অনেকদিন আগের কথা,তখন আমি ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে জব করতাম।অফিস ছুটির পর কলিগদের সাথে হেটে হেটে ২৭ নম্বর পর্যন্ত আসতাম।তারপর ওখান থেকে বাস এ।সেদিন হালকা বৃস্টি
হচ্ছিল,আমিও একা।কলিগরা আগেই চলে গিয়েছে।ধানমন্ডির লেকটা পার হতেই দেখলাম একটা রিক্সা উল্টে আছে।পাশে রিক্সাওয়ালা আর একজন যাত্রী।যাত্রিটির মাথায় খুব আঘাত লেগেছে।কপাল থেকে রক্ত ঝড়ছে,জ্ঞান
নেই।দৌঁড়ে কাছে গেলাম।আমার সাথে সাথে আরোও কিছু লোক ছুটে গেল।আসলেই ভাল মানুষের অভাব নেই।কয়েকজন মিলে লোকটাকে কাছের এক নামি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।ইমারজেন্সিতে নিয়ে গেল নার্স।আমার হাতে তখন লোকটার তাজা রক্ত।নার্স আমাকে ওয়াশরুম দেখিয়ে বললো ফ্রেশ হয়ে আসুন,আর একটা ছোটট ফর্দ(সুচ,ওষুধ আরো কিছু) দিয়ে বললো নিচের ফার্মেসি থেকে এই ওষুধ গুলো নিয়ে আসুন।ফর্দটা হাতে নিয়ে ছুটে গেলাম নিচের ফার্মেসীতে।ওষুধ গুলো দিতে দিতে আমি ভাবছি আমার পকেটের কথা।ওখানে যা আছে তা দিয়ে কি হয়ে যাবে?ভিষন সংকোচ হচ্ছে।ফার্মেসির লোকটা টাকা চাইলো।আমি ওয়ালেট থেকে বের করে দেখি,প্রায় সব চলে যাচ্ছে।শুধু বাস ভাড়াটা থাকছে।মনে মনে খুশিই হলাম।যদিও বাস থেকে নেমে আমাকে অনেকটা পথ আবারো হেটে যেতে হবে।কিন্তু তবুও ভালো লাগছে।
একজন নার্স আর ওয়ার্ডবয় আমার কাছে এগিয়ে আসলো।হাতে সম্ভবত আহত লোকটির ওয়ালেট।আমার হাতে দিয়ে বললো দেখেন ঠিকানা বা ফোন নাম্বার আছে কিনা,বাসায় খবর দিতে হবে।
আমি একটু ভয়ে জানতে চাইলাম।নার্স আমাকে অভয় দিয়ে বললো ভয়ের কিছুই নেই।মাথায় আঘাত লাগাতে অজ্ঞান।জ্ঞান ফিরলেই বাসায় যেতে পারবে।
আমি ওয়ালেট খুলে অবাক।মাত্র দুটি দশ টাকা আর একটি পাচ টাকার নোট,কিছু খুচরো পয়্সা আছে।ঠিক কত বুঝতে পারছিনা।আমার ধারনা হল লোকটা ভিষন ভাল।আসলে ভাল মানুষদের পকেটে টাকা পয়্সা তেমন থাকেনা(এটা একান্তই আমার ব্যাক্তিগত মতামত)।
যাই হোক একটা নাম্বার পেলাম ওয়ালেটের ভিতরে ঠিকানাও লেখা।জানিনা কার নাম্বার কিন্তু ওখানেই ফোন করলাম।একজন ভদ্রলোক ফোন ধরলেন।আমি বিস্তারিত জানালাম।উনি সব শুনে বললেন আমি আসছি।
আমি জানি বাসায় এক্সিডেন্টের খবর আসলে কেমন লাগে।মনে পড়লো আমি তখন চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ি,হঠাৎ বাবার এক্সিডেন্টের খবর আসলো,ঈদের আগের দিন হবে হয়্ত।আমি তখন বন্ধুদের সাথে বাজি পোড়াচ্ছিলাম।
সেদিনের সেই ভিভীষিকা আজোও তাড়া করে।
যাই হোক খবর দিয়ে ফিরতেই শুনলাম লোকটার জ্ঞান ফিরেছে।আমাকে খুঁজছেন।কিন্তু আমি বের হয়ে গেছি ততক্ষনে।জানি ওনি কেন আমাকে খুঁজছেন।কিন্তু আমার লজ্জা লাগে ঐ ব্যাপারগুলোতে ।আমি ঠিক নিতে পারিনা।জ্ঞান ফিরেছে মানেই লোকটা এখন নিশ্চিন্ত আর পরিবারও আসছে।আমার দায়িত্ব শেষ।হাসপাতাল থেকে বাইরে বের হতেই দেখি রাত হয়ে গেছে।এবার জীবন যুদ্ধে নামতে হবে।
বাসায় ফিরার পালা,তবে আজ নিজেকে খুব ভালো লাগছে................
aarif chanchal

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



