somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপন্যাস : ভয়

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

♣এক
ছোট্ট শহর নওগাঁ। পাশ বয়েছে ছোট যমুনা নদী কিন্তু এটা যমুনার শাখা নদী নয়। মানুষ ভালবেসে হয়তো নাম দিয়েছে ছোট যমুনা। থাক সে রহস্য! তবে নওগাঁ নামটার একটা অর্থ আছে। নয়টা গাঁ একসাথে মিশে নওগাঁ শহর।
দিপু ও আমি, সবে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি। সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে গল্প করছি।এ গল্প সে গল্প, এমন সময় মনেহল,পরীক্ষা শেষ কোথাও ঘুরে আসলে মন্দ হয় না। দিপুকে বললাম,কিরে বেড়াতে যাবি? দিপু জিজ্ঞেস করলো,কোথায় যাবি? আমি উৎসুক হয়ে জবাব দিলাম,চলনা কুসুম্বা মসজিদ দেখে আসি। ও আচ্ছা বলেই দিপু উঠে পড়লো। ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭ টা, আমারও ফেরার সময় হয়ে এসেছে।
দুদিন পর দিপুকে সাথে নিয়ে কুসুম্বা মসজিদে যাচ্ছি। শুনেছি এ মসজিদ সাড়ে চারশো বছরের পুরোনো। মুগল শাসক গিয়াস উদ্দীনের সময় ১৫৫৮ সালে নির্মান হয়। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশেই এই মসজিদ।নওগাঁ থেকে দেড় ঘন্টা বাসে চলা পথ,এর পর ১০ মিনিট হেঁটেই সেখানে যাওয়া যায়। বাস থেকে নেমে ঘড়িতে দেখলাম সকাল ১০ টা ।
সবে জানুয়ারির শুরু তাই শীতের প্রকট বেশী। উত্তরে শীত বেশি আবার গরমে কাঠফাটা রোদ। সকাল দশটা বাজলেও কুয়াশা এখনো কাটেনি। দিপুকে বললাম,কিরে চা খাবি?
-হু
-চল তাহলে আর একটু সামনে।
-দুধ চা পাওয়া যাবে?
-হ্যাঁ।
এখানে খাঁটি দুধ অনেক জ্বালের পর যখন লাল আর ঘন হয়। তখন সেই দুধ আর চা মিশিয়ে তৈরি হয় দুধ চা। দুধ চা খেয়ে আমার কুসুম্বা মসজিদের দিকে রওনা হলাম। যেহেতু আমি এ অঞ্চলের ছেলে,তাই আগেও এসেছি। মসজিদের পাশেই বিশাল দিঘি। সান বাধানো দিঘীর ঘাট। পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি। দিঘীর পাড়ে কয়েকটা বড় বড় নারকেল গাছ আর একটা বট । মসজিদের মুসল্লিরা এখানে ওজু করে। এর পর গেলাম মসজিদের কাছে। সাড়ে চারশো বছরের পুরনো হলে কি হবে, দেখে মনে হয় এখনো নতুন। মসজিদের চারটি খিলান, দেওয়ালে, ভেতরে অসংখ্য কারুকাজ। উপরে সিলিংয়ে তিনটে বড় মৌচাক। এ অঞ্চলে সরিষা চাষ হয়। হলুদ সরিষা ভুল থেকে মৌমাছিদের মিষ্টি মধু পেতে তেমন বেগ পেতে হয় না।
বাইরে এসে ঘড়িতে দেখি সকাল সাড়ে এগার। দিপুকে বললাম,
-কিরে দিপু আমাদের বাসায় যাবি?
-যেতে পারি কিন্তু আজই নওগাঁ ফিরতে হবে।
-আচ্ছা চল।
ওকে নিয়ে রাস্তায় নসিমনের খোঁজ করতে লাগলাম। ভাবছেন নসিমন আবার কি জিনিস! নসিমন হল পানি সেচের মেশিন দিয়ে গ্রাম কায়দায় তৈরি ভ্যান গাড়ী। এ অঞ্চলের যোগাযোগ এখনো উন্নতি হয়নি।
আমাদের বাড়ি হাটুরিয়া গ্রামে,এমন অদ্ভুদ নামের কারনে বহু বছর পূর্বে এখানে হাট বসতো। আমরা এখান থেকে যাবো বান্দাইখাড়া বাজারে। পাকিস্তান আমলে এখানে থানা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী সমস্ত বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়। একশোরও বেশি নিরীহ মানুষকে লাইন করে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে। বোদ্ধভূমি রয়েছে কিন্তু তার যত্ন হয় না। বাজারের পাশেই খরশ্রোতা আত্রাই নদী। শুনেছি,এক কালে এ নদীতে জাহাজ চলাচল করতো। পাটের ব্যবসা বেশ জমজমাট ছিল তখন। এখান থেকে ১০ কিলো পুবে রবি ঠাকুরের কুঠিবাড়ী। এখানে বসেই তিনি তার পিতার জমিদারি দেখাশুনা করেছেন। সেইআমলে এখানে কৃষকদের জন্য তিনি কৃষি ব্যাংক করেছিলেন। এখানে তিনি কয়েকটি গান ও কবিতাও লিখেন। আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে,বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে..... এই কবিতাও তিনি এখানে বসে লেখেন। গল্প করতে করতে আধা ঘন্টায় বাজারে পৌছেঁ গেলাম। বাজারে পৌঁছেই দিপুকে নিয়ে গেলাম চিদাম দাদুর হোটেলে। এখানকার সিঙ্গারা বেশ মজার। আকারে ছোট হলেও খাসির কলিজা দিয়ে তৈরি। দিপু ও আমি ৫টা সিঙ্গারা খেয়ে বেরিয়ে এলাম। শহরের মতো এখানে রিকসা নেই,ভ্যানে করে চলতে হয়। ভ্যানে করে আমরা চললাম আমাদের গ্রামে। আমাদের গ্রাম এখান থেকে ২ কিলো দক্ষিনে। ১৫ মিনিটের পথ পেড়িয়ে গ্রামে আসলাম। গ্রামের মাথায় একটা ছোট্ট বাজার। এখানে চা আর সবজি কেনাবেচা হয়। দিপুকে নিয়ে আমাদের গ্রামের ভেতর দিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:০৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×