somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Triangle (2009) - এক্সপ্ল্যানেশন সহ রিভিউ

০৬ ই জুন, ২০১৬ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাগরে সময় কাটানোর জন্য প্রমোদতরীতে করে জেস বের হয় তার বন্ধুদের সাথে। কিন্তু সেসময় জেস খুব বিরক্ত ছিল, কারণ তার সন্তান স্কুলে রয়েছে তাকে আনতে যেতে হবে তাই। মাঝ সমুদ্রে যাবার পর হঠাৎ করেই তাদের প্রমোদতরী থেমে যায়, কারণ বাতাস না থাকার জন্য পাল নেমে গেছে। হঠাৎ করে দেখতে পায় দূরে ঝড় এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। সাহায্য চাইতে কোস্ট গার্ডের কাছে বার্তা পাঠায় কিন্তু উত্তরে ভেসে আসে অন্য রকম কিছু। ঝড়ের তান্ডবে উল্টে যায় প্রমোদতরী। তাহলে কি করে এই মাঝ সমুদ্র থেকে উদ্ধার পাবে তারা?? হঠাৎ দেখতে পায় তাদের নিকট এগিয়ে আসছে একটি বিশাল জাহাজ। আশা ফিরে পায় তারা। উঠে পড়ে জাহাজে। কিন্তু সেখানে কেউ নেয়, কিন্তু কেন?

দেখে ফেলুন তাহলে। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রিস্টফার স্মিথ পরিচালিত "ট্রায়েঙ্গেল" মুভিটি মূলত টাইম ট্রাভেল লুপের উপর ভিত্তি করে নির্মান করা।

ডাউনলোড লিংকঃ ক্লিক করুণ সাবটাইটেল সহ

▬▬▬▬▬▬▬▬▬★স্পয়লার এলার্ট★▬▬▬▬▬▬▬▬▬

এ অংশটি শুধুমাত্র যারা মুভিটি দেখে বুঝেন নি তাদের জন্য। মুভির ব্যাখ্যা গুলো আমি আমার মত করে বর্ননা করে দিচ্ছি, মিলিয়ে নিবেন। আশা করি মুভিটি বুঝে যাবেন

★ফ্যাক্ট ১ঃ যে জাহাঁজে তারা উঠে সেটি মূলত একটি একটি টাইম মেশিন। আর ঝড়টি হল টাইম ট্রাভেলে প্রবেশের পথ।

★ফ্যাক্ট ২ঃ মুভিতে আসলে যেখান থেকে কাহিনী দেখানো হয়েছে সেটা যাস্ট একটা লুপ। কারন জেস যখন তার লকেট দেখতে পায় একটা হোলের মাঝে সেখানে অনেক লকেট ছিলো। এছাড়া স্যালি যখন দেখতে পায় তার মত আরো অনেক স্যালি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে ডকে। তার মানে লুপটা অনেক আগে থেকেই চলছে।

★ফ্যাক্ট ৩ঃ মুভির নাম ট্রায়াঙ্গেল। কারণ তিনজন জেস পরপর হলে লুপ টা কন্টিনিউ করতে থাকে। সো জেস একই সময় তিনজন থাকবে। আর লুপটা শুরু হবে ঠিক যখন সবাই মারা যাবে। কারণ জেস চায় সে তার সন্তানের কাছে ফিরে যেতে।

★ফ্যাক্ট ৪ঃ জেস আসলে চায় সবাইকে বাচিয়ে নিয়ে যেতে কিন্তু কোন না কোন ভাবে একজন মারা যাবেই প্রতি লুপে। তাই সবাইকে বাঁচানোর জন্য সে চায় সবাইকে ফিরে পেতে, তাই সে সবাইকে মেরে ফেলে। ফলশ্রুতিতে লুপ চলতে থাকে।

★ফ্যাক্ট ৫ঃ জাহাজে থাকা জেস সবাইকে মেরে ফেলবে যাকে আমরা জেস ১ নাম দিলাম। এই জেস ১ কে জেস ২ মেরে ফেলতে চাইবে। জেস ২ হল জাহাজে জেস ১ থাকাকালে যে জেস আসে সে। জেস ২ এর আক্রমনে জেস ১ পানিতে ঝাঁপ দিবে আর বলে যাবে সবাইকে মেরে ফেলতে। তার ঠিক তখন জেস ২ দেখতে পাবে সমুদ্রের মাঝে জেস ৩ সাহয্যের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আর ঠিক তখন জেস ১ সমুদ্রের পাড়ে নিজেজে আবিস্কার করে। সে নিজের বাড়ি চলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পায় জেস ৪ কে, মেরে ফেলে তাকে জেস ১। ছেলেকে নিয়ে পোর্টে যাবার সময় এক্সিডেন্ট করে জেস ১। এবার জেস ১ ফিরে যায় আবার প্রোমদতরীতে। ঠিক এই জন্য মুভির শুরুতে জেস কে আমরা চিন্তিত দেখি। জেস ১ ফিরে যায় আবার সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে, জাহাজে উঠে। তখন সে হয়ে যাবে জেস ৩। এইজন্য জেস জাহাজ দেখে বলে সে জায়গাটা চিনে। এভাবে লুপ চলতে থাকে।

★ফ্যাক্ট ৬ঃ মুভির শেষ পার্ট এ দেখানো হয়ে থাকে যে একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার আসে। আসলে ট্যাক্সি ড্রাইভার হল মৃত্যু। সে তাকে তার সাথে নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু জেস তাকে বলে পোর্টে নিয়ে যেতে কারণ সে চায় সবাইকে বাচিয়ে ফিরতে। আর এইজন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও তাকে এই পানিশমেন্ট দিতে থাকে, কারণ যে মরে যায় তাকে তার ফিরানো যায় না। এখন কথা হল জেস ১ কেন জেস ৪ কে মেরে ফেলে। কারণ হল জেস ৪ জেস এ প্রতিবন্ধী ছেলেকে মেরে ফেলে তখন সময় ছিল ৮ টা ১৭ মিনিট। জেস ১ চায় ছেলেকে বাচিয়ে ফিরতে কিন্তু মৃত্যু তো অবধারিত। এইটা মেনে নিতে না পারার জন্য জেস লুপে ফিরে যায়, আর বারবার লুপ চলতে থাকে।

আশা করছি এখন সবাই বুঝতে পেরেছেন। সব জট ক্লিয়ার হয়ে গেছে :) ধন্যবাদ।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ১২:০৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×