somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় সাপের বিষ

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হয়ে। হার্টের প্রচলিত ওষুধে রয়েছে আবার ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। চিকিৎসক ও গবেষকরা এখন নতুন ওষুধ তৈরির ব্যাপারে মাথা ঘামাচ্ছেন। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হল থ্রম্বোসিস বা রক্তের জমাটবাঁধা। যেসব ওষুধ দিয়ে রক্তের জমাটবাঁধা দূর করা বা প্রতিহত করা যায়, সেগুলোতে রয়েছে আবার অনেক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ফ্রাঙ্কফুর্টের জীবরসায়নবিদ ইয়োহানেস এব্লে বিকল্প কোনো উপাদান খোঁজ করছিলেন অনেক দিন থেকে। অবশেষে সাপের বিষে পেলেন তার সন্ধান। পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার গাছগুলোতে আস্তানা গাড়তে ভালোবাসে বিষাক্ত ডোরাকাটা সাপেরা। গায়ের রঙ কালো, আঁশওয়ালা চামড়া। এই সাপের মারাত্মক বিষ যে কী করতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এক সাপ গবেষক ব্রায়ান গ্রিগ ফ্রাইয়ের। তিনি জানান, ‘এই সাপ দংশন করার পর আমি পাঁচ মিনিটের মতো অজ্ঞান হয়ে ছিলাম। যখন জ্ঞান ফিরল, তখন আমার সারা দেহেই বিষের ঝড় বয়ে গেছে। রক্তের রাসায়নিক প্রক্রিয়া প্রায় ধ্বংসের মুখে। এজন্য যে ওষুধ দেয়া হয়েছিল, সেটা কাজে লাগতে ১৮ ঘণ্টা লেগে যায়। সে পর্যন্ত দংশনের জায়গাগুলো থেকে অনবরত ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়তে থাকে।
সাপের বিষের প্রতিক্রিয়ায় রক্ত জমাট বেঁধে আঘাতটা সারতে পারেনি। এই খবরটা পেয়ে টনক নড়ে ওঠে ফ্রাঙ্কফুর্টের জীবরসায়নবিদ ইয়োহানেস এব্লের। হয়তো বা সাপের বিষেই পাওয়া যাবে রক্তের জমাটবাঁধা প্রতিহত করার নতুন ওষুধ। সাপের বিষে রয়েছে নানা ধরনের হাজার হাজার মলিকিউল বা অণু। সবগুলোই বিষাক্ত নয়। অনেকগুলো আবার অন্য উপাদানের সংস্পর্শে এসে বিষাক্ত হয়। ইয়োহানেস এব্লে জানান, সাপের বিষে শুধু যে রক্ত জমাটবাঁধা প্রতিহত করার উপাদান রয়েছে তা-ই নয়, কিছু কিছু উপাদান আবার জমাট বাঁধতেও সাহায্য করে। অর্থাৎ এক ধরনের উপাদানের কারণে শিরায় রক্ত যেমন জমাট বেঁধে যায়, অন্য উপাদানের কারণে আবার দেহের কোষে রক্ত প্রবাহিত হয়। ফলে রক্তের ঘনত্ব দারুণ কমে যায়, যা অত্যন্ত মারাত্মক। এ উপাদানগুলোই কাজে লাগাতে চান বিজ্ঞানী এব্লে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কার্যকর ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু তৈরি করতে প্রকৃতির লাখ লাখ বছর লেগেছে। তার মানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে কম রাখার জন্য আমাদের প্রকৃতি থেকে শিখতে হবে। যার অভাব রয়েছে প্রচলিত ওষুধপত্রে। রক্তের জমাটবাঁধা প্রতিহত করার উপাদান খোঁজা বেশ সময় সাপেক্ষ। প্রথমে রক্ত জমাট বাঁধায় যে অণুগুলো কাজ করে সেগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে। শরীরের আঘাতের জায়গা থেকে রক্ত পড়তে থাকলে, সেখানে এক ধরনের প্রোটিন বা কোলাজেন তৈরি হয়। রক্তের প্লাটিলেট নতুন আকৃতি নেয় এবং তৈরি করে এক ধরনের জাল। এই জালই আঘাত থেকে রক্তপাত বন্ধ করে।
সাপের বিষে একধরনের উপাদান থাকে, যা রক্তের কোলাজেন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে না পেরে অনবরত পড়তে থাকে। এখন প্রশ্ন এই যে, সাপের বিষে হাজার হাজার অণুর মধ্যে যেটি রক্তের জমাটবাঁধা প্রতিহত করে, সেটিকে খুঁজে বের করা যায় কীভাবে? এজন্য বিজ্ঞানী এব্লে ও তার সহকর্মীরা নতুন ধরনের এক পদ্ধতি বের করেছেন। প্রথমে রাসায়নিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম কোলাজেন-রিসেপ্টর তৈরি করেন তারা। তারপর এটিকে সাপের বিষের সংস্পর্শে এনে রক্তজমাট প্রতিরোধী উপাদানটি খুঁজতে শুরু করেন। পদ্ধতিটি খুব সহজ বলেই মনে করেন জীবরসায়নবিদ ইয়োহানেস এব্লে। তার ভাষায়, অনেকটা মাছ ধরার মত। মাছ ধরতে হলে যেমন সঠিক টোপটি ফেলতে হয় তেমনই। কৃত্রিম রিসেপ্টরের কাছে সাপের বিষের কিছু অণু জমা হতে থাকলে গবেষণার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
গণিত বিজ্ঞানীরা খুঁজে পাওয়া অণুগুলোর চালচিত্র হুবহু অনুকরণ করে কম্পিউটারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। রাসায়নিক বিজ্ঞানীরা এই অণুগুলো কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা যায় কিনা, সে ব্যাপারে অনুসন্ধান চালান। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি নতুন ওষুধ বাজারে আসার আগে আরো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জীবরসায়নবিদ এব্লে ও তার সহকর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সাপের বিষে ধন্বন্তরী উপাদানগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×