♣তিন
আসুন আপনাদের সাথে পরিচয় হওয়া যাক । আমার নাম কামাল আহমেদ।
বড় ভাই, বন্ধু সবাই ডাকে মফিজ কামাল নামে। আমার চলাফেরা, চিন্তা-চেতনা নাকি মফিজের মতো। নামটা শুনে খারাপ লাগে কিন্তু একটা আদুরে আদুরে ভাব আছে।
জন্মের পর ৮ বছর এই গ্রামে ছিলাম। তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ার সময় শহরে যাই। গ্রামে তেমন বন্ধু নেই। গ্রাম আমার ভালোও লাগে না। একটা বন্ধু আছে, সে এখন বিয়ের পর রাজমিস্ত্রি কাজ কাজ করে। ও গরীব তাই আব্বা তার সাথে মিশতে দেন না। আমরাও গরীব, তবে সে গরীবের মধ্যেও গরীব। তার সাথে কথা বললে আমি নষ্ট হয়ে যাব, আব্বার মাঝে এই ভয়।
আব্বার স্বপ্ন আমাকে ডাক্তার বানাবে। কুমোররা যেভাবে ভগবানের মূর্তি বানায় সেভাবে।আব্বার প্রায়ই বলেন, এই পৃথিবীতে নাকি ডাক্তারের চেয়ে মহৎ পেশা নেই। আসলে ডাক্তারের গাড়ী-বাড়ী,ব্যাংক-ব্যালেন্স দেখেই আব্বার মনে এমন আশা জেগেছে। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের কোন দেশে এতো ক্লিনিক আছে কিনা আমার জানা নেই। ক্লিনিকে বসে উনারা গরীব মানুষের টাকা মেরে দিয়ে পকেটের মহৎ সেবা করেন ।
আমি তখন ৩য় শ্রেনীতে পড়ি। আব্বা একদিন বললেন, আমাকে নাকি সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে হবে। সেইকারনে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমালাম।
সরকারি স্কুলে তো আর এমনি এমনি ভর্তি হওয়া যায় না। এজন্য এডমিশন দিতে হবে। প্রতিরাতে পড়তে পড়তে মধ্যরাত হয়ে যায়, ভোর ৬ টায় উঠে প্রাইভেটেও যেতে হয়। কষ্টের জীবন শুরু । পৃথিবীর কোন দেশেই ৩য় শ্রেনীতে মনে হয় এতো কষ্ট করতে হয় না। এডমিশন পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে,"ট্রেন চলেছে" কবিতাটি তোমার বাংলা বইয়ের কত নম্বর পৃষ্ঠায় আছে?
কি সেলুকাস! কি অদ্ভুদ! এরই নাম বুঝি শিক্ষা। আইনস্টাইন নাকি নিজের বাড়ির ঠিকানা মনে রাখতেন না। অপ্রয়োজনীয় বিষয় মনে রেখে তিনি মগজ খরচ করতেন না। কিন্তু আমাদের শিশুদের ২০ জন কবির জন্ম-মৃত্য তারিখ-সন মনে রাখতে হয়। এগুলো মনে না রাখলে জীবন বৃথা।
অমানুষিক খাটুনির পর সরকারী স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম। তারপর থেকেই পড়াশুনা আমার কাছে হয়ে উঠেছে বিভীষিকা আর ভয়ের কারন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



