somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাখির ছানা-গল্প

১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারাটা দিন খেলে বেড়াবে ছেলেটা, পড়াশুনার প্রতি একটুও মনযোগ নেই। স্কুল ছুটি হলেই বাড়িতে এসে পুকুরে ঝাপ দিয়ে ছেলেদের সাথে সাতার কাটতে শুরু করবে। খাওয়া দাওয়ার কথা ভূলে গিয়ে ডুবাতে থাকবে পানিতে। উঠবে চোখ লাল করে।
বাবা মা আরো বিরক্ত হল যখন দেখল কোথা থেকে একটা শালিক পাখির ছানাকে ধরে এনেছে খোকা। সারা দিন সেই পাখির ছানাটা নিয়ে মেতে থাকতে শুরু করেছে। ছেলেদের দল ছোট্ট বারান্দায় আড্ডা পেতে বসেছে। আস্তো একটা বাশ কেটে এনেছে পাখির খাচা বানাবে বলে। খোকার মা রেগে গিয়ে বলে, ওরে খোকা তোর পাখি কি উড়বার পারে যে আস্ত একটা বাশ কাইটা হালাইছ খাঁচা বানাইবার লাইগা? সেদিকে খেয়াল নাই খোকার। দুপুরের ভীতর বাশ দিয়ে বড় একটা খাচা বানিয়ে ফেলল। অদক্ষ্য হাতে যেমন কাজ, খাচাটা দেখতে একদম বাজে আর নড়বড়ে, একটা পাতিহাঁস রাখলে ভেংগে বেরিয়ে আসবে, একটা বিড়াল ছানা রাখলেও খাচার বড় ফাক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে, তেমন হয়েছে। সুতারাং খাচাটা আরো উন্নত করে তৈরী করা প্রয়োজন। ছেলেদের দল কাজে লেগে গেল। জোড়া তালি দিয়ে কিছুটা উন্নত করে পাখির বাচ্চাটাকে ভিতরে আটকে রাখল। নারেকেলের আচা দিয়ে তৈরী করল খাবার রাখার বাটি। সেই বাটিটায় একবার খাবার এসে জমা হয় পরেরবার পানি। পাখির বাচ্চাটা তা ছুয়েও দেখেনা। অবশেষে পাখিরা যা খায়, ঘাস ফড়িং, পোকামাকড়, খুজতে শুরু করে দিল খোকা। কয়েকটা নাম না জানা পোকা ধরে এনে ঠেসে ঠুসে খাওয়াল পাখিটাকে। খোকার বাবা বলে, কি হল খোকা, স্কুলে যাইবি না, দেরি হইয়া যাইবেতো। খোকা চেঁচিয়ে বলে, এখনই যামু বাবা। দেরি করমু না। খোকা পাখির বাচ্চাটাকে পানি খাওয়ায়। খোকার মা বলে, কি হলোরে তোর। খোকা বলে, যাচ্ছি বই কয়ডা দাও। খোকা স্কুলে চলে যায়। অপেক্ষা করতে থাকে কখন স্কুল ছুটি হবে। মাষ্টার বাবু খেয়াল করল খোকা বাইরে তাকিয়ে আছে। বাইরে তাকাল মাষ্টার বাবু, কোন স্কুল পালাতক বাদর দেখা যায় কিনা, দেখা গেলনা। খোকার কাছে এসে সপাং শব্দে খোকার পিঠের উপর বেত্রাঘাত করল। চমকে উঠল খোকা। মাষ্টার বাবু বলল, কিরে বাদর পড়াশুনায় মনযোগ নাই যে, বাইরে তাকিয়ে কি দেখতাছো? খোকা কোন কথা বলেনা। স্কুল ছুটি হলে ঘাসফড়িঙ ধরতে স্কুল মাঠে চলে যায় খোকা। কিন্তু ঘাসফড়িঙ ধরতে আলাদা দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এমনভাবে ঘাসফড়িঙ এর কাছে এগিয়ে যেতে হবে যাতে মাটিতেও টের না পায়। সারা মাঠে তন্যতন্য করে একটা ঘাস ফড়িং দেখতে পেল খোকা। এখন ধরতে পারলেই হয়। খোকা ঘাসফড়িঙটার দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে লাগল। কাছাকাছি আসতেই ঘাসফড়িঙটা উড়ে গেল। হঠাৎ মাষ্টার বাবু দেখে ফেলেছে খোকাকে। "এই বাদর স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছে, এখনও ওখানে কি করছিস?" মাষ্টার বাবু বলে। খোকা মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে, কিছুই না স্যার। মাষ্টার বাবু বলে, তারাতারি বাড়ি যা। ঠিক মত পড়া করে আসিশ কাল। তানা হলে কিন্তু পিঠের ছাল থাকবে না। খোকা বলে, জ্বী আচ্ছা। মাষ্টার বাবু বলে, জ্বি আচ্ছা মানে? খোকা বলে, স্যার এখনই বাড়ি যাচ্ছি। খোকা বাড়ির দিকে হাটতে শুরু করল। রাস্তার পাশে একটা মরা গাছ দেখতে পেয়ে খোকার বুঝতে অসুবিধা হল না যে এই কাঠের মধ্যে পোকা আছে। কাঠটা একদম পচে গেছে। যত পচা তত বেশি পোকা থাকবে কাঠের মধ্যে। কাঠটা মাটিতে আছার মেরে ভেংগে ফেলল খোকা। সাথে সাথে কয়েকটা কেঠ পোকা বেরিয়ে এলো কাঠের ভীতর দিয়ে। পোকাগুলো একটা কাগজে পেঁচিয়ে নিল খোকা। "এই খোকা ওখানে কি করছিসরে?" খোকা পিছনে তাকিয়ে দেখল পাড়ার রাজু ভাই দাড়িয়ে আছে। খোকা বলল, কিছু করছিনা। রাজু বলল, তোর হাতে কিরে? খোকা বলল, কিছুনা, একটা কাগজ। রাজু বলল, দেখি কাগজটা। খোকা প্রথমে কাগজটা দেখাতে চাচ্ছিলনা। রাজু জোর করে কেড়ে নিল। খুলে দেখল কয়েটা পোকা পেচান কাগজ দিয়ে। রাজু পোকাগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল, কি আজে বাজে জিনিস নিয়ে ঘুরিস, ঘেন্না করেনা? রাজু চলে গেলে পোকাগুলো কুড়িয়ে কাগজে পেচিয়ে নিয়ে বাড়ি আসল খোকা। খাওয়াতে লাগল পাখির বাচ্চাটাকে। খোকার মা চেঁচিয়ে বলে, কি হল রে খোকা নাওয়া খাওয়ার কথা ভূলে গেলি নাকি? খোকা বলে, আইতাইছি মা। খোকার মা বলে, বলিকি এহন রাইখা দে। পরে খাওয়াস। খোকা ভাত খেতে বসে। খোকার মা বলে, কি হইলরে খোকা গোছল না করিশ পুকুর থাইকা হাততো ধুইয়া আইবি। আজে বাজে জিনিস ধরছ হাত দিয়া। খোকা পুকুর থেকে সাবাব দিয়ে হাত ধুয়ে এসে ভাত খেতে বসে। খোকার মা বলে, বলিকি খোকা বাচ্চাটা ওর বাসায় ফেরত দিয়া আয়। অভিষাপ দিব তা না অইলে। খোকা বলে, পাখিটা আমি পালুম, কথা শিখামু। খোকার মা বলে, আরে বোকা শালিক পাখিতে কতা কইবার পারেনা।
খোকা বলে, পারে, আমি দেখছি। নান্টু ভাইয়ের শালিকটাও কতা কইত। খাওয়া শেষ করে পাখির বাচ্চাকে কথা শেখানর কাজে লেগে যায় খোকা। ওর সাথে যোগ দেয় আরো চারপাশটা ছেলে। খোকা বলে, বল খোকা.. খোকা...খোকা....খোকা। এইভাবে শিখাইলে শিখা যাইব। অন্য ছেলেরাও ভাষা শেখানর কাজে লেগে যায়। যে যার নাম উচ্চ শব্দে বলতে থাকে। খোকা ধমক দিয়ে বলে, তোদের নাম কছ ক্যান, আমার নাম ক। বারান্দায় "খোকা খোকা" উচ্চ শব্দে বাজতে থাকে।
খোকার বাবা আসে বিরক্ত হয়ে বলে, কি ব্যাপার তোরা বারান্দায় বসে চেচাচ্ছিস ক্যান? সবাই থেমে যায়। খোকা পাখিটা বাইরে নিয়ে আসে। একদল পিচ্চি এসে জড় হয় পাখির ছানাটা দেখার জন্য। হা করে দেখতে থাকে পাখির ছানাটা। বড়রা কেউ বিরক্তি নাক ছেটায় আবার কেউ হাসাহাসি করে। খোকার তাতে কিছু যায় আসেনা।
রাতে ঘুমানোর সময় কয়েক পাল্লা ওঠে পাখির ছানাটা দেখার জন্য। পানি এনে খাওয়ায় ছানাটাকে। খোকার মা চেঁচিয়ে বলে, খোকা এখন ঘুম পর। রাত্রেও সুস্থে থাকবার পারিশ না।

২.
খোকা পাখিটাকে পোকা মাকড় ধরে এনে খাওয়াচ্ছে, পান্তা ভাত আর পানি খাওয়াচ্ছে। পাখিটা খেতে চায়না, বারবার ফেলে দেয়। খোকা বলে, বল খোকা...খোকা...খোকা...খোকা। বল ভাত খাব। খোকার মা বলে, স্কুলে যাওয়ার সময় হইছে। এহন স্কুলে যা, আইসা খাওয়াইশ। খোকা স্কুলে চলে যায়। স্কুল ছুটি হলে বিলে চলে যায় ঘাস ফড়িং ধরতে। সেখানে অনেক ঘাসফড়িঙ দেখা যায়। খোকা পাঁচ ছটা ঘাস ফড়িং মেরে কাগজে পেচিয়ে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। পথে আবার রাজুর সাথে দেখা হল। রাজু বলল, কিরে খোকা তোর হাতে কি দেখি। আবার পোকা নিয়েছিস নাকি? খোকা দেখাতে চায়না, বলে, রাজু ভাই ফেলে দিয়েন না। রাজু খোকার হাত দিয়ে কেড়ে নেয় ঘাস ফড়িং পেচান কাগজটা। রাজু বলে, ঘাস ফড়িং মেরেছিস কেন? খোকা বলে, আমার পাখির বাচ্চাটাকে খাওয়াব। রাজু হেসে বলে, তোর আবার পাখির বাচ্চাও আছে নাকি? খোকা মাথা নেড়ে জবাব দেয়। রাজু বলে, শোন পাখিতে ঘাস ফড়িং খায়না, খায় মাছ ভাত, মাছ ভাত খাওয়াবি বুজেছিস? বলেই রাজু ঘাসফড়িঙ গুলো ছুড়ে মেরে একটা নালায় ফেলে দিল। খোকা মনে মনে রাজুকে একরাশ অভিষাপ দিয়ে আবার বিলে ঘাসফড়িঙ মারতে গেল। তিন চারটা মারার পর ঘাস ফড়িংগুলো নিয়ে বাড়ি আসল ।
খোকা চেচিয়ে চেচিয়ে বলল, মা আমার পাখি কই?
খোকার মা বলল, বিড়ালে নিয়া গেছেরে খোকা। খোকা এবার নেমে গেল বিড়াল জব্দ করতে।
(বিঃদ্রঃছোট বেলার কাহিনীগুলো খুব মনে পরে)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×