somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উন্নয়নব্যয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশের কেন এই দশা?

২১ শে মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাণী, তুমি এসব কখনো দেখনি, তুমি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেও বিদেশী ফ্লেভারে জীবনযাপন করে এসেছো। আমরা এসব বছরের পর বছর দেখে আসছি। এদেশে এসব অস্বাভাবিক ব্যাপারগুলিই স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে! রাস্তায় পানি উঠলে অনেকের খুশির বাঁধ ভেঙ্গে যায়; তাদের কারো জন্য সেটা কক্সবাজার বিচ, কারো জন্য ফেনী নদী, কারো জন্য পরীর দিঘি! পারে না শুধু গিলে খেয়ে ফেলতে!

আর, গ্রামে পানি সত্যিই উঠে না। গ্রামে বন্যার মৌসুমে বন্যা হয়। দুইটা এক না। গ্রামে বৃষ্টির পানি কিংবা ঘরবাড়িতে ব্যবহারের পানিগুলি বিভিন্ন পরিত্যক্ত জলাশয়, মাঠে-ক্ষেতে ছেড়ে দেওয়া হয়। শহরে সে সুযোগ নেই। শহরে জলাশয়গুলি ভরাট করে তার উপ্রে মাল্টিস্টোরিড ভবন বানায়ে কদাচিৎ দু-একটা সুইমিং পুল বানায়; তাও আবার "রুফটপ"! প্রাকৃতিক জলাশয় না থাকলে পানি জমবে কোথায়? শহরে হাতে গোনা দু একটা মিঠা পানির পুকুর আছে, তাও পুরাপুরি ব্যবহারের অযোগ্য।

আর, গ্রামের বসতি অপরিকল্পিত হলেও সমস্যা নেই, অফুরন্ত জায়গা। কিন্তু শহরের সব কিছু অবশ্যই পরিকল্পিত আর নিয়মমাফিক হওয়া চাইই চাই।

মানুষ ভাবে, শুধু বাড়ি-গাড়ি, দামি পোশাক-আসবাবপত্র হলেই খুব শহুরে; তা নয়। নিজেদের শরীর থেকে বের হওয়া বর্জ্য আর সেই বর্জ্যযুক্ত পানিতে চলাফেরা করতে হলে কিসের মর্ডার্ন?!

কেউ কি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থা, নর্দমা-খাল সংরক্ষণ, স্যানিটেশন এন্ড প্লাম্বিং সিস্টেম- এসব নিয়ে ভাবে? এসব যারা ভাবে, এদেশে তারা মূল্যহীন, তাদেরকে নন্দলাল, খুতখুতে, আঁতেল ইত্যাদি অপবাদে আখ্যায়িত করা হয়।

আজ তুলনামূলকভাবে অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। ৯১ এর মত হলে, অনেক এলাকার নিচতলা সম্পুর্ন ডুবে যেত।

এখানে সুযোগ পেয়ে মেয়র নাছির ভাই, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীবাহিনী, আর অন্যান্য যেসব মানুষ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছেন এবং রাস্তা/ফুটপাতের উপরে আসা গাছের ডালপালা আগেভাগেই কেটে ফেলেছেন, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়ে নিই।

আর, এসব আকস্মিক জলাবদ্ধতার জন্য নেতা-প্রশাসন-কতৃপক্ষদেরও একচেটিয়াভাবে দোষারোপ করে লাভ নেই। তারা কি প্রতিদিন গিয়ে গিয়ে নালা-খালে ময়লা ফেলে আসে? দৈনন্দিন আবাসিক আবর্জনা থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণের কাঁচামাল- সবই পানি প্রবাহের নালা-খাল-নর্দমাকে ব্লক করে দিচ্ছে।

আর, পলিথিনের কথা নতুন করে কি বলব। পলিব্যাগ পানি-মাটি-বায়ু সবকিছুর দুশমন। মানুষকে বলে-লিখেও পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। অথচ, কাগজ বা পাটের ব্যাগ নালা/খালে পরলেও তা গলে যাবে; কোন ক্ষতি করবে না।

জানি না কোন বড় ব্যক্তি এই লেখা পড়ছেন কিনা। পড়লে অন্তত এই কাজটা করেন- চট্টগ্রামের নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোডের সাবএরিয়ার পুলের উপরে যাতে ডাস্টবিন না বসে, সেইটা নিয়ে কিছু করেন। দিদার মার্কেটের সামনেও একই দশা। শহরের ভিতরে ১ কোটি লোকের জন্য অন্তত ৫টি বর্জ্যব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থাকা দরকার। বিদেশে যদি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ কিংবা ব্যবহার্য পণ্য বানানো যায়, তাহলে আমরা পারব না কেন? বিদেশে যদি খালগুলি চলাচলের মাধ্যম হিসেবে, পর্যটনশিল্পের অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আমরা করব না কেন?

ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য হল, চরিত্র, বিবেক আর নিয়তে! সময় থাকতে নতুন প্রজন্মের উচিত তাদের কানে ধরে দেশের অবস্থা পাল্টানো, না হলে পোলাপাইন নিকুঞ্জের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হবে, আর বাস থেকে নেমে দেখবে "নান্দনিক" রাতারগুল পৌঁছে গিয়েছে!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৮ দুপুর ২:৩১
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫০১’কে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করছেন তারা ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:১৮


আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসছে তখন সাধারণ মানুষের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি গাজীপুরের এক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ যখন দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগী

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৭

ভাইরাল ফেভারে
জাতি ভোগে যে হারে
কোথা যাবে ঠিক নাই,
কোনো দিকে দিগ নাই
সংকর - বাঙাল,
আহারে আহারে!



সবি হলো জ্ঞানী
যারটা সে মানি,
তাল গাছ আমারই'
যাইহোক বিচারে! ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×