বিশিষ্ট সাহাবী হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদ(রাঃ) বলেন, একজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো-হে আল্লাহর রাসূল আমি আপনার নিকট এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি যা আমার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের কারণ হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার যা জিজ্ঞেস , করার আছে, আমাকে জিজ্ঞেস করতে পার।
১.সে বললো: আমি সর্বাধিক জ্ঞানী হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহকে ভয় করে চলবে,তবেই তুমি সর্বাধিক জ্ঞানী হতে পারবে।
২.সে বললো: আমি সর্বাধিক ধনী হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অল্পে তুষ্ট থাকবে,তবেই তুমি সর্বাধিক ধনী হতে পারবে।
৩.সে বললো: আমি সর্বাধিক ন্যায়পরায়ন হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:নিজের জন্য যা কামনা কর, মানুষের জন্য তাই কামনা করবে তবেই তুমি সর্বাধিক ন্যায়পরায়ন হতে পারবে ।
৪.সে বললো: আমি সর্বাধিক মন্গলকামী হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:মানুষের উপকার করবে,তবেই তুমি সর্বাধিক মন্গলকামী হতে পারবে।
৫.সে বললো: আমি আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় বান্দা হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লহকে বেশী বেশী স্মরণ করবে তবেই তুমি আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় বান্দা হতে পারবে।
৬.সে বললো: আমি চাই আমার ঈমান পরিপূর্ণ হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:নিজের স্বভাবকে সুন্দর কর,তবেই তোমার ঈমান পরিপূর্ণ হবে।
৭.সে বললো: আমি একজন সৎর্কমশীল ব্যক্তি হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:তুমি এমন ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো।যদি তাঁকে দখতে না পাও তাহলে তিনি যে তোমাকে দেখছেন সে কথা বিশ্বাস করবে।তবেই তুমি একজন সৎর্কমশীল ব্যক্তি হতে পারবে।
৮.সে বললো: আমি একজন অনুগত বান্দা হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ কাজগুলো পালন করবে তবেই তুমি একজন অনুগত বান্দা হতে পারবে।
৯.সে বললো: আমি পাপমুক্ত অবস্থায় আল্লাহর দরবারে হাজির হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:ফরজ গোসল উত্তমভাবে করবে তবেই তুমি পাপমুক্ত অবস্থায় আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারবে।
১০.সে বললো: আমি হাশরের ময়দানে আলোর মাঝে জমায়েত হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:কারো প্রতি অন্যায় করবে না,তবেই তুমি হাশরের ময়দানে আলোর মাঝে জমায়েত হতে পারবে।
১১.সে বললো: আমি চাই,পরকালে আমার প্রভু আমর প্রতি দয়া করুন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিজের প্রতি দয়া করবে,তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করবে,তবেই তোমার প্রভু পরকালে তোমার প্রতি দয়া করবেন।
১২.সে বললো: আমি চাই আমার পাপের বোঝা হাল্কা হোক।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:বেশী তাওবাহ ইস্তেগফার করবে,তবেই তোমার পাপের বোঝা হাল্কা হবে।
১৩.সে বললো: আমি সর্বাধিক সম্মানিত হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:নিজের কোন অভাব অভিযোগ মানুষের নিকট প্রকাশ করবে না, তবেই তুমি সর্বাধিক সম্মানিত হতে পারবে।
১৪.সে বললো: আমি সর্বাধিক শক্তিশালী হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখবে।তবেই তুমি সর্বাধিক শক্তিশালী হতে পারবে।
১৫.সে বললো: আমি চাই আল্লাহ আমাকে সচ্ছলতা দান করুন( আল্লাহ আমার রিযিক বাড়িয়ে দিন)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সব সময় পবিত্র অবস্থায় থাকবে,তবেই আল্লাহ তোমাকে সচ্ছলতা দান করবেন।
১৬.সে বললো: আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের একজন প্রয় পাত্র হতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা পছন্দ করেন,তুমিও তা পছন্দ করবে, তবেই তুমি তাঁদের প্রিয় পাত্র হতে পারবে।
১৭.সে বললো: আমি পরকালে আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পেতে চাই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর কোন সৃষ্টির প্রতি ক্রোধ দেখাবে না,তবেই তুমি পরকালে আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পাবে।
১৮.সে বললো: আমি চাই আমার দোয়া কবুল হোক।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হারাম খাদ্য পরিহার করবে,তবেই তোমার দোয়া কবুল হবে।
১৯.সে বললো: আমি চাই আমার প্রভু আমার পাপ গুলো গোপন রাখবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অন্যের দোষ -ত্রুটি গোপন রাখবে,তবেই পরকালে আল্লাহ তোমার পাপ গুলোও গোপন রাখবেন।
২০.সে বললো:পাপ বা দোষ থেকে কিসে মুক্তি দেয়?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অশ্রু, আকুতি-মিনতি ও রোগ-বালাই।
২১.সে বললো:কোন সৎকাজটি আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মহান?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:সৎ চরিত্র,বিনয় এবং বিপদে ধৈর্য ধারন।
২২.সে বললো:কোন পাপটি আল্লাহর নিকট সর্বাধিক নিকৃষ্ট ?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অসৎ চরিত্র,কার্পণ্য এবং পরোপকারে অনিহা।
২৩.সে বললো:দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর গজব কিসে প্রশমিত হয় ?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:গোপনে দান খয়রাত করলে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখলে।
২৪.সে বললো: পরকালে জাহান্নামের আগুন কিসে নির্বাপিত হয় ?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: দুনিয়ায় বালা-মুসিবতে ধৈর্য ধারন করলে।
(মুসনাদে আহমাদ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




