somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিনতলা বাসা ও নিঃশব্দে ভালোবাসা (০১-০২ খন্ড)

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহাবুদ্দিন সাহেব। একটি সরকারী অফিসের ২য় শ্রেণির কর্মচারী সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ঢাকা শহরের কেরানীগঞ্জ এলাকাতে একটা তিন তলা বাড়ী নির্মান করেছেন তাও চাকুরীর শেষ প্রান্তে এসে। তিনতলা বাড়ীর দুইতলা পর্যন্ত প্লাস্টার করা আর বাকি একতলায় এখনো প্লাস্টার করা হয়ে উঠেনি। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। দুই মেয়ে আর এক ছেলে শহাবুদ্দিন সাহেবের অর্ণা,স্বর্ণা, আর রিজু। অর্না ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় মেধাবিনি পরিশ্রমী পড়াশোনা করছে অনার্সে। স্বর্ণা মেঝ পড়াশুনাতে সেও ভালো তবে গান আর ছবি আকায় খুবই দক্ষ। আর সবার আদরের রিজু বাসার ছোটো ছেলে খুবই ডানপিটে স্বভাবের আর প্রাথমিক এর গণ্ডি পেরিয়ে গেলো বছর মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র সে খুব দুরন্ত।
আমার গল্পের নায়িকা অর্না
নায়ক নেই তা ভাবলে কিন্তু চলবে না নায়কের পরিচয় না হয় পরের দিকে গিয়ে বলবো।
কলেজে আর দশটা সাধারণ ছাত্রীর মতন মেধাবিনী চুপচাপ স্বভাবের শিক্ষক-শিক্ষিকা ভালোভাবেই চেনেন অর্না কে।
অর্না দের বাড়ি ৩ তলা নিচ তলায় অর্নাদের বাস।দুই ও তিনতলায় ভাড়ায় দেওয়া তিনতলায় ভাড়া থাকে আমার গল্পের নায়ক সোহানের পরিবার এর বসবাস। সোহান এর বাবা চাকুরী থেকে অবসরে গিয়েছেন ২ বছর হলো। পেনসনের অর্থই চলে সোহানদের সংসার।
সংসারে বাবাই একমাত্র উপার্যক্ষম ব্যাক্তি ছিলেন সোহান দেখতে সুন্দর শখ ছিলো বিমানবাহিনী তে চাকুরী করবে ফ্লাইং অফিসার হবার স্বপ্ন দেখতো সে কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিরারে জন্ম বলেই সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। সোহানের মা লিপি বেগম একদিন পত্রিকায় দেখলেন বিমানবাহিনীর বিমান উড়ার কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। এদেখে তিনি সেই দিনই সোহান কে বলে দিলেন “বাবা তুমি আমার কথা শোনো আর কখনই বিমান সেনা হব এইটা বলবা না”।
সেটা ২০০৮ সালের কথা সে সময় সোহান মাধ্যমিক পড়ছে। মাধ্যমিক শেষ করেই বিমানবাহিনীর পরীক্ষায় বসতে যাবে সে কিন্তু মায়ের মন রক্ষা করতে গিয়ে আর হলো না।
সোহানের বাবা জামিল সাহেব
ছিলেন শিক্ষক ৩৩ বছর চাকুরী করেছেন সততার সাথে কেননা তিনি ছিলেন দেশ গড়ার মতন একটি মহৎ পেশায়। তিনি চেয়ে ছিলেন সোহান যেটা হতে চায় সে সেটাই হোক।
সোহানের একটা বোন আছে নিবেদিতা ওর নাম। সোহান নিবেদিতা কে ডাকে লেবু বলে। লেবুর বয়স সবে ১৯ ইন্টার মানে উচ্চমাধ্যমিক পড়ছে। সাহাবুদ্দিন সাহেবের মেঝ মেয়ে স্বর্নার সাথে পড়াশোনা করে সে। সে দিক থেকে নিবেদিতা আর স্বর্না বান্ধবী।নিবেদিতা স্বর্নার বান্ধবী বলেই শাহাবুদ্দিন সাহেব জামিল সাহেবকে বাড়ী ভাড়া দিয়েছেন আর শিক্ষক বলেই তো কথা......
যাই হোক
সোহান মাস্টার্স পাশ বেকার ছেলে ।
মায়ের কথা ফেলতে না পাড়ায় সে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে কেমেস্ট্রিতে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আজ চাকুরীর পেছন পেছন ছুটছে। তিন-চার মাস হল জামিল সাহেব স্বপরিবারে শাহাবুদ্দিন সাহেবের বাসায় ভাড়া উঠেছেন।
শাহাবুদ্দিন সাহেব ও জামিল সাহেবের খুবই সক্ষতা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিন সাহেব অফিস থেকে ফিরে এসে দাবা খেলেন জামিল সাহেব তার দাবা খেলার সঙ্গী। সকালে হাটতে যান নিয়ম করে দুইজনে। বয়সে জামিল সাহেব বড় হলেও বন্ধু সুলভ সম্পর্ক।
অর্না সোহান কে দেখে মাঝে মধ্যে বাড়ির ছাদে। সোহান কে অর্না ভাইয়া বলে ডাকে সোহান অর্নার চেয়ে বড়। অর্নার ভাই রিজু মাঝে মাঝে সোহান ভাইয়ার কাছে অঙ্ক আর ইংরেজি পড়তে যায়। চাকুরী না করলেও বসে নেই সোহান ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট পড়ায় সে। পরিবার কে কিছু সাপোর্ট করে।পাশাপাশি চাকুরী খুঁজছে
রিজু বাড়ীর মালিকের ছেলে তাই ফ্রী পড়ায় সে মাঝে মাঝে।
একদিন বিকাল বেলায় ছাদে মেলা কাপড় আনতে গিয়ে প্রথম দেখা হয় অর্না আর সোহানের।
সোহান আগে থেকেই জানতো বাড়ির মালিকের দুইটা মেয়ে আছে। আর স্বর্নাকে সে চিনতো কারণ সে তার ছোট বোনের বান্ধবী।
একদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো সোহান কিছুক্ষণ আগে জোড়-বৃষ্টি হয়েছে,
বাসার সামনের রাস্তাটা তেমন ভালো না রিক্সায় করে যাচ্ছিলো অর্না বৃষ্টি হয়ে রাস্তা ভরে যাওয়ায় খানা-ক্ষন্দ টের পাওয়া যাচ্ছিলো না।
রিকশাওয়ালার চালানোর গাফিলতিতে সেই জলভরা রাস্তায় ভাঙ্গন বুঝতে না পারায় রিক্সা থেকে পড়ে যায় অর্না। কাদাপানিতে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পায় জামা-কাপড় নোংরা হয়ে যায়......
অর্না পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে আসে অন্য সব পথচারি। তবে সোহান সেখানে থাকলেও এগিয়ে আসে নি এটা লক্ষ করে অর্না। বিষয়টা ওকে ভীষণ কষ্ট দেয়, সে ভাবে সোহান ভাইয়া আমার এই বিপদে এগিয়ে এলো না?



চলবে...............
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×