রফিকের ঢাকার অদূরে ছোট্ট এক গ্রামে জন্ম। জন্মের আগেই পিতাকে হারিয়েছে অভাগা। পিতা বেঁচে আছে না মরে গেছে সেটা নিজেই জানেনা। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট সে। বড় ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। রফিকের মা যে গ্রামে রফিক থাকে সেই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে কাজ করে। সেই পরিবারের মানুষের করুনায় রফিক ও তার মা এখন তাদের অংশ হয়ে উঠেছে।জীবনের সুখ দুখকে তাদের সাথেই ভাগাভাগি করতে শিখেছে সে। কিন্তু তার পরেও সে নিজেকে মেলেধরতে পারে না।
কারন সে জানে মানুষের করুনায় সে আজ বেঁচে আছে।ছোটবেলা থেকে সে মানুষের করুনায় বড় হয়েছে।সে স্বপ্ন দেখে না। স্বপ্ন মানেভবিষ্যতের ভাবনা আর যার কোনো ভবিষ্যতই নেই তারস্বপ্ন দেখে কি লাভ?রফিক মনে মনে ভাবে তার এইকষ্টময় জীবনের শেষ কোথায়?নাকি শেষ হইয়াও এর হবে নাকো শেষদশম শ্রেনীতে পড়ালেখা করে রফিক। পড়াশুনার খরচ পায় যে পরিবারে আশ্রয়নিয়েছে সেখান থেকে।
রফিকের মা স্বপ্ন দেখে ছেলে পড়াশুনা করে বড় হবে,একসময় তার আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতেহবে না। কিন্তু তার মার স্বপ্নওসেই স্বপ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।কিন্তু রফিকতো স্বপ্ন দেখে না। সে বাস্তবটা জানে। মানুষের করুনায় আর কতোদিন বেঁচে থাকা যায়?
করুনা সহমর্মিতা, সাহায্যের আড়ালে মানুষের তার দিকে আঁড় চোখে তাকানো এসব তার মনোবলতা কেদমিয়ে দিয়েছে। বেঁধে রেখেছে তার স্বপ্নগুলিকে।
যে বয়সে তার পৃথিবী দেখার কথা সে বয়সে সে গ্রামের পথে একা একা নিরবে চলে। যে বয়সে তার পাখা মেলে দুরন্ত হবার কথা সে বয়সে সে শুধু পাখা ঝাপটিয়ে যায়।জীবন তার কাছে করুনার সাগর। আর করুনার জলে সে ভেসেছে হয়তো ভাসবে নয়তো অচীরেই ডুবে যাবে।তাইতো যে স্বপ্ন দেখে না । বয়ে যায় স্বপ্নহীন জীবন নিয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



