somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপলদ্ধি

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম থেকে উঠে অয়ন মা ও মা বলে ডাকছে।
পাশের রুম থেকে মাঝ বয়সি এক মহিলা এসে হাজির।
-কি হয়েছে তোমার? মাকে ডাকছ কেন? খারাপ স্বপ্ন দেখেছ নাকি?
-খারাপ স্বপ্ন দেখব কেন? আরে আজব মা কই? আর আপনি কে?
এইবার মহিলাটি সিঊর যে অয়নের মাথা সত্যই খারাপ হয়ে গেছে,নয়ত সে খারাপ স্বপ্নই দেখেছে। মহিলাটি আবারও চিৎকার করছে।।
-এই কি হয়েছে তোমার, কইরে রাইয়ান দেখে যা তোর বাবা জানি কেমন করছে।
পাশের রুম থেকে ১০-১১ বছরের এক বালক এসে হাজির।এদের দেখে অয়ন নিজেও বোকা বনে গেছে।এই ছেলে নাকি তার সন্তান?কি বলবে অয়ন ভেবে পাচ্ছেনা। এরা কি বলে?মহিলাটি কান্না ভরা চোখে আবারও বলছে।
-এই কি হয়েছে তোমার? কি খারাপ স্বপ্ন দেখেছ? মাকে স্বপ্ন দেখেছ?
-আরে আজব,আপনি কে? এরা কারা? আমি কোথায়? আমি তো আপনাদের চিনি না।
মহিলাটি এবার কেঁদে ফেলছে। হঠাৎ কি হলো? অয়ন বুঝতে পারছে পরিস্কার।সে রাতে ঘুমিয়েছে আর এটা তার স্বপ্ন। ঘুম ভাঙলেই দেখবে সব ঠিক। ভালো করে চোখে রগড়ালও সে। নাহ সে তো ঘুমানো নয়।এগুলা বাস্তবেই ঘটছে। আর বাবা মা ই কই গেল? চশমা পড়া বালকটি কিছুই বুঝতে পারছেনা।সে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে শুধু। এবার মহিলাটি কান্নার চোখে বলছে।
-এই কি হয়েছে? আমি তোমার বউ আর এ আমাদের ছেলে রাইয়ান।তুমি কি কাওকে চিনতে পারছনা?
এবার অয়নের মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা।বলে কি এই মহিলা,আরে সেতো ভারসিটিতে পরে,বিয়ে করলো কবে? আর এত বড় ছেলে কিভাবে থাকে তার? এক দৌরে ঘড় থেকে বের হয়ে যায় সে। রাস্তায় এক বুড়া মত লোক তাকে দেখে ডাক দেয়। লোকটিকে পরিচিত লাগলো ওর। কিন্তু মনে পরছেনা।
-কিরে কই যাস?
-কই যাই মানে? আপনি কে?
-ঠাট্টা করছিস কেন? রাগ করেছিস? আরে বাবা কাল রাতের জন্যে সরি।
-ঠাট্টা করবো কেন? আমিত আপনাকে চিনতেই পারছিনা। কে আপনি আর আমাকে চিনেন?
লোকটি বুঝতে পারছে অয়ন রাগ করেছে অনেক,জানে সে অয়নের রাগ অনেক বেশি।তাই বলে সে তাকে চিনবেইনা? এটা কেমন কথা? এত দিনের বন্ধুত্ব তাঁদের।
-দেখুন মিঃ আসলে আমি কাওকেই চিনতে পারছিনা, প্লিজ আমাকে একটু বলবেন?আমি ভার্সিটিতে যাবনা বলে মাকে ডাকলাম।কিন্তু আমার ঘরে এক মহিলা ও আরেকটি ছেলে দাবি করছে তারা নাকি আমার বউ আর ছেলে।কিন্তু আমি জানি আমি ভার্সিটিতে পড়ুয়া একটি ছেলে।বিয়েই করিনি,তাহলে কিভাবে এরা আমার বউ আর ছেলে হয়। তাছাড়া আমার বাবা মা ই কই গেল? বাবা কাল আমাকে ইলেক্ট্রিক বিল দিতে বলেছিলেন,আমি বলেছিলাম পারবোনা।
সব শুনে লোকটি এবার বোকার মত চেয়ে রইল।
-প্লিজ।
অনেক অনুনয় করে বলল অয়ন।
কোত্থেকে শুরু করবে লোকটি ভেবে পেলনা,তবু অয়নের অনুরোধে শুরু থেকেই বলল লোকটি।
-তোর বাবা আর মা মারা গিয়েছেন প্রায় ৫ বছর হবে।তুই বিয়ে করেছিস অনেক আগে। বাসার ওরা ঠিকই বলেছে ওরাই তোর বউ আর সন্তান।তোর ছেলেটা ক্লাশ ফাইবে পড়ে। আর আমি তোর বন্ধু রাফাত।মনে করে দেখ।
এবার ভালো করে তাকালো সে লোকটির দিকে, মনে পরেছে।রাফাতের চেহারার সাথে লোকটির মিল আছে। কিন্তু রাফাত ছিল ইয়ং আর লোকটি বুড়া। সে নিজেও কি বুড়া হয়ে গেছে?বাসায় ফিরে আসলো সে।আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে উঠলো। আসলেই তো সে বুড়া হয়ে গেছে।মুখের উপর দাড়ি গুলো থেকে থেকে সাদা কালো হয়ে আছে। বয়স কত তার? মহিলাটি কাছে এল ওর।
-কি গো কিছু মনে পড়েছে? যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে, এভাবে মজা করে কেউ? ছেলেটা কত্ত ভয় পেয়েছে জান? ঘরে ধুকে কাঁদছে।
কি বলবে এই মহিলাটিকে বুঝতে পারছেনা অয়ন। মাথাটা নিচ করে আছে সে। মহিলাটার মুখ ফুটেছে এবার। কান্নার মত করে বলছে,
-মাকে তুমি অনেক কষ্ট দিয়েছ,দিন রাত মাকে বকা ঝকা করতে। বাবা কেও অনেক কষ্ট দিয়েছ তুমি। বাবা মারা যাবার পর তুমি মাকে সহ্যই করতে পারতেনা। তোমাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়েছে।অনেকদিন হল তাঁদের কবরেও যাও না জিয়ারত করতে।
কি বলছে এই মহিলা? ভেবে পাচ্ছেনা অয়ন। মাকে বকা ঝকা করবে কেন সে? সে মাকে অনেক ভালোবাসে।বকা ঝকার তো প্রশ্নই উঠেনা। আর বাবাকে সে আরো বেশি ভালবাসে। কিন্তু মুখে না বললেও অন্তরে সে বাবার প্রতি অনেক ভালবাসাই ছিল। অবহেলা করার প্রশ্নই উঠেনা। কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে ঠিকই।
-বাবা মার কবরটা কোথায়?
-দারাও রাইয়ান কে তোমার সাথে পাঠাচ্ছি। রাইয়ান বাবাকে একটু গোরস্থানে নিয়ে যা তো বাবা।
চশমা পড়া ছেলেটা ঘড় থেকে ভয়ে ভয়ে বেড়িয়ে আসছে।এখনো সে ভয় পাচ্ছে তার বাবাকে।বাবাকে এমনিতেই সে অনেক ভয় পায়,আর ভালোও বাসে।বাবাটা যে ভীষণ রাগি।ছেলের পেছন পেছন এগোতে থাকে অয়ন। ঘন ঝোপ ঝারে ঢাকা পাশাপাশি দুটি কবর দেখালও সে ইশারা দিয়ে। ঠাস করে বসে পরলো অয়ন কবরের সামনে।এবার চিৎকার করে কান্না শুরু করে দিল সে।কলিজা যেন বের হয়ে যাবে এমন ভাবে চিৎকার। আসলে আর কেও না জানুক সে জানে তার বাবা মা তার জন্যে কি।সে কিছুতেই মানতে পারছেনা তার বাবা মা নেই।আর সে তাদের উপর অত্যাচার করেছে। ইচ্ছে করছে বুক চিরে দেখাতে, নিজের বুকটা খামচে ধরে কাঁদছে সে। প্লিজ মা প্লিজ বাবা একবার ফিরে এস।আমি তোমাদের ছেড়ে থাকতে পারবনা। আমাকে ক্ষমা করে দাও। ও আল্লাহ্‌ তুমি আমার বাবা মাকে এনে দাও।আমি আর কিচ্ছু চাইনা।
চশমা পড়া ছেলেটা তার বাবার কান্না দেখে আরো ভয় পেয়ে দৌরে মাকে ডাকতে গেলো সে। আসে পাশে অনেক মানুষ জমে গেছে অয়নের কান্না দেখে। সবাই কিছুটা জানে।অয়ন তার বাবা মাকে অনেক অত্যাচার করত। তাই সবাই ভাবছে অয়ন হয়ত অনুশুচনায় দগ্ধ হয়ে মা বাবার কবরে ক্ষমা চাইছে।
কষ্টে মনে হচ্ছে তার বুক ফেটে যাবে। কষ্টে আর কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞেন হারালো অয়ন।কবরের পাশেই লুটিয়ে পড়ল অয়ন।
জ্ঞেন ফিরে দেখলো সে বিছানায় শুয়ে আছে। মা তাকে ডাকতে এসেছে।
-এই খোকা উঠ, ভার্সিটিতে যাবিনা? তোর বাবা অফিসে যাওয়ার আগে তোর সাথে কথা বলতে চায়। আয় বাবা একটু।
চোখ মেলেই মায়ের পা ধরে চিৎকার করে কাঁদছে অয়ন।
-মা গো ও মা তুমি আমাকে ছেড়ে যেওনা।
অয়নের চিৎকার শুনে বাবাও ছুটে এল।
- কি হয়েছে? কি হয়ছে?
বাবাকে দেখে বাবার পায়েও লুটিয়ে পড়ল অয়ন।
-বাবা ও বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।প্লিজ আমাকে ছেড়ে কোত্থাও যেওনা। তোমাকে রাগ করে উছু গলায় কথা বলেছিলাম।বাবা ক্ষমা করে দাও।
বাবার চোখে পানি এসে গেছে। এই জল কষ্টের নয়,আনন্দের মায়ার।মা ও এতক্ষনে কেঁদে ফেলেছে।তাদের ছেলে বড় হয়ে গেছে।
পুনশ্চঃ এটা আজ সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর হঠাৎ মনে হল।তাই লিখলাম।জানি অনেক বড় হয়ে গেছে,কিন্তু সংক্ষেপ করতে চেয়েও পারলামনা। শুধু বলব একবার ভেবে দেখুন, যদি এমন আপনার জিবনেও আসে? আপনি কি পারবেন সব কিছু ফিরাতে? এক্ষনি একবার যান বাবা মায়ের কাছে।আবেগ নিয়ে একবার তাদের ডাক দিন,আল্লাহ আপনার আমল নামায় দশটি কবুলিয়াত হজ্জের সওয়াব লিখে দিবেন। বলুন সুব হানাল্লাহ।
aarif chanchal
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×