
কঠিন অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিগন যদি নিজেেদের ভুল বুঝতে পেরে তাওবা করে তাহলে তাদের তাওবা কি আল্লাহ পাক কবুল করেন? যেমন ধরুন, ব্যভিচারী, মদখোর কিংবা এধরনের জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তির ভেতরে পরিবর্তন এলো। নিজের কৃতকর্মে লজ্জিত সে। তার তাওবা কি কবুলযোগ্য?
এই প্রশ্নের উত্তর জানার পূর্বে আসুন, একটু চোখ বুলিয়ে নিই তাওবা কী সেই বিষয়টিতে।
তাওবা কী?
তাওবার দু'টি মানে, ১. কৃত অপরাধের কারনে অনুশোচনার অনলে দগ্ধ হওয়া। ২. কৃত অপরাধ বাকি জীবনে পুনরায় না করার বিষয়ে খালিস দিলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।
এই দু'টি অর্থ বুঝে যদি তাওবা করা হয় ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আশা করা যায়, অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহ ছুবহানাহু ওয়াতাআ-লা অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন।
পাপ মার্জনা বিষয়ে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ঘোষনা-
বান্দা যতবারই পাপ করুক না কেন, খালেস দিলে তওবা করলে মহান রব তাকে ক্ষমা করে দেন। সেই হিসেবে ভবিষ্যতে উক্ত জঘন্য পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করে, উক্ত কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সাচ্চা দিলে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা ইনশাআল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে হাকিমে ইরশাদ করেন-
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [বাকারা-২২২]
অন্য আয়াতে তিনি বলেন-
إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন,যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে,এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। {সূরা নিসা-১৭-১৮}
সূরা ত্ব-হা এর ৮২ নং আয়াতে ঘোষনা করেন-
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ [٢٠:٨٢]
আর যে তওবা করে,ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে,আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। [সূরা ত্বহা-৮২]
সূরা নূর এর ৩১ নং আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে-
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١]
মুমিনগণ,তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর,যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সূরা নূর-৩১]
হাদিসের ভান্ডার থেকে এই বিষয়ক কিছু হাদিস
হযরত উবাদা বিন আব্দুল্লাহ রাদিআল্লাহু তাআ-লা আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ، كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
গোনাহ থেকে তওবাকারী এমন, যেন সে গোনাহ করেইনি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫০]
হযরত আয়িশা রাদিআল্লাহু তাআ-লা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
فَإِنَّ العَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ ثُمَّ تَابَ، تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ
বান্দা গোনাহ স্বীকার করে মাফ চাইলে আল্লাহ পাক তা কবুল করেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪১৪১]
عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةٍ
হযরত আবু বকর রাদিআল্লাহু তাআ-লা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে সে দৈনিক সত্তর বার গোনাহ করলেও সে যেন আসলে গোনাহই করেনি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫১৪]
তাই আসুন, হতাশা নয়, আশার হাত বাড়িয়ে দিন দয়াময়ের রহমতের অশেষ দরিয়ায়। রমজানের এই পবিত্র মাসে, রহমত-মাগফিরাত-নাজাতের মাসে তাঁর সীমাহীন রহম, করম, ফযল লাভ করে ভাগ্য সুপ্রসন্ন করার তাওফিক তিনি দান করুন আমাদের সকলকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
