somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকার/বাংলাদেশের বসবাসযোগ্যতাঃ আমাদের উদাসিনতা ও উন্নাসিকতা

০৮ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকার বাসযোগ্যতা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে

আজকের ঢাকা-পোস্টের উপরের প্রতিবেদনটা পড়ে, গত বছরের ৪ জুনের আমার এই ফেসবুক পোস্টটার কথা মনে পরে গেলঃ-
-----------------------------------------------------------
এত সমস্যা, সংগ্রাম আর সংঘর্ষ এর পরেও বাংলাদেশের মানুষ কেন বিদেশেই থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে, সেটা কখনো ভেবে দেখেছেন? "সৌভাগ্যবান" যারা বিদেশে স্থায়ী হয়ে যান, তাদের শেয়ার করা ছবি, ভিডিও, তাদের মুখে শোনা ঘটনাগুলো শুনে, কখনো বাংলাদেশের সাথে তফাত খোঁজার চেষ্টা করেছেন?

কেন মানুষ দেশকেই বিদেশ এর মত বানানোর চেষ্টা না করে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করে, সেটা জানার জন্য কিছু সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।

১) বাংলাদেশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে পারবেন?
২) বায়ুদূষণ কমাতে পারবেন?
৩) সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে পারবেন?
৪) সরকারি চাকরি/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি চাকরি/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর পার্থক্য কমিয়ে আনতে পারবেন?
৫) রাস্তাঘাট, ফুটপাত, পাবলিক প্লেস, সবকিছু যথাসাধ্য পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবেন?
৬) পুকুর, খাল, নদী, জলাশয়গুলো বাঁচাতে পারবেন? এগুলোর পানি স্বচ্ছ দেখেছেন শেষ কবে?
৭) খেলার মাঠগুলো বাঁচাতে পারবেন? শেষ কবে মাঠগুলোতে স্বচ্ছ-সবুজ প্রাকৃতিক ঘাসের আচ্ছাদন দেখেছেন?
৮) গণপরিবহন, গণশৌচাগার, গণপাঠাগার, সরকারি হাসপাতাল, সরকারি ভার্সিটির হোস্টেল, এগুলির অমানবিক, অশোচনীয় অবস্থাকে বছরের পর বছর অবনতির দিকে নিয়ে যাওয়া থামাতে পারবেন? নর্দমার কীটের জীবনযাপনকে normalize করা থামাতে পারবেন?
৯) তৈলমর্দন এর রাজনীতি, হিংসাত্মক ও প্রতিশোধের রাজনীতি, পারিবারিক বংশানুক্রমিক রাজনীতি, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সাথে মিলে লুটপাটের রাজনীতি, বাকস্বাধীনতা দমনের রাজনীতি, নির্লজ্জতা-নির্লিপ্ততা ও অসততার রাজনীতি- থামাতে পারবেন?
১০) প্রতিটা মানুষের স্বার্থপর ও পাশবিক চিন্তাভাবনা বন্ধ করতে পারবেন?

এই ১০ টা প্রশ্নের বাইরেও শত শত প্রশ্ন করতে পারবো। যার সবগুলির উত্তর হবে- "না"; পারবো না।
জানি, পারবেন না। আমিও পারিনি, পারবো না। ক্ষমতা বা টাকা থাকলেও পারতাম না। কারণ, একার পক্ষে বা সংখ্যালঘিষ্ঠ মানুষের পক্ষে এসব পরিবর্তন আনা অসম্ভব।

ইহকালে কষ্ট করে, কষ্ট সহ্য করে, পরকালে শান্তি পাবো- এইরকম আশা করা মানুষের সংখ্যাও কম না। তারা বুঝতে পারেনা, মানুষের নোংরা চালচলন ও স্বভাবের কারণেই বেহেশত হতে বিতাড়িত হয়েছে। পৃথিবীকে বা নিজের বসবাসস্থলকে নিজের ও অন্যের বসবাসের জন্য অযোগ্য বানিয়ে, মরার পরে চিরসুখের স্বপ্ন দেখা ভণ্ডামি ছাড়া কিচ্ছু না।

প্রাণীজগতের মধ্যে কুকুর ও কাক মোটামুটি ইতর শ্রেণীর। কারণ তাদের সন্তান জন্মদান, খাদ্যাভ্যাস, যৌনাচরণ, ইত্যাদির মধ্যে ইতরামি ও নীচতা খুব বেশি। উন্নত দেশের পোষা কুকুর না, বাংলাদেশের রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর দেখলে বুঝবেন, তাদের সন্তান জন্মদানে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। খেতে পারুক না পারুক, বাচ্চা জন্ম দিয়েই যায় এরা। সেন্ট মার্টিনের মত জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে এই অনিয়ন্ত্রিত কুকুরের দল ক্ষুধার তাড়নায় অন্যান্য দুর্লভ প্রাণীদের তাড়া করে খাচ্ছে; স্বচক্ষে দেখেছি।

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, এই কুকুরদের চেয়েও ইতর। বছরের পর বছর, এই সামান্য এতটুকু দেশে, বাচ্চার পরে বাচ্চা প্রোডাকশন দিয়ে গিয়েছে। অথচ, gross productivity এবং manufacturing industry তে সেই উৎপাদনশীলতা নাই। কোন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ আর শৃঙ্খলা নাই এই জাতির। কিভাবে ভালো কিছু আশা করা যায়?

উপরের যে ১০টা প্রশ্ন উত্থাপন করলাম, বাংলাদেশের ভেতরেই ক্যান্টনমেন্টগুলিতে গেলে এই ১০টা সহ আরো অনেক ব্যাপারে, মোটামুটি সবকিছুতে সভ্য চালচলন দেখতে পারবেন। এতে কি প্রমাণিত হয়? ইতর, বর্বর ও বিবেকহীন এই জাতিকে একমাত্র অস্ত্রসজ্জিত সামরিক জান্তাই লাইনে আনতে পারে।

মহামারি, মন্দা, মারামারি এসব বিশ্বের দেশে-দেশে কমবেশি শুরু হয়েছে; এবং স্বাভাবিকভাবেই আরও বাড়বে। কিন্তু, বাংলাদেশে এসবের মাত্রা আরও বেশি হবে। মহামারি ও মন্দা ছাড়াও বাংলাদেশ কোনকালেই ঠিক ছিল না, ঠিক হবে না। এখানে কেউ শাসন করবে, কেউ লুট করবে, কেউ পা চাটবে, কেউ আমৃত্যু সহ্য করবে, কেউ আমরণ শোষিত হবে, বাকিরা পালিয়ে বাঁঁচবে।

ভাবতে অবাক লাগে, নরওয়ে ও এরকম আরো কয়েকটা দেশে, রোগ-শোক, মন্দা-দুর্যোগ, ইত্যাদি বৈশ্বিক কোন সংকটের তেমন একটা প্রভাবই পরে না।
আর ভাবতে এটাও খুব খারাপ লাগে, বেশিদিন হয়তো এরকম সুন্দর, শান্তিপূর্ণ আর সুশৃঙ্খল দেশে থাকাটা হচ্ছে না।
(ছবিটা আমার তোলা না; সংগৃহীত।)

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৩:২৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×