাকের ওপর হামলার অজুহাত হিসেবে দেশটির কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবি করা হলেও ২০০৫ সালের ২৩ জুলাই ডিরলাভ বলেছিলেন, বুশ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সাদ্দামকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এ কাজে তিনি সন্ত্রাসবাদ ও গণবিধ্বংসী অস্ত্রকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেন। মার্কিন সরকারের গৃহিত নীতি অনুসারে গোয়েন্দা তথ্য বিকৃত করা হয়।
ম্যাকগভার্ন তার নিবন্ধের উপসংহারে বলেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ইরানের ওপর হামলার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। কাজেই সাজানো গোয়েন্দা তথ্যের ব্যাপারে এখনই সবাইকে সাবধান হতে হবে।
সূত্র : আইআরআইবি অনলাইন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



