somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনন্যা নাসরিন অবন্তি
আমি একজন মুক্তমনা ,বিজ্ঞান মনষ্ক ,যুক্তিবাদী।সব কিছুকে আমি বিজ্ঞানে ও যুক্তির আলোকে বিচার বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্ত নিই ।প্রচলিত ধর্ম মতে আমি বিশ্বাসী নই,আমার দৃষ্টিতে কথিত স্রষ্টা এবং ধর্ম দুটোই মানুষ তার নিজের দুর্বলতাকে,অজ্ঞতাকে আড়াল করার জন্যই তৈরি করেছ

বিজ্ঞান চর্চা ও আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একথা অনস্বীকার্য সত্য যে আমরা এখন সভ্যতার চরম শিখরে অবস্থান করছি ।আমাদের পার হতে হয়েছে অনেক বন্ধুর পথ ।সামাজিক মানুষের দীর্ঘ্য বিবর্তনের ফসল আমরা আধুনিক মানুষ ।
কিন্তু কতটা হতে পেরেছি আধুনিক? কতটা হতে পেরেছি সভ্য? এর উত্তর নেই আমাদের কাছে ! থাকার কথাও না ।
একটা জাতিকে সভ্য করে তুলার প্রধান নিয়ামক বিজ্ঞান,যুক্তি ।বিজ্ঞান চর্চায় যে জাতি যত উন্নত সে জাতি সভ্যতায় তত উন্নত ।উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে এর নজীর পাওয়া যায় ভুরি ভুরি ।

আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশের নাগরিক । আমরাও বিজ্ঞান চর্চা করি । তবে আমাদের সংস্কৃতিটা একটু ভিন্ন । বিজ্ঞানকে আমরা প্রাত্যহিক জিবনে ব্যবহার করি,বিজ্ঞানের দান গুলোকে কাজে লাগাই নিজেদের জিবন যাত্রাকে সহজতর করতে, কিন্তু বিজ্ঞানকে লালন করিনা নিজেদের মননে ।

আমাদের সংস্কৃতির একটা বড় অংশ বিশ্বাসের ভিত্তির উপর প্রতিষ্টিত ।এটা ধর্মীয় বিশ্বাস । হাজার বছর ধরে চলে আছসে সে বিশ্বাস । অথচ একটিবারের জন্য যাচাই করে দেখিনা আমাদের সে বিশ্বাসের চাকা কতটুকু মজবুত । ভেবে দেখিনা আমাদের বিশ্বাসগুলো কতটা বাস্তব সম্মত ।
জিবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা বিজ্ঞানকে সত্য যাচাইয়ের মানদন্ড হিসাবে প্রতিষ্টত করি, কিন্তু যখনই বিশ্বাসের প্রশ্ন আসে তখনই বিজ্ঞান হয়ে পরে আপেক্ষিক আর ধর্মীয় বিশ্বাস হয়ে পরে ধ্রুব সত্য । আগে শোনা যেত ধর্ম এবং বিজ্ঞান দুটোর চলার রাস্তা আলাদা । দুটোর গল্প এক নয় । কিন্তু আজকাল খুব জুড়ে-সুরে প্রচারিত হয় সকল বিজ্ঞানের উৎস নাকি ধর্মীয় গ্রন্থ গুলো । হিন্দু ধর্মালম্বীরা বলছে বেদ,গীতা বিজ্ঞানের প্রসুতি আবার মুসলিমরা বলছে কোরান বিজ্ঞানের সুতিকাগার । আর এ গুলো প্রচারের পেছনে রয়েছে আংশিক বিজ্ঞান জানা একদল বুদ্ধিমান চতুর লোক । এখন প্রশ্ন হচ্ছে আসলে কোনটা সত্যি? হিন্দুদের দাবি নাকি মুসলিমদের দাবি ? প্রত্যেকেই নিজের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে । এই যুক্তি গুলো আবার বিভিন্ন মিডিয়াতে চর্বিত চর্বন হয়ে চলছে প্রতিনিয়ত । কিন্তু আসলেই কি এগুলো যুক্তি ? নাকি ফ্যালাসি?
আমি এপর্যন্ত যতগুলো ধর্মীয় বই পড়েছি উভয় ধর্মের ,এবং এই ধর্মভুক্ত ব্যক্তি গুলোর দেয়া যেসকল রেফারেন্স পেয়েছি এগুলোর কোনটিই বিজ্ঞান সম্মত মনে হয়নি ।
ধর্মীয় বই গুলো আমাদের ভাষায় রচিত নয় ।এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কিছু লোক নিজের মত করে অনুবাদ করে নেয় যেন বিজ্ঞানের সাথে কিছুটা হলেও মিল বন্ধন স্থাপন করতে পারে । বাকিটা ব্যাখ্যার মাধ্যমে চালিয়ে নেয় ।প্রকৃত পক্ষে এটা নুংরা অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

আমরা নিজেদের যতটা আধুনিক মনে করি বা উপস্থাপন করি ততটা আধুনিক এখনও হতে পারিনি ।আমাদের মগজের প্রতিটি সেল বহন করে চলছে নির্বাক ঘাতকের মত বিশ্বাসের ভাইরাস । সেটা লেখা পড়া জানা উচ্চ শিক্ষিত থেকে শুরু করে গোমুর্খ ব্যক্তি সবাই এই ভাইরাসের পোষক ও বাহক।
এখনও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহনকে পাপ বলে চিন্হিত করা হয়,এখনও ঋৃতুস্রাব কে অপবিত্র বলে ধরা হয়,এখনও গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্য হাতে পাথরের আংটি ব্যবহার করা হয়,এখনও কোন কাজ করার আগে পঞ্জিকা দেখে ঠিক করা হয় কোন দিনটা শুভ আর কোন দিনটা অশুভ,এখনও দেশের বিখ্যাত সংবাদপত্র গুলোতে দেয়া হয় রাশি চক্র,কবিরাজের জার-ফুকের দ্বারস্ত হয়ে প্রতিবছর মারা যায় অনেক লোক ।
এর একটাই কারন এসবগুলোর সাথে লাগানো থাকে ধর্মীয় লেবাস ।বিজ্ঞান সেখানে হয়ে পরে গৌন । আমি অবাক হই যখন দেখি বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রীধারিরা যখন এমনি ভ্রান্ত বিষয় গুলোর দ্বারস্ত হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে ।
যুগে যুগে বিজ্ঞান মানুষের অনেক ভুল শুধরে দিয়েছে,আলোকিত করেছে আমাদের ।সময়ের এই ক্রান্তি লগ্নে আমাদের বিজ্ঞান চর্চা ও এর ধারনই পারবে আমাদেরকে মুক্তির আলোকবর্তিতা হাতে তুলে দিতে ।
আসুন আমরা বিজ্ঞানকে একনিষ্ট ভাবে চর্চা করি,মননে ধারন করি ও একে বইয়ের পাতা থেকে বাস্তবে নামিয়ে আনি ।
আমাদের বর্তমান ধর্মীয় ও বিজ্ঞান ভিত্তিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে নজরুলের সেই বিখ্যাত উক্তিটি মনে পরে
.........
“বিশ্ব যখন এগিয়ে চলছে আমরা কখনও বসে ।
বিবি তালাকের ফতুয়া খুঁজছি,ফেকা ও হাদিস চষে ।।””
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×