somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

একটি মিসকল
আমি কিন্তু কেউ না। সময়ে অসময়ে পাওয়া কতগুলো মিসকল শুধু। যে মিসকল হয়তো আপনার কাছের কেউ দিয়েছিল, কিংবা আপনার অপরিচিত। ভালো থাকুক আমার শত্রুরা আর সুস্থ থাকুক আমার প্রিয়জনেরা। - একটি মিসকল

নীরার রাত...

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীরা সন্ধ্যে বেলা একটা ঘুমের ট্যাবলেট
খেয়েছিল। এখন রাত একটা। এখনও ঘুম আসে নি। নীরার খুব বিরক্ত লাগছে। আজ রাতে ঘুম হওয়াটা খুব দরকার। কাল তার বিয়ে। আর ঘুম না হলে বিয়ের দিন তাকে নেশাখোরের মত লাগবে। এক রাত ঘুম না হলে তার চোখের নিচে কালি পড়ে। কপালে ও গায়ে তেলতেলে ভাব চলে আসে। যেকোন মুল্যে তাকে ঘুমুতে হবে কিন্তু ঘুম আসছে না। নীলা কি করবে বুঝতে পারছে না। “আচ্ছা অবাক কে ফোন দিয়ে বলব ঘুম আসছে না! কাল আমাকে দেখতে আশি বছরের বুড়ির মত লাগলে সে বিয়েতে কোন আপত্তি করবে কি
না?” নিজ মনে ভাবতে থাকে নীরা।
না! অবিক কে ফোন দেয়া যাবে না। সে
নিশ্চই ঘুমাচ্ছে! বিয়ের আগের রাতে সে ঘুম
ছেড়ে নীরার সঙ্গে কথা বলতে বসে থাকবে
কেন। আর এত রাতে ফোন দিয়ে এসব কথা বললে সে খুব হাসবে। সে হাসি আর থামানো যাবে না। অবাক অকারণেই হাসে। আর একবার হাসতে শুরু করলে সারা রাত জেগে কাটাতে হবে। নীরা আবার ঘুমের চেষ্টা শুরু করলো। সে ঠিক করলো আধাঘণ্টার মধ্যে ঘুম না আসলে আরেকটা ঘুমের ট্যাবলেট খাবে সেটায় কাজ না হলে আরেকটা। দানে দানে তিন দান!! ফোন বেজে উঠল। এমন সময় ফোন আসাটা তার কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার। ভার্সিটির বন্ধুরা গভীর রাতে ফাজলামি করতে ফোন দেয়। কিন্তু আজও কেন ফোন দিতে হবে তাদের? নীরা খুব বিরক্ত হচ্ছে। একবার ফোন বেজে বন্ধ হল। আবার ফোন বাজছে। বিরক্ত হয়ে ফোন হাতে নিতেই নীরা একটা ধাক্কা খেল। অবাব ফোন দিয়েছে! এত রাতে অবাকের ফোন দেয়াটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। দু’বছরের পরিচয়ে/প্রেমে একদিন ও যে কাজটা হয় নি সেটা আজ কিভাবে সম্ভব? অবাক রাত জাগতে পারে না। সে পৃথিবীর ঘুমন্ত শ্রেণীর জীবদের একজন। তবে সেটা শুধু রাতের বেলায়।। নীরার স্পষ্ট মনে আছে;
একদিন সে অবাকের সঙ্গে কথা বলে সারা
রাত চাঁদ দেখবে ঠিক করেছিল। কিন্তু অবাক ফোনে দশ মিনিটের বেশি কথা বলতে পারেনি। সে রাতে অবাক বারান্দার
মেঝেতেই ঘুমিয়েছে। সেই অবাক এত রাতে
কেন ফোন দিল? সে নিশ্চই কোন বিপদে
পড়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে তৃতীয় বার ফোন বেজে উঠল। রিসিভার চেপে ফোন কানে নিল নীরাঃ
:হ্যালো
:এই ঘুমুচ্ছ?
:না।
:তাহলে ফোন রিসিভ করতে এত দেরী হল যে?
:না এম্নিতেই!
:ঘুম আসছে না?
:হু!
:আমারও!
:কেন? তোমার শরীর খারাপ? গ্যাস্ট্রিকের
ব্যাথা বেড়েছে?
:কোনটাই না। কেন জানি ঘুম আসছে না।
তোমার কথা শুনতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।
:আমার কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আমার এখন ঘুমুতে ইচ্ছা করছে।
:আচ্ছা। আমি তাহলে ঘুমুতে গেলাম। শুভ রাত্রি।
ফোন রেখে দিল অবাক। নীরার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। অবাক কেন ফোন রেখে দিল। তার উচিত ছিল জোর করে নীরাকে কথা বলতে বাধ্য করা। কিন্তু সে কখনোই নীরাকে জোর করে না, নীরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করে না। দু’বছরের ঘটর ঘটরে অবাককে খুব ভালো ভাবেই চিনে ফেলেছে নীরা। তার ভালো খারাপ সব ধরনের অভ্যাস নীরার জানা । তবু
তার আজ এভাবে ফোন রেখে দেয়াটা নীরার কাছে খুব খারাপ লেগেছে। কিন্তু অবাকের উপর তার রাগ পাচ্ছে না। সে নিজেকে এর জন্যে দায়ী করছে। একটু কথা বলতেই তো চেয়েছিল অবাক। আর নীরা এভাবে তাকে তাড়িয়ে দিল!!
পর্দার ফাঁকে চাদের আলো নীরার বিছানায়
পড়ছে। আকাশের চাঁদটা আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে। নীরা আর বিছানায় থাকতে পারল না। বারান্দায় রকিং চেয়ারে গিয়ে বসল সে। আজ আর ঘুমাবে না। কাল তাকে দেখতে উলুম্বুষের মত লাগুক; তবু কিছু আসে যায় না তার। আজ সারা রাত সে জেগে থাকবে; চাঁদের সঙ্গে ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×