somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এভাবেই চলছে নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানীX(

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিদেশ যেতে ঢাকায় এসে বাস পোড়ানোর অভিযোগে কারাগারে।





বিদেশে গিয়ে ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তরুণ মিজানুর রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ তাঁর ওমানে থাকার কথা। কিন্তু অবরোধের মধ্যে ঢাকায় এসে কেনাকাটা করতে গিয়ে এখন কারাগারে দিন কাটছে তাঁর।
মিজানের (২৪) বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়আনা মাঝপাড়া গ্রামে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিজানের স্মার্টকার্ডের নিবন্ধন নম্বর বিওএম ২০১৪০৩৪৯০৯৪ জি। স্মার্টকার্ড নম্বর ২০১৩০৩৬০৫৫৯। ১৭ জানুয়ারি দুপুরে রওনা দিয়ে ১৮ জানুয়ারি ওমানের স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় তাঁর ওমানের মাস্কাটে পৌঁছনোর কথা।
স্বজনেরা জানান, মিজানের পরিবার খুবই গরিব। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠাচ্ছিলেন বাবা শফিকুল ইসলাম। ১৩ জানুয়ারি মিজানের ওমান যাওয়ার টিকিট চূড়ান্ত হয়। ১৪ জানুয়ারি ঢাকার গুলিস্তানে যান শীতের কাপড় কিনতে। ওই দিন দুপুরে গুলিস্তানে দুর্বৃত্তরা একটি বাসে আগুন দেয় ও ককটেল হামলা চালায়। ওই সময় আশপাশের অন্যদের সঙ্গে মিজানও ভয়ে দৌড় দেন। তখন কয়েকজন লোক হামলাকারী সন্দেহে তাঁকে ধরে মারধর করে পুলিশে দেয়। পুলিশকে নিজের অবস্থান খুলে বললেন মিজান। তার পরও তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তুলে দেয় পুলিশ। আদালত তাঁকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
মিজানের চাচা সফুরউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিজানের বড় ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ১৭ বছর বয়সে মিজান মালদ্বীপ যায়। পাঁচ বছর সে দেশে থাকলেও খুব কম বেতনের কারণে টাকাপয়সা তেমন একটা আয় করতে পারেনি। দেশে ফিরে ওমান যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। ওমানে যাওয়ার জন্যই সে ঢাকায় এসেছিল।’
মিজানের গ্রামের ছেলে ঢাকার সংগীত কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র আবদুল্লাহেল রাফি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিজানকে পল্টন থানায় নেওয়ার পর তার এক চাচা আমাকে খবর দেন। আমি দ্রুত থানায় যাই। গিয়ে দেখি, মিজান বসে আছে। আমি তখন রমনা থানায় আমার পরিচিত এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে জানাই, ওমানে যাওয়ার জন্য মিজান ঢাকায় এসেছিল। তার এ-বিষয়ক কাগজপত্রও আছে। সব শুনে তিনি বললেন, ওসিকে বলে দিচ্ছেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি থানায় গিয়ে দেখি, ততক্ষণে মিজানকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
পল্টন থানার ওসি মোর্শেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণ জনগণ আমাদের কাছে তাকে তুলে দিয়েছিল।’ মিজান বাসে আগুন দিয়েছিলেন কি না, তা যাচাই-বাছাই করেছেন কি না—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘পাবলিকই বলেছিল সে আগুন ধরিয়েছে। অনেকে সাক্ষী দিয়েছেন।’ মিজান অপরাধ স্বীকার করেছেন কি না—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কেউ কী ভাই স্বীকার করে?’
মিজানের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে বগুড়ার শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়ারেছ আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেটির পরিবার একেবারেই গরিব। বিদেশে যাওয়ার জন্যই সে ঢাকায় গিয়েছিল বলে আমি জানতে পেরেছি।’ একই রকম তথ্য জানান শিবগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই ছেলেটির বাড়ি। আমাকে দাদা বলে ডাকে। ছেলেটির বাবা রাজমিস্ত্রির সহযোগী। এভাবে ছেলেটির জেলে যাওয়া দুঃখজনক।’
আদালত ও আইনজীবী সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। মিজানুর রহমান যদি আপিল করেন এবং নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তিনি ছাড়া পেয়ে যাবেন।
মিজানের বাবা শফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবা, আমরা খুব গরিব। ছেলেটা জেলে যাওয়ায় খুব বিপদে আছি। আমার নির্দোষ ছেলেটাকে একটু বাঁচান।’

http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/430081/বিদেশ-যেতে-ঢাকায়-এসে-বাস-পোড়ানোর-অভিযোগে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×