ফেব্রুয়ারি ২০১১
ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হবে হবে করছে। ফাহিদের অবশ্য এইটা নিয়ে মাথা ব্যথা নাই। সে যে খেলা পছন্দ করে না তা না,কিন্তু বেশি আকর্ষণ নাই। সে তার মতই আছে। ফাহিদ ১ জনকে ভালবাসে। তার ভালবাসার মানুষটিকে তার মনের কথা গুল বলেছিল,কিন্তু সে ফাহিদকে ফিরিয়ে দেয়। এরপর থেকে ফাহিদ ভালবাসা কে এক্তু ভয়ই পায়। এইসব থেকে দুরেই থাকতে চায়। সে অই মেয়েটাকে খুব বেশি ভালবেসেছিল। ফাহিদ হয়তো এইরকমই থাকতো যদি না তার জীবনে ঊষা আসত। ঊষা ফাহিদের দুঃসম্পর্কের ফুপাত বোন। ঊষা তার মার সাথে ঢাকায় বেরাতে আসছে,। ফাহিদদের বাসায় ১ম আসছে তারা। ফাহিদ তার মতই ঊষার সাথে কথা বলত,দুষ্টামি করত। এইভাবে ২-৩ দিন যাওয়ার পর ১ দিন রাতে ফাহিদ রেডিওতে "আমার ভালবাসা" নামে ১তা অনুষ্ঠান শুনছিল। তখন ঊষা তার সাথে এসে শুনতে চায়। ফাহিদ আপত্তি করে না। তারা পুরো অনুষ্ঠানটি একসাথে শুনে। এর মধ্যে তারা নিজেরা টুকটাক কথা বলে। তখন ঊষা বলে যে,সে ঢাকায় ঘুরতে আসছে কিন্তু তার মা এখনও তাকে কোথাও নিয়ে যায় নাই। ফাহিদ ঊষাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে বলে। পরদিন বিকালে ঊষাকে নিয়ে ফাহিদ বের হয়। ফাহিদ তার খুব পছন্দের ১টা জায়গায় ঊষাকে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ফাহিদের ব্যাপারটা ঊষা শুনে। ঊষা তখন ফাহিদকে জিজ্ঞেস করে, "আপনাকে এখন যদি কেও প্রপোজ করে তখন আপনি কি করবেন?" ফাহিদ উত্তর দেয়,"জানি না।" ঊষা নাছোড়বান্দা,সে ফাহিদকে অনেকবার বলে নতুন করে ভাবতে,নতুন করে ভালবাসতে। ফাহিদ অনেক চেস্টা করে,কিন্তু পারে না। ফাহিদ সময় নেয়। ২ দিন পর অনেক ভেবে ঊষাকে "হ্যা" বলে। তাদের সময় গুলো খুব ভাল কাটতে থাকে। ঊষা তখন ৯ম শ্রেণীতে আর ফাহিদ একাদশ শ্রেণীতে। ঊষাকে চলে যেতে হবে। অনেক দিন ঢাকায় রইল তারা। যাওয়ার আগে ফাহিদের খুব ভয় লাগল যদি সে ঊষাকে হারিয়ে ফেলে।! ঊষা বারিতে যাওয়ার পর ১ম দিকে ভালই কথা হত দুজনের। কিন্তু একটা সময় ঊষার মোবাইলটা হারিয়ে যায়। এইদিকে ফাহিদ অনেক খুজে। ঊষার মাকে ফোন দেয় কিন্তু কিছু বলতে পারে না। উশাদের বাড়ি দিনাজপুর। মাসখানিক পর ফাহিদের দিনাজপুর যাওয়ার সুযোগ হয়। সে ঊষাদের বাড়িতে জায়,কিন্তু তাদেরকে পায় না,সে জানতে পারে তারা রংপুর গেচে,সে সেইখানেও যায় কিন্তু তাদের সাথে দেখা হয় না। কিছুদিন পর ফাহিদের পরিবারের সাথে ঊষাদের পরিবারের যোগাযোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফাহিদ অনেক চেষ্টা করে ঊষার সাথে যোগাযোগ করার,কিন্তু সে পারে না। এইভাবে কয়েক মাস,বছর চলে যায়। ফাহিদ ঊষাকে ভুলতে পারে না। ফাহিদ ফেসবুকে নিজের একটা একাউন্ট খুলে। সেইখানেও সে ঊষাকে খুজে বেড়ায়।
১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৪,এই দিনটা ফাহিদের জীবনে নতুন আশা নিয়ে এলো।ফেসবুকের এক বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে ফাহিদ তার ফেসবুক বন্ধুর প্রোফাইল দেখে জানতে পারে সে দিনাজপুরের বিরামপুরের ছেলে। ফাহিদের মনের ভিতর ঝড় বয়ে যায়। ঊষাদের বাড়িও বিরামপুরে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে পাভেল,ফাহিদের ফেসবুক বন্ধু সেই স্কুলে পড়ত যে স্কুলে ঊষা পড়ত। তখন ফাহিদ পাভেল্কে জিজ্ঞেস করে সে ঊষাকে চিনে কি না। পাভেল হ্যা বলে। ফাহিদ ঊষার মোবাইল নাম্বার ছায়,কিন্তু পাভেল জানায় ঊষা মোবাইল ব্যবহার করে না। আরেকটা কথা শুনে তো ফাহিদের মাথা ঘুরে জায়,উশা অন্য কারও সাথে সম্পর্কে জরিয়ে গেছে। পাভেল ঊষার ফেবু আইডি জগার করে দেয়। ফাহিদ ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাথায়,উশা রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর ফাহিদ নিজের পরিছয় দেয়,কিছু দিন কথা বলার পর ফাহিদ তার মনে জমে থাকা কথাগুলো বলে। ঊষা ফাহিদের মেসেজ পরে ফাহিদের সাথে মবাইলে কথা বলে। তখন ঊষা সব বলে ফাহিদকে। সে অন্য একজনের সে সম্পর্কে জড়িয়েছিল,কিন্তু সেইতা এখন আর নাই। এই কথা গুলো বলার সময় ঊষা কেঁদে ফেলে আর বলে তুমি এখনও আমার অপেক্ষায় আছো?? ফাহিদ ঊষাকে বুঝায়। কিছু দিন পর ফাহিদ ঊষার সাথে দেখা করার জন্য দিনাজপুর যায়,তারা দেখা করে।ফাহিদ ৩ বছর ১ মাস ১৪ দিন পর ঊষার সাথে দেখা করে। ঊষা বলে সে ভুল করচে,তাকে জেন ফাহিদ ভুলে যায়। কিন্তু ফাহিদ তো এইটা পারবে না। সে ঊষাকে বুঝায় যা হওয়ার হইছে এখন সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করে। ঊষা একবার যেমন ফাহিদের জীবনে ভোরের ঊষার মত এসেছিল আবার যেন সেইভাবে আসে,আর এইবার জেন আজীবন থাকে। ফাহিদ এইবার আর কোন ভুল করতে চায় না,সে আর ঊষাকে হারাতে চায় না।
ফাহিদ আর ঊষা সত্তিই কাছে আসলো এত দিন পর।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ ভোর ৪:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



