খাটিয়া ধরায় প্রথম যে লোকটা ছিল সে আজ বেঁচে নেই।খুব অল্প সময়ে চলে গেলো। আমাকে যখন কাফনের কাপড় পরিয়ে আতর দিয়ে খাটিয়ায় তুলা হল সব দেখতে পাচ্ছি স্পষ্ট। খুব কাঁদছিল ঐই লোকটা। আশে পাশের মানুষগুলো কলেমা শাহাদাত পড়ায় ব্যস্ত।আমার অনেক বড় জানানা হচ্ছে স্কুল মাঠে। জিন্দা লাশের জানাযা। হঠাৎ আচমকা জেগে উঠলাম। কি রকম বিদঘুটে শব্দ। কি রকম বিদঘুটে স্বপ্ন। মাথাটা খুব ধরেছে। মাইগ্রেনের পেইনটা আগে থেকেই ছিল।ইদানিং প্রকট আকার ধারন করেছে।
খাটিয়া দরার ঐই লোকটার কথা বলছিলাম।আজ সেও স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে।
"ফিহা খালাকনাকুম.....ও তারা তান উখরা"! আমাদের এখানে মৃত্যু হলে দলে দলে লোক আসে, দুপুরের ডাল ভাতের আশায়। জানাজায় ও শরীক হয়। কেমন অদ্ভুত লাগছে এরকম চলে যাওয়াটা। লাশটাকে আমি ধরেছি।মারা যাওয়া মানুষটির সাথে আর সম্পর্ক নেই তাই লাশ বলা হয়।সম্পর্কের স্থান থাকেনা। তাই লাশটাকে জানাযার জন্য তুলে নিলাম কাঁদে। নাহ, এগুলো আর স্বপ্ন নয়। এগুলো বাস্তব। .... মিল্লাতি রাসুলিল্লাহ!!! চোখের পানি কোনায় অঝোরে যাচ্ছে। বার বার চলে যাওয়ার আগ মূহুর্তের নিশ্বাস যাওয়ার মূহুর্তটা মনে পড়ছে।
যার কথা বলছিলাম, আব্বু! অবাক হয়েছিলাম। আব্বুর মৃত্যুর আগে কঠিন দুঃস্বপ্ন দেখেছিলাম যেটা মধ্য রাতে কাঁদায় এখনো। দেখি এখনো। কয়েকটা লাইন কানে বাজতেছে,
"দেহ তোমার চর্মচর,
গলে পঁচে যাবে...
একদিন মাটির ভিতরে..."

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




