আজকাল মনটা বেশ ফুরফুরে লাগে। সব কিছুই যেন বদলে গেছে।মনের ভেতরের চাপা বেদনাগুলো যেন আর আগের মত কষ্ট দেয় না। ভাবতে ভাবতেই চোখের কোণ ভিজে উঠলো। কিন্তু এভাবে তো চায়নি সে। সুখের একটা ছোট সংসার করতে চেয়েছিল।
চাহিদা কি খুব বেশি ছিল? স্বামীর সোহাগী কে না হতে চায়। কে না চায়, প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পেতে ? ছোট ছোট ভালো লাগা গুলো একদিন বড় আকার ধারন করে। জীবনের মানে পাল্টে দেয়।
সোহানা কি জানতো ওর এভাবে অকাতরে বিলিয়ে দেয়া ভালোবাসার প্রতি একদিনও নিজেই উদাসীন হয়ে যাবে?
ওদের দুজনের অংক মিলছেনা জেনেও একবার ও পিছপা হয়নি সে। কিসের একটা গভীর টান অনুভব করতো। এ যেন ভাবাই যায়না, রোমেল ছাড়া সোহানা।
সকালের নাস্তা সেরে কোন শার্ট টা রোমেল পরবে, কোন মোজাটা তার সাথে যাবে, সবই ঠিক করে দিত সোহানা। ভালো লাগতো নিজের হাতে অফিসের খাবার নিজেই গুছিয়ে দিতে। সব কিছুতেই যেন ভালোবাসার আবেশ ছড়িয়ে দিতে চায় সে।
অফিসের জন্য বিদায় দিয়ে শুরু হতো অপেক্ষার পালা, কখন বিকেল হবে, কখন ঘড়িতে সাড়ে ছয়টা বাজবে।
পাঁচটা বাজতেই শুরু হতো আয়নার সামনে ঘন ঘন নিজেকে দেখা। চোখের কাজল ঠিক আছে কিনা আর চুলটা পরিপাটি আছে কিনা। কিন্তু দেখবে কে? দরজার ওপাশের কলিংবেলটা বেজে উঠতেই দৌড়ে যেয়ে দরজা খুলে ওর মুখখানি দেখার যে আনন্দ, তা ঠিক কাও কে বোঝাতে পারবেনা সোহানা। প্রতিদিন যেন নতুন করে দেখতে পায় রোমেল কে।
কিন্তু রোমেল? ঘরে ঢুকেই সোজা বসে যায় কম্পিউটার নিয়ে। হতে পারে কাজের অনেক চাপ, এই মনে করে প্রায়ই চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে চলে আসে সে। মনে ছোট্ট ছোট্ট কষ্ট জমতে শুরু হয়। একবার তাকিয়ে দেখতো ওকে কেমন লাগছে নীল শাড়ীতে, কপালে দেয়া ছোট কালো টিপে।
বিয়ের আগে অনেক স্বপ্ন সাজায় মেয়েরা। সব কিছু যেন ওকে দিয়ে শুরু আর ওর মাঝেই শেষ। শুরু হবার আগেই অনেক কিছু শেষ হয়ে যেতে দেখে সোহানা।
রোমেল কে কাজের মধ্যে ডুবে যেতে দেখে। ওর ভালো লাগা গুলোও যেন ঐ কম্পিউটারের মধ্যেই বসবাস করে। তাই হয়ত সোহানার প্রতি কোন টান সে অনুভব করেনা।
রাতের পর রাত সোহানা, ওর স্বামীর প্রতীক্ষা করতে করতে কোন্ সময় ঘুমিয়ে পড়ে, ও টের ও পায়না। মানুষ বলে, ঘরে শান্তি না পেলেই পুরুষরা বাইরের দিকে ঝুঁকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সোহানা নিজেকে কি বুঝ দিবে? কি অপরাধ ওর ?
"কি ছাতা আছে ঐ কম্পিউটারে, ইন্টার্নেটে যা আমার মধ্যে নেই? এসব মানুষগুলো বিয়েই বা করে কেন? আমিতো একজন রক্ত মাংসে তৈরী মানুষ। কতদিন সহ্য করা যায় এসব?" বিড়বিড় করে নিজেই নিজের সাথে ঝগড়া করে।
মনে মনে রাগ হয় খুব। ওর সান্নিধ্য পাবার ইচ্ছেকে যদি কোন ভাবে । উপড়ে ফেলে দেয়া যেত, তাহলে কোন সমস্যাই হতোনা। সেও ভালো থাকতো, রোমেলও।
দিন যায়, মাস গড়িয়ে বছর। আর বছরের পর বছর শেষে এক যুগ। প্রতীক্ষার পালা যেন শেষ হয়না। জীবন চলছে তার ঐ একই ধারায় একই দিকে।
কিছু একটা কমতি অনুভব করে সোহানা। ঠিক আগের মতো অনুভুতি কেন যেন আসছেনা রোমেলের জন্য। বুকের ভেতর মোচর দিয়ে উঠে। একি ওতো কাঁদছে। এ কান্না কিসের ? ওর তো খুশি হবার কথা। যে মানুষটা বুঝলোই না, ওর সম্পূর্ণ মন জুড়ে সেই ছিলো।
রোমেল কি কখনো উপলব্ধি করবে, সে কি হারাচ্ছে? তার কাছে সোহানার মূল্য কি আদৌ ছিলো?
খুব রাগ থেকেই একদিন নেট এ গেলো সোহানা। এম আই আর সিতে বসলো চেটিং করতে। কোনভাবেই যেন নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেনা ওখানে। মাঝে মাঝে অন্যায়বোধ তাকে তাড়া করছে। কেন ওর চাইতে বয়সে কম ছেলেগুলোর সাথে বসে বসে কথা বলবে? অবশ্য রোমেল কিন্তু ওর চাইতে অনেক বড় বড় আবার অনেক পিচ্চি মেয়েদের সাথে চেটিং করে এবং এনজয় ও করে। তাহলে ওর খারাপ লাগবে কেন?
শুরু হলো কথা আদান-প্রদানের পালা। নেটে ওর জন্য মানুষের ভালো লাগা দেখে, আবেগে আপ্লুত হয়ে যায় সে। কি শাড়িতে ওকে মানাবে, চুলটা কিভাবে বাঁধবে, সবই ওরা বলে দেয়। আচ্ছা, রোমেল কেন এভাবে কখনো ওকে বলেনি? প্রথম প্রথম এভাবেও চিন্তা করতো। ইচ্ছে না হলেও কিছুটা জেদ করেই বসে থেকেছে নেটে।
এডিকশান কথাটা হয়তো এই জন্যই এসেছে। এখন ঘন্টার পর ঘন্টা ও ইন্টারনেটেই বসে দিব্যি দিন পার করছে। কে ওর কথা ভাবছে আর কে ওর কথা ভাবছে না এ নিয়ে মাথা ঘামায় না। এভাবেই বিসর্জন দিলো রোমেলের জন্য ওর ভালোবাসাকে।
শোনা গেছে, ওদের সংসার শেষ পর্যন্ত আর টিকেনি। সোহানা একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরী করে। সংসারের প্রতি ওর ঘেন্যা এসে গেছে।
আর রোমেল? ওরা সবসময় ভালোই থাকে। ওদের কি খারাপ থাকবার কথা?
আলোচিত ব্লগ
নূর হোসেন বা ডা. মিলনের যে দেশপ্রেম ও কৃতিত্ব, তার শতভাগের এক ভাগও কি হাদীর আছে?
নূর হোসেন বা ডা. মিলনের যে দেশপ্রেম ও কৃতিত্ব, তার শতভাগের এক ভাগও কি হাদীর আছে?
নূর হোসেন ও ডা. মিলনের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্রের জন্য তাঁদের অবদান ইতিহাসে অমলিন হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
পুলিশ বনাম জনগণ
১.
বাংলা সিনেমা দিয়েই শুরু করি, নিরপরাধ ধরা প্রসঙ্গে সিনেমাতেই প্রথম অজুহাত হিসেবে বলা হয়, আগাছা নিরানোর সময় দুয়েকটা ভালো চারা তো কাটা পড়বেই! এই যে তার নমুনা! দশজন পতিতার সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কমলাপুর টু নারায়ণগঞ্জ - ৩ : (ছবি ব্লগ)
.jpg)
সময়টা ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ।
উত্তর বাড্ডা থেকে রওনা হয়ে সকাল ১১টার দিকে পৌছাই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। উদ্দেশ্য রেললাইন ধরে হেঁটে হেঁটে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যাবো।
হাঁটা শুরু হবে কমলাপুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং মোরাল পুলিশিং বন্ধ করতে হবে

১.
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ছেলে পুলিশের সাথে তর্কের জেরে পুলিশ তাকে পিটাইছে দেখলাম।
ছেলেটা যে আর্গুমেন্ট পুলিশের সাথে করছিলো তা খুবই ভ্যালিড। পুলিশই অন্যায়ভাবে তাকে নৈতিকতা শেখাইতে চাচ্ছিলো। অথচ পুলিশের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
এমপি সাহেবের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

অনেক দিন আগে হুমায়ূন আহমেদের একটা নাটক দেখেছিলাম। সেখানে কোন এক গ্রামে একজন এমপি সাহেব যাবেন। এই জন্য সেখানে হুলস্থুল কান্ডকারখানা শুরু হয়ে যায়। নাটকে কতকিছুই না ঘটে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।