somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মস্তিস্ক বিজ্ঞানঃ মানব মস্তিস্কের স্মৃতি বিজ্ঞান।

১০ ই মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে উল্লেখিত, মানব মস্তিস্কের স্মৃতি ধারন ক্ষমতা সর্বোচ্চ 10MB, এই কথাটা প্রমানিত নয়। মানুষের স্মৃতি ধারন করার ক্ষমতা কতটা হতে পারে, তা তুলনা করার জন্যই 10MB অংকটা ব্যাবহার করা হয়েছে। সম্ভবত মানব মস্তিস্কের স্মৃতি ধারন ক্ষমতা (মস্তিস্কের 'স্মৃতি সংরক্ষন নিতী' অনুযায়ী)এর থেকেও অনেক কম হবে। কিন্তু এত কম কেন? আপাদত এটুকু বলি, মানব মস্তিস্কের স্মৃতি ধারন ক্ষমতা কম্পিউটারের ন্যায় বেশি হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারন, মস্তিস্ক খুব সামান্য পরিমান স্মৃতি সংরক্ষন করে হাজার প্রকার কাজ সম্পন্ন করতে পারে। মানুষের পরে যে সকল প্রানীকে বেশি বুদ্ধিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাদের মস্তিস্কের স্মৃতি ধারন ক্ষমতা মানুষের অর্ধেক হতে পারে। আর কোন প্রানীর স্মৃতি ধারন ক্ষমতা শুন্য (০) নয়। #এমনকি যাদের মগজ নেই (স্টার ফিস) তাদেরও।
আগে একটি পোস্টে বলেছিলাম, স্মৃতি দুই প্রকার। ১.মূখ্য স্মৃতি ও ২.গৌন স্মৃতি।
মূখ্য স্মৃতি হল সেই গুলো যা মস্তিস্কের মধ্যেই কল্পনা হিসেবে প্রকাশ পায়; কিন্তু বাহ্যিকভাবে এর কোন বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা সম্ভব নয়। যেমন শব্দ আর আলো আমরা সরাসরি কল্পনা করতে পারি, তাই এগুলো থেকে প্রাপ্ত স্মৃতি মূখ্য স্মৃতি।
আর গৌন স্মৃতি সেইগুলো যা আমরা কল্পনা করতে পারিনা, কিন্তু বিভিন্ন প্রভাবকের উপস্থিতিতে আমাদের অঙ্গভঙ্গি নিয়ন্ত্রন করতে পারি। গৌন স্মৃতির বৈশিষ্ট্য হল, মস্তিস্কে গৌন স্মৃতি কল্পনা তৈরি করতে পারেনা। যেমন, শরীরের কোন অংশে ব্যাথা লাগলে, মস্তিস্ক ইচ্ছা করলেই অনুরুপ ব্যাথা তৈরী করতে পারেনা।
গন্ধ, তাপ, ব্যাথা, ইত্যাদি হল গৌন স্মৃতি প্রভাবক। আর অঙ্গভঙ্গি হল গৌন স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ(প্রমান)।
দুই প্রকার স্মৃতির মধ্যে 'গৌন স্মৃতি ' কিছুটা জটিল। তাই এটা প্রথমে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম। পর্যায়ক্রমে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।
গৌন স্মৃতির প্রধান বহিঃপ্রকাশের উদাহরন হল, অঙ্গভঙ্গিমার সঠিক ব্যাবহার। একটা শিশুর বয়স যখন ২ বছর হয়, তখন তার গায়ে প্রয়োজনীয় পরিমান শক্তি থাকে। সে চাইলেই একটা জগে আধা জগ পরিমান পানি বহন করতে পারে, কিন্তু একটা গ্লাসে ঠিকমত এক গ্লাস পানি ঢালতে পারেনা। আর এটার একমাত্র কারন হল শিশুটির মধ্যে গৌন স্মৃতির যথেষ্ট অভার রয়েছে।
একটি গঠনশীল মস্তিস্ক (যে মস্তিস্ক এখনও পূর্নতা পায়নি) সর্বশেষ কাজগুলো গৌন স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষন করে, আর তুলনামূলক পেছনের গৌন স্মৃতিগুলো মুছে যায়। তবে সর্বশেষ গৌন স্মৃতি দুটি (★নিম্ন নিঁখুতমান(-) ও উচ্চনিঁখুত মান(+)) সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই স্মৃতি দুটোই একটি গঠনশীল মস্তিস্ক সবথেকে বেশি সংরক্ষন করে। এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে।
উদাহরন দিলে বুঝতে সুবিধা হবে।

ধরি এক ব্যাক্তি(যার গঠনশীল মস্তিস্ক) কোন কিছুকে সরানোর জন্য জীবনেও পায়ের ব্যাবহার করেনি। এখন তাকে একটা ফুটবল দেয়া হল। আর বলা হল, কিক মেরে বলটাকে ২০ মিটার দুরত্বে নিতে। একজন অভিজ্ঞ প্লেয়ার ২০ মিটারের কাছাকাছি রাখতে পারলেও, নতুন লোকটি, যে জীবনেও ফুটবল কিক করেনি, তার পক্ষে তা অসম্ভব। কারন তার মস্তিস্কে ফুটবল কিক করার সঠিক শক্তি পরিমাপ করার মত কোন গৌন স্মৃতি নেই।
ধরি লোকটা বলটায় কিক মারল। কিন্তু কিকের জোর খুব বেশি হল অথবা খুব কম হল। একারনে বলটা হয়ত ২০ মিটারের পরিবর্তে ৪০ মিটার অতিক্রম করল অথবা ৫ মিটার। যে দ্রুরত্বই অতিক্রম করুক, মস্তিস্ক সেটা ইতিমধ্যে গৌন স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষন করেছে। ধরি বলটা ৫ মিটার দ্রুরত্ব অতিক্রম করেছিল। তাই লোকটা এবার একটু জোরে কিক মারল যাতে ২০ মিটার পৌছাতে পারে বলটি। কিন্তু গেল ৪০ মিটার। ফলে মস্তিস্ক প্রয়োগকৃত শক্তির পরিমান ও তার ফলে বলটির অতিক্রান্ত দুরত্ব রেকর্ড করবে গৌন স্মৃতি হিসেবে। এবং পরবর্তিতে সে গৌন স্মৃতির রেকর্ড অনুযায়ী বলটাকে কিক করবে। এভাবে করতে থাকলে, আস্তে আস্তে বলটি ২০ মিটারে কাছে আনতে সক্ষম হবে। আর মস্তিস্ক সেই সব গৌন স্মৃতি সংরক্ষন করবে যেগুলো মস্তিস্কের সবথেকে বেশি কাজে লেগেছিল। আর সেগুলোই ভবিষ্যতে ব্যাবহার করবে। কিন্তু যে শক্তি প্রয়োগ করার ফলে বলটি ২০ মিটারের যায়গায় ৫ মিটার অতিক্রম করেছিল, সেই স্মৃতি মুছে ফেলবে। এভাবে সকল স্মৃতি মুছে ফেলবে, কিন্তু শেষের স্মৃতিগুলো মুছে না ফেলে সেগুলো কাজে লাগাবে। কিন্তু মস্তিস্ক জানেনা, তার প্রয়োগকৃত শক্তির পরিমান কত ছিল। যা শুধু অনুভব করা যায় একটি বল কিক মারার সময়। কিন্তু তার সামনে যদি একটা বল কিক করতে দেয়া হয়, অথবা অঙ্গভঙ্গিমার মাধ্যমে দেখাতে বলা হয়; শুধু তখনই প্রয়োগকৃত শক্তির পরিমান সম্পর্কে ধারনা দিতে পারবে। এটাই হল মস্তিস্কের গৌন স্মৃতির বৈশিষ্ট্য। ধরি, লোকটি বলে কিক করার বলটি ২০ মিটারের খুব কাছাকাছি পৌছে গেল। অর্থাৎ লোকটি ১৯ মিটারের মধ্যে নিয়ে আসল। পরেরবার একটু জোরে কিক মারায় তা চলে গেল ২১ মিটার দুরত্বে। ★এবার ১৯ ও ২১ মিটার হয় যদি বলটির সর্বশেষ দুরত্বের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দুরত্ব, তবে ২০ মিটারের জন্য প্রয়োগকৃত শক্তির পরিমান হবে গৌন স্মৃরির নিম্ননিখুঁত মান (বা ১৯-) আর সর্বোচ্চ পরিমান হবে উচ্চনিঁখুত মান(বা ২১+)।

উপরুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটা বোঝাতে চেয়েছি যে, মস্তিস্ক প্রাপ্ত সকল গৌন স্মৃতি আস্তে আস্তে মুছে ফেলে, পরিবর্তে শুধু মাত্র সর্বশেষ স্মৃতিগুলো সংরক্ষন করে। আর তার সাহায্যেই কাজ সম্পন্ন করে। কারন, মস্তিস্কের পুরনো গৌন স্মৃতিগুলো সংরক্ষনে রাখার কোন প্রয়োজন নেই। এই মুছে ফেলার প্রবনাতার একটা সুবিধা আছে। আর তা হল, গৌন স্মৃতি সংরক্ষনে মস্তিস্কের স্মৃতি কম খরচ করতে হয়।
যদি কোন সংকেত মস্তিস্কে তেমন প্রভাব না ফেলতে পারে, তবে মস্তিস্ক তা কখনই গৌন স্মৃতি হিসেবে গ্রহন করবে না। ফলে গৌন স্মৃতির চাহিদা মেটাবার জন্য মস্তিস্ক পুরানো গৌন স্মৃতি ব্যাবহার করবে। এই প্রবনতা দেখা যায় বয়স্কদের মধ্যে। একারনে বয়স্করা নতুন কোন কিছু সহজে শিখতে পারেনা।
গৌন স্মৃতির উদাহরনঃ আমরা ঘুমের মধ্যে যে সকল দৃশ্য দেখি, সেগুলো হল মূখ্য স্মৃতির প্রভাব। আর ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করা হল গৌন স্মৃতির প্রভাব।
একজন মানুষের ক্ষেত্রে গৌন স্মৃরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। যেমন সঠিক গৌন স্মৃতির প্রভাবে একজন মানুষ বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশ থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে। একজন মানুষ ভাল ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার হতে পারে। বিভিন্ন প্রভাবক, যেমন গন্ধ, তাপসহ বিভিন্ন অনুভুতির মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে।
আবার, মস্তিস্কে গৌন স্মৃতিসমূহ সঠিকভাবে সংরক্ষন না করলে, অর্থাৎ কোন মস্তিস্ক যদি কম গুরুত্বপূর্ণ গৌন স্মৃতি সংরক্ষন করে কিন্তু প্রয়োজনীয় গৌন স্মৃতি মস্তিস্ক সংরক্ষন করতে পারেনা; তবে মানুষের মধ্যে শারিরীক প্রতিবন্ধকতা সহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে।

এবার শুধু গৌন স্মৃতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম। পরবর্তিতে আলোচনা করব মূখ্য স্মৃতি নিয়ে। যদিও ব্যাপারগুলো সবার কাছে স্পস্ট হয়ে ওঠেনি। আশা করি, আস্তে আস্তে পরিস্কার হয়ে যাবে বিষয়গুলো।
আর তখন বেরিয়ে আসবে নতুন নতুন তত্ব...
; সবার উপযোগী করে উপস্থাপন করতে সময়তো কিছুটা লাগবেই....

#উল্লেখ্য, স্টার ফিস স্মৃতি হিসেবে শুধু 'গৌন স্মৃতি' সংরক্ষন করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×