দেশে দারিদ্র্যের হার ক্রমশ কমছে_ এটি অবশ্যই আমাদের জন্য শুভ সংবাদ। কিন্তু সেই অনুপাতে দারিদ্র্যের সংখ্যা কমছে না। পরিসংখ্যানগত হিসাবে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি সত্ত্বেও শিশু-দারিদ্র্য ও বৈষম্য এখনো বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বৃহস্পতিবার ইউনিসেফের শিশুবিষয়ক এক রিপোর্ট এ উদ্বেগকে আরো জোরালো করে তুলেছে। রিপোর্টের তথ্যমতে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ ভাগই শিশু। শিশুদের এই মোট সংখ্যার ৪৬ ভাগ অর্থাৎ ৩ কোটিরও বেশি শিশুই বসবাস করে দারিদ্র্যসীমার নিচে। নিরঙ্কুশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ শিশু চরম দরিদ্র। এ শিশুদের অনেকেই আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পানি সংকট, স্যানিটেশন ও তথ্য পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। শহরের কর্মজীবী শিশু, পথে বসবাসকারী শিশু এবং অনাথ শিশুরা রয়েছে সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যে। অথচ এই দরিদ্র শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ৯.৮ ভাগ, যা ২০১০-১১-এর জাতীয় বাজেটের ১.৪৪ শতাংশ মাত্র। এর মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত শহরের কর্মজীবী শিশু, রাস্তায় বসবাসকারী শিশু ও এতিম শিশুদের সাময়িকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটে ০.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বছর শেষে বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শহরের কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। আর্থ-সামাজিক অসমতা এবং বৈষম্য দূরীকরণে নজর না দিলে দারিদ্র্যহ্রাস ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে না। আর এটা অর্জনে বাংলাদেশের জন্য কার্যকরী কৌশল হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস াব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এসব বিষয়ে অবশ্যই নজর দিতে হবে। বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তবে বাংলাদেশের আয় বৈষম্যের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশ থেকে দারিদ্র্যবিমোচন করতে হলে যে করেই এ হোক বৈষম্যমূলক অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। আমরা মনে করি, সমতাভিত্তিক একটি কৌশল নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু এটি অধিকারই নয়, এটি সহস াব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকরও বটে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিকে নজর দেওয়া। এর মাধ্যমে বংশপরম্পরায় চলমান দারিদ্র্যচক্রকে ভাঙার পাশাপাশি দারিদ্র্যহ্রাস ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য শিশুদের পিছনে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ যেমন বাড়াতে হবে তেমন তাদের কল্যাণে সমাজের সম্পন্ন মানুষ যাতে এগিয়ে আসে সে উদ্যোগও নিতে হবে।
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।