সম্প্রতি সামুদ্রিক জীব নিয়ে ১০ বছরের আদমশুমারি শেষ হয়ে গেল। ৮০টি দেশের ২ হাজার ৭০০ বিজ্ঞানী অংশ নেন এ কাজে। এতে প্রায় ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়। এ গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বরফ পানি থেকে শুরু করে উষ্ণ হ্রদ পর্যন্ত সব জায়গায় বিচরণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু তা-ই নয়, জাপানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গভীরতম মহাসমুদ্রের ৬ মাইল গভীরেও জীবের সন্ধান করেছেন গবেষকরা। এর ফলে প্রাণী গণনার ক্ষেত্রে জায়গা করে নিয়েছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীব থেকে শুরু করে বৃহত্তম তিমি পর্যন্ত। বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিক জীবদের ভ্রমণশীল আচরণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। কোন এলাকায় কোন জীবের বিচরণ বেশি, সংখ্যায় তারা কেমন_ এ ধরনের সব তথ্যই জোগাড় করা হয়েছে। এসব জীবের বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া এবং খাদ্যাভ্যাসকেও কম্পিউটারের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ তথ্যভাণ্ডারের নাম হচ্ছে 'ওসেন বায়োজিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম'। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রজাতি সম্পর্কে ২ কোটি ৮০ লাখ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারে। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন তথ্য যোগ হচ্ছে সেখানে। গণনার কাজে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী পেট্রিকা মিলোস্লভিচ এ সম্পর্কে জানান, এই প্রথম সাধারণ মানুষের জন্য সব তথ্য এক জায়গায় জমা করা হয়েছে। ফলে যে কেউ চাইলে যে কোনো তথ্য অথবা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে তথ্য চাইলে এক ক্লিকেই বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আনুষঙ্গিক তথ্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির এমনকি বিভিন্ন গবেষণা গ্রুপের বিস্তারিতও জানা যাবে। এ গণনায় বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিক জীবের কিছু অস্বাভাবিক স্বভাব-চরিত্রও আবিষ্কার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রশান্ত মহাসাগরে তারা খুঁজে পেয়েছেন সাদা হাঙ্গরের ক্যাফে আর মার্সিন মাছের খেলার মাঠ। দেখা মিলেছে অস্বাভাবিক বড় ব্যাকটেরিয়া এবং কম্বোজের। গবেষণারত বিজ্ঞানীরা গত আগস্টে আবিষ্কার করেছেন, সামুদ্রিক জীবের বসবাসের সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, বিশ্বের সামুদ্রিক প্রজাতির সংখ্যা এক মিলিয়নের বেশি কিন্তু বিজ্ঞানবিষয়ক নথিপত্রে মাত্র আড়াই লাখ প্রজাতির তথ্য এ পর্যন্ত যোগ করা হয়েছে। এ তালিকায় অবশ্য অনুজীবগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেননা, শুধু এদেরই সংখ্যা এক বিলিয়নেরও বেশি।
অন্যদিকে সাগর-মহাসগরে কাঁকড়া জাতীয় প্রাণীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সহজ করে বললে, মোট সামুদ্রিক জীবের এক-পঞ্চমাংশই হলো কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী। এ বৃহৎ গণনায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীদের কমিটির সহ-সভাপতি মিরিয়াস সিবুত জানান, এটি আমাদের গবেষণার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। আমরা গভীর সমুদ্রের বিরূপ পরিবেশেও সুবিস্তৃত জীববৈচিত্র্যের সন্ধান পেয়েছি।
বিজ্ঞানীরা গণনায় ১৬ হাজার ৭৬৪ প্রজাতির মাছের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। কিন্তু এখনও নাকি আরও পাঁচ হাজার প্রজাতির মাছ সঠিকভাবে আবিষ্কার করা হয়নি। তাছাড়া ইউরোপীয় সমুদ্রগুলোর প্রাণীকুলের মাত্র ১০ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ বাকি থাকলেও ভূমধ্যসাগরের গভীর জলের ৭৫ শতাংশ জীবের তথ্য এখনও নথিভুক্ত হয়নি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আশপাশের সমুদ্রগুলোর ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হয়নি।
তবে এখনও বিজ্ঞানীদের মহাসমুদ্র সম্পর্কে অনেক তথ্য অজানাই থেকে গেল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



