যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নতুন আঙ্গিকে উচ্চারিত হয়েছে এবারের বিজয় দিবসে। এ উপলক্ষে আয়োজিত প্রায় সব অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা স্বদেশ ও স্বজাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগি্নসংযোগের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল তাদের অপরাধের বিচার ও শাস্তি দাবি করা হয়েছে। গত নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছিল আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে মহাজোটের অবিস্মরণীয় জয়ের পেছনে এ ইস্যুটি ধন্বন্তরির ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তাদের এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তোড়জোড়ও শুরু করে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত হয় ট্রাইব্যুনাল। গঠিত হয় তদন্ত কমিশন। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাওলানা নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, সাঈদী এবং এবারের বিজয় দিবসে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদে সব যুদ্ধাপরাধী দূরের কথা নেতৃত্বস্থানীয়দের বিচার সম্পন্ন করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিভিন্ন মহল সক্রিয়। সরকারের মধ্যেও আমলাদের একাংশ বিচার প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করার জন্য ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এমন অভিযোগও কম নয়। এমনকি বিজয় দিবসের মিছিলেও একটি দলের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জড়িত একজন চিহ্নিত ব্যক্তির মুক্তি দাবি করা হয়েছে। এ জন্য হরতাল আহ্বানও করেছে তারা। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব একটি জাতির অস্তিত্ব এবং অহঙ্কারের অংশ। যারা মুক্তিযুদ্ধে ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তাদের বিচারের প্রত্যাশা শুধু দেশপ্রেমই নয়, মানবিক চেতনারও অংশ। মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এসব দেশদ্রোহীর পক্ষাবলম্বন করা প্রকারান্তরে দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ারও শামিল। নিজেদের অসভ্য ও বর্বর হিসেবে যারা পরিচয় দিতে আগ্রহী একমাত্র তাদের পক্ষেই যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দাবি করা সম্ভব। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়ের ৩৯তম বার্ষিকীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার যে দাবি উঠেছে তার সঙ্গে গুটিকয়েক আত্মবিকৃত লোকজন বাদে পুরো জাতিই একমত। এ বিচার যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় তা সরকারের কর্তব্য বলেই বিবেচিত হওয়া উচিত। এতে অনর্থক বিলম্ব হলে তা সরকারের সদিচ্ছা এবং কর্তব্যবোধ
সম্পর্কেই প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে। সে ব্যাপারে সতর্ক থাকাই হবে
সংশ্লিষ্ট সবার জন্য মঙ্গল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



