somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মরীচিকা....।

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল মনটা বেশ ফুরফুরে লাগে। সব কিছুই যেন বদলে গেছে।মনের ভেতরের চাপা বেদনাগুলো যেন আর আগের মত কষ্ট দেয় না। ভাবতে ভাবতেই চোখের কোণ ভিজে উঠলো। কিন্তু এভাবে তো চায়নি সে। সুখের একটা ছোট সংসার করতে চেয়েছিল।
চাহিদা কি খুব বেশি ছিল? স্বামীর সোহাগী কে না হতে চায়। কে না চায়, প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পেতে ? ছোট ছোট ভালো লাগা গুলো একদিন বড় আকার ধারন করে। জীবনের মানে পাল্টে দেয়।
সোহানা কি জানতো ওর এভাবে অকাতরে বিলিয়ে দেয়া ভালোবাসার প্রতি একদিনও নিজেই উদাসীন হয়ে যাবে?
ওদের দুজনের অংক মিলছেনা জেনেও একবার ও পিছপা হয়নি সে। কিসের একটা গভীর টান অনুভব করতো। এ যেন ভাবাই যায়না, রোমেল ছাড়া সোহানা।
সকালের নাস্তা সেরে কোন শার্ট টা রোমেল পরবে, কোন মোজাটা তার সাথে যাবে, সবই ঠিক করে দিত সোহানা। ভালো লাগতো নিজের হাতে অফিসের খাবার নিজেই গুছিয়ে দিতে। সব কিছুতেই যেন ভালোবাসার আবেশ ছড়িয়ে দিতে চায় সে।
অফিসের জন্য বিদায় দিয়ে শুরু হতো অপেক্ষার পালা, কখন বিকেল হবে, কখন ঘড়িতে সাড়ে ছয়টা বাজবে।
পাঁচটা বাজতেই শুরু হতো আয়নার সামনে ঘন ঘন নিজেকে দেখা। চোখের কাজল ঠিক আছে কিনা আর চুলটা পরিপাটি আছে কিনা। কিন্তু দেখবে কে? দরজার ওপাশের কলিংবেলটা বেজে উঠতেই দৌড়ে যেয়ে দরজা খুলে ওর মুখখানি দেখার যে আনন্দ, তা ঠিক কাও কে বোঝাতে পারবেনা সোহানা। প্রতিদিন যেন নতুন করে দেখতে পায় রোমেল কে।
কিন্তু রোমেল? ঘরে ঢুকেই সোজা বসে যায় কম্পিউটার নিয়ে। হতে পারে কাজের অনেক চাপ, এই মনে করে প্রায়ই চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে চলে আসে সে। মনে ছোট্ট ছোট্ট কষ্ট জমতে শুরু হয়। একবার তাকিয়ে দেখতো ওকে কেমন লাগছে নীল শাড়ীতে, কপালে দেয়া ছোট কালো টিপে।
বিয়ের আগে অনেক স্বপ্ন সাজায় মেয়েরা। সব কিছু যেন ওকে দিয়ে শুরু আর ওর মাঝেই শেষ। শুরু হবার আগেই অনেক কিছু শেষ হয়ে যেতে দেখে সোহানা।
রোমেল কে কাজের মধ্যে ডুবে যেতে দেখে। ওর ভালো লাগা গুলোও যেন ঐ কম্পিউটারের মধ্যেই বসবাস করে। তাই হয়ত সোহানার প্রতি কোন টান সে অনুভব করেনা।
রাতের পর রাত সোহানা, ওর স্বামীর প্রতীক্ষা করতে করতে কোন্‌ সময় ঘুমিয়ে পড়ে, ও টের ও পায়না। মানুষ বলে, ঘরে শান্তি না পেলেই পুরুষরা বাইরের দিকে ঝুঁকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সোহানা নিজেকে কি বুঝ দিবে? কি অপরাধ ওর ?
"কি ছাতা আছে ঐ কম্পিউটারে, ইন্টার্নেটে যা আমার মধ্যে নেই? এসব মানুষগুলো বিয়েই বা করে কেন? আমিতো একজন রক্ত মাংসে তৈরী মানুষ। কতদিন সহ্য করা যায় এসব?" বিড়বিড় করে নিজেই নিজের সাথে ঝগড়া করে।
মনে মনে রাগ হয় খুব। ওর সান্নিধ্য পাবার ইচ্ছেকে যদি কোন ভাবে । উপড়ে ফেলে দেয়া যেত, তাহলে কোন সমস্যাই হতোনা। সেও ভালো থাকতো, রোমেলও।
দিন যায়, মাস গড়িয়ে বছর। আর বছরের পর বছর শেষে এক যুগ। প্রতীক্ষার পালা যেন শেষ হয়না। জীবন চলছে তার ঐ একই ধারায় একই দিকে।
কিছু একটা কমতি অনুভব করে সোহানা। ঠিক আগের মতো অনুভুতি কেন যেন আসছেনা রোমেলের জন্য। বুকের ভেতর মোচর দিয়ে উঠে। একি ওতো কাঁদছে। এ কান্না কিসের ? ওর তো খুশি হবার কথা। যে মানুষটা বুঝলোই না, ওর সম্পূর্ণ মন জুড়ে সেই ছিলো।
রোমেল কি কখনো উপলব্ধি করবে, সে কি হারাচ্ছে? তার কাছে সোহানার মূল্য কি আদৌ ছিলো?
খুব রাগ থেকেই একদিন নেট এ গেলো সোহানা। এম আই আর সিতে বসলো চেটিং করতে। কোনভাবেই যেন নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেনা ওখানে। মাঝে মাঝে অন্যায়বোধ তাকে তাড়া করছে। কেন ওর চাইতে বয়সে কম ছেলেগুলোর সাথে বসে বসে কথা বলবে? অবশ্য রোমেল কিন্তু ওর চাইতে অনেক বড় বড় আবার অনেক পিচ্চি মেয়েদের সাথে চেটিং করে এবং এনজয় ও করে। তাহলে ওর খারাপ লাগবে কেন?
শুরু হলো কথা আদান-প্রদানের পালা। নেটে ওর জন্য মানুষের ভালো লাগা দেখে, আবেগে আপ্লুত হয়ে যায় সে। কি শাড়িতে ওকে মানাবে, চুলটা কিভাবে বাঁধবে, সবই ওরা বলে দেয়। আচ্ছা, রোমেল কেন এভাবে কখনো ওকে বলেনি? প্রথম প্রথম এভাবেও চিন্তা করতো। ইচ্ছে না হলেও কিছুটা জেদ করেই বসে থেকেছে নেটে।
এডিকশান কথাটা হয়তো এই জন্যই এসেছে। এখন ঘন্টার পর ঘন্টা ও ইন্টারনেটেই বসে দিব্যি দিন পার করছে। কে ওর কথা ভাবছে আর কে ওর কথা ভাবছে না এ নিয়ে মাথা ঘামায় না। এভাবেই বিসর্জন দিলো রোমেলের জন্য ওর ভালোবাসাকে।
শোনা গেছে, ওদের সংসার শেষ পর্যন্ত আর টিকেনি। সোহানা একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরী করে। সংসারের প্রতি ওর ঘেন্যা এসে গেছে।
আর রোমেল? ওরা সবসময় ভালোই থাকে। ওদের কি খারাপ থাকবার কথা?
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই ২০২৬ সালে এসেও দেশে জেলখানা রাখার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯

দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রায় ৪ মাস হতে চলছে, এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন্য নোবেল বীজয়ী ড: ইউনুস শতভাগ জনসমর্থন নিয়ে সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪-এর যোদ্ধাদের কি হবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯

২০২৪ সালের আন্দোলনকে অনেকেই সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এমন অভিযোগও উঠছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী নিজেদের জেদ, প্রভাব ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ৭.৫% ট্যাক্স কেটে নিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে ।?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৬ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:১২

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ৭.৫% ট্যাক্স কেটে নিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে !?



এই তথ্যটি সঠিক হলে আগামী দিনে সরকার রেমিটেন্স হারাবে ।
যেখানে প্রনোদনা দিয়ে রেমিটেন্স আনা হতো, সেখানে এই অদ্ভূদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেরিন ড্রাইভের রক্তাক্ত পিচ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৬ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। গল্পের সমস্ত চরিত্র, নাম, স্থান এবং ঘটনা লেখকের কল্পনাপ্রসূত। বাস্তব কোনো জীবিত বা মৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি!

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ২৬ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


২১বছর বয়সী তরতাজা ছেলেটি মায়ের কোলে মাথা দিয়ে কালেমা শাহাদাত ও সূরা আর-রহমান অর্ধেক তেলাওয়াত করেই আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়! ৩৪বছর এই স্মৃতিকে বুকে ধরে অবশেষে সেই মা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×