somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্প: আমরা এতো গরীব কেন?

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিকেলের আকশটা আজ ঝকঝকে নীল। তবে কয়েক টুকরো মেঘ জমে আছে আকাশে। এখন বর্ষা কাল নয় বলেই মনে হয় মেঘে মেঘে ছেয়ে যায়নি আকাশ। ঢাকায় আকাশ দেখার খুব ভালো সুযোগ নেই। বড় বড় বিডিং প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। খোলা আকাশ দেখতে হলে বড় রাস্তা বা ছাদে যেতে যেতে হয়। আসিফের অবশ্য সে সমস্যা নেই। তার ঘর বড় রাস্তার পাশে, বস্তিতে। তাদের ঘরটা সবার আগে। ঘর থেকে বেরুলেই রাস্তা। আর আসিফের আকাশ দেখতে খুব ভালোলাগে। আকাশের সাথে তার প্রেম।

আসিফ রাস্তায় বসে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ঝকঝকে আকাশের দেখলে এমনিতেই তার মন ভালো হয়ে যায়, কিন্তু আজ ঝকঝকে নীল দেখছে, তারপরও আসিফের মন খারাপ। সকাল থেকে তার পেঠে কিছু যায়নি। এদিকে দু’দিন ধরে তার মা অসুস্থ। মায়ের খুব জ্বর। বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। ঘরে টাকা-পয়সা যা ছিল ডাক্তার দেখিয়ে, ঔষধ কিনে শেষ। ঔষধ আগামীকাল র্পযন্ত চললেও ঘরে খাবার নেই একটুও। কিছু গুড়-মুড়ি ছিল, সেটাই তার মাকে খাইয়ে সকাল আর দুপুরের ঔষধ খাইয়েছে। এখন রাতে খাবার মতো কিছু নেই ঘরে। বুঝলাম আসিফ না খেয়ে রাত কাটিয়ে দিবে, কিন্তু মা কিভাবে ঔষধ খাবে, এনিয়ে ভাবনার শেষ নেই তার। নিজের অজান্তে চোখ ভিজে উঠল আসিফের। মনে কেবল একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, তারা এত গরীব কেন?

আসিফ, আসিফ …
মায়ের ডাকে তার তন্ময়তা ভাঙে। দৌঁড়ে মায়ের কাছে যায়।
কই ছিলি? এতক্ষণ ধইরা ডাকতাছি তোর কোন সাড়া নাই।
এহানেই তো ছিলাম।
তোর খুব কষ্ট হইতাছে নারে?
আমার কষ্ট হইব ক্যাঁ। কষ্ট তো তোমার হইতাছে। কয়দিন ধইরা জ্বরে পইরা রইছো। ঠিক মতো খাইতেও পারতেছো না।
একটু কথা বলতেই গলা শুকিয়ে গেল মর্জিনার। লালা দিয়ে গলা ভেজাতে চেষ্টা করলো, কিন্তু পারলো না। দূর্বল কন্ঠে মর্জিনা
বললো, ইকটু পানি দে। গলাডা খালি হুগায় যায়।
দিতাছি বলে, দ্রুত পানি এনে খাওয়ালো আসিফ।

অসুস্থ মর্জিনা অল্প একটু পানি খেয়ে চোখ বন্ধ করলো। কদিনের জ্বরে শরীরটা একদম শুকিয়ে গেছে, ভেঙে গেছে, শক্তি নেই মোটেই।

আসিফ কোলে থাকতেই স্বামী মারা যায় মর্জিনার, জীবন থেমে থাকে না। থেমে থাকেনি মর্জিনার জীবনও। যুদ্ধ করে গেছে ছেলের জন্য। অনেক অন্যায় মেনে নিয়েছে শুধু ছেলের জন্য। কোন কখনো ক্লান্তি ছিল না শরীরে। অতীত মনে করে চোখের কোনে জল জড়ো হয়েছে। মায়ের চোখে জল দেখে আসিফ বলে উঠল, মা মা তুমি কাঁন্দো ক্যাঁ, কাইন্দ না, তোমার শরীরডা শাইরা উঠলে সবঠিক হইয়া যাইব।

মর্জিনা ছেলেকে ধরে কাঁদতে লাগলো। আসিফ অনেক্ষণ ধরে কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করছে। মায়ের কান্না দেখে ‘মা আমরা এতো গরীব ক্যান বলে’ সেও কাঁদতে লাগলো।

মা-ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। হয়তো এ কান্নার নৈপথ্য কেউ জানবে না। জানবে না দুটি বুকের ব্যাথার কথা। ব্যাথাময় গল্পগুলো বুকে চাপা পড়ে থাকবে। বহু প্রশ্নের ভিড়ে চাপা পড়ে যাবে একটি প্রশ্ন, আমরা এতো গরীব কেন মা। আমরা এতো গরীব কেন?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×